ক-খ-গ মন্ডলী তাদের উপাসনার সময়ের জন্য সুপরিচিত। তাদের সভা এই বিন্যাসটি অনুসরণ করে:
ক-খ-গমন্ডলীরসভারঅনুষ্ঠানসূচি
ভূমিকা এবং ঘোষণা
উপাসনার সময় (প্রশংসার গান)
৩০ মিনিট
দান/বিশেষ গান/প্রার্থনা
১৫ মিনিট
সারমন
৩০ মিনিট
উপাসনার সময় (প্রশংসার গান)
১৫ মিনিট
লোকেরা ক-খ-গ মন্ডলীর মিউজিক পছন্দ করে। আগত ব্যক্তিরা এই প্রবল সক্রিয় সভাটির প্রশংসা করে। তবে, পাস্টার রীতেন তার পরিচর্যা কাজের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলগুলি নিয়ে চিন্তিত। নতুন রূপান্তরিতরা দ্রুতই অন্যান্য মন্ডলীতে চলে যাচ্ছে। আরো খারাপ বিষয় হলো, দীর্ঘমেয়াদী অংশগ্রহণকারীদের উপর করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মন্ডলীটি “যিশু খ্রিষ্টের দৃঢ় শিষ্য তৈরি করছে না। সংখ্যার দিক থেকে – হ্যাঁ; শিষ্যের দিক থেকে – না।”[1]
রীতেন বিশ্বাস করেন যে সমস্যার একটা অংশ হলো মন্ডলী উপাসনা বলতে কি বোঝে। ক-খ-গ মন্ডলীতে, উপাসনা কেবল সঙ্গীতেরই সমতুল্য। পাস্টার রীতেন প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, “সত্য উপাসনা কি সঙ্গীতের চেয়ে বেশি কিছু অন্তর্ভুক্ত করে? আমরা কি ঈশ্বরের বাক্য এবং প্রার্থনাকে উপাসনা থেকে আলাদা করছি? এটি কি প্রচারের প্রভাবকে হ্রাস করছে?”
► পাস্টার রীতেনের উদ্বেগের উত্তর দিন। উপাসনা এবং প্রচারের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? ক-খ-গ মন্ডলী কীভাবে উপাসনাকারীদের মনে উপাসনা সভার সমস্ত অংশকে সংযুক্ত করতে পারে?
[1]আমেরিকার অন্যতম বড় একটি মন্ডলীর সমীক্ষা থেকে এটি নেওয়া হয়েছে। তারা দেখেছিল যে তাদের রূপান্তরিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই কখনও প্রকৃত শিষ্যত্বের পর্যায়ে পৌঁছায় নি।
উপাসনায় শাস্ত্রের গুরুত্ব
ইভাঞ্জেলিকাল, অর্থাৎ সুসমাচার প্রচারবাদী হিসেবে আমরা শেখাই যে আমাদের সমস্ত ধর্মতত্ত্ব এবং উপাসনা শাস্ত্র দ্বারা নির্দেশিত। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের উপাসনার কেন্দ্রস্থানে বাইবেলের থাকা উচিত। ঈশ্বর তাঁর বাক্য পাঠের মাধ্যমে তাঁর লোকেদের সাথে কথা বলেন। পুরাতন নিয়মের সময় থেকে শাস্ত্রই উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আসছে।
দুঃখের বিষয় হলো, যদিও আমরা বলি যে বাইবেল আমাদের উপাসনার মূলে রয়েছে, তবুও অনেক মন্ডলী তাদের উপাসনায় খুব কমই শাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করে। কিছু কিছু মন্ডলীর ক্ষেত্রে এটি সম্ভব যে আপনি তাদের উপাসনা সভায় উপস্থিত হলেন এবং শাস্ত্রের কয়েকটি পদ ছাড়া আর কিছুই আপনি শুনলেন না। এটি উপাসনার বাইবেলভিত্তিক মডেল থেকে অনেক দূরবর্তী।
বাইবেলভিত্তিক উপাসনায় ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল
► যাত্রা পুস্তক ২৪:১-১২ পদ পড়ুন।
যাত্রা পুস্তক ২৪:৭ পদে মোশি নিয়ম পুস্তক নিয়ে সকলের সামনে পাঠ করেছিলেন। লোকেরা ঈশ্বরের সমস্ত নির্দেশ অনুসরণ করার প্রতিজ্ঞা করেছিল: “সদাপ্রভু যা যা বলেছেন আমরা সেসবকিছু করব; আমরা বাধ্য হব।” এর পর, ঈশ্বর পাথরের ফলকে চুক্তির (দশ আজ্ঞা) সারসংক্ষেপ লিখেছিলেন। ইস্রায়েল ছিল সেই পুস্তকের একটি জাতি। লিখিত চুক্তি ছিল ইস্রায়েলের উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু।
ঈশ্বরের বাক্য সমাগম তাঁবু এবং মন্দিরের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বার্ষিক উৎসবগুলি ছিল ইহুদি বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। নিস্তারপর্ব, প্রথম ফলের উৎসব এবং সমাগম তাঁবুর উৎসবে ঈশ্বরের বাক্যের কিছু অংশ জনসমক্ষে পাঠ করা হত। প্রতি সাত বছর অন্তর, সমগ্র জাতি ব্যবস্থা পাঠ শোনার জন্য একত্রিত হত এবং চুক্তি পুনর্নবীকরণ করা হত।[1]
নতুন নিয়মে পৌল খ্রিষ্টবিশ্বাসীদেরকে জনসমক্ষে শাস্ত্র পাঠ করার আদেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল পুরাতন নিয়ম, পৌলের সমস্ত চিঠি এবং শাস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত অন্যান্য লেখা।[2] তিনি একজন তরুণ পরিচারককে শাস্ত্রপাঠ, উপদেশ এবং শিক্ষাদানে নিজেকে নিবেদিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (১ তিমথি ৪:১৩)। নতুন নিয়মের উপাসনায় ঈশ্বরের বাক্য ছিল কেন্দ্রবিন্দু।
বাইবেলভিত্তিক উপাসনায় ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল
► নহিমিয় ৮:১-১৮ পদ পড়ুন।
নির্বাসন থেকে ফেরার পর, ইষ্রা লোকেদের সামনে বিধান পাঠ করেছিলেন। লোকেরা শোনার জন্য জড়ো হয়েছিল কারণ পুরুষ, স্ত্রী এবং যত লোক বুঝতে পারে তাদের কাছে ইষ্রা বিধান পাঠ করেছিলেন আর সমস্ত লোক মন দিয়ে বিধানপুস্তকের কথা শুনল (নহিমিয় ৮:৩)। প্রত্যুত্তরে, লোকেরা “আমেন” বলেছিল এবং উপাসনা করার সময়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। যখন ইষ্রা এবং তার সহকারীরা শাস্ত্র পাঠ করতেন, তারা সেই শাস্ত্র ব্যাখ্যা করতেন এবং শ্রোতাদের পাঠটি বুঝতে সাহায্য করতেন। এটি প্রচার, ব্যাখ্যা এবং মানুষের প্রয়োজনে ঈশ্বরের বাক্য প্রয়োগের একটি বাইবেলভিত্তিক উদাহরণ। প্রকৃত বাইবেলের প্রচার বাক্যের প্রতি সাড়া দিয়ে উপাসনাকে অনুপ্রাণিত করে।
যিশু সাব্বাথের দিনে অর্থাৎ বিশ্রামবারে তাঁর রীতি অনুযায়ী সমাজভবনে এসেছিলেন এবং যিশাইয় পুস্তক থেকে পাঠ করেছিলেন। যখন তিনি পাঠ শেষ করেছিলেন, যিশু একটি সারমন প্রচার করেছিলেন যেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন যে তিনি যিশাইয় ভাববাদীর প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করতে এসেছেন (লূক ৪:১৬-২৯)।
[3]পঞ্চাশত্তমীর দিনে পিতর তার প্রচারে দেখিয়েছিলেন যে পুরাতন নিয়েমের সমস্ত প্রতিজ্ঞা যিশুর পরিচর্যা কাজ এবং পবিত্র আত্মার আগমনে পরিপূর্ণ হয়েছে। অনুতপ্ত হয়ে বাপ্তিস্ম নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি শাস্ত্রের ব্যাখ্যাটি শেষ করেছিলেন (প্রেরিত ২:১৪-৪১)। বাইবেলভিত্তিক প্রচার শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রত্যুত্তরের আহ্বান জানিয়েছিল। প্রচার মনের সাথে কথা বলে, তবে এটিকে হৃদয়ের সাথেও কথা বলতে হবে। প্রচারকে ইচ্ছাশক্তি থেকে সাড়া চাইতে হবে। যখন যিশু ইম্মায়ুতে যাওয়ার পথে শাস্ত্র উল্লেখ করেছিলেন, তখন শ্রোতাদের ভেতরে তাদের হৃদয় উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল (লূক ২৪:৩২)।
প্রারম্ভিক মন্ডলীর প্রসারে প্রচার গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রেরিত পুস্তক, ঈশ্বরের বাক্য ২০ বারেরও বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেরিতরা প্রভুর বাক্য প্রচার করেছিলেন; তারা সাহসের সাথে ঈশ্বরের বাক্য বলেছিলেন; তারা ঈশ্বরের বাক্য শিক্ষা দিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেক লোক ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করেছিল; ঈশ্বরের বাক্য বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল; ঈশ্বরের বাক্য প্রভাবশালী হয়েছিল; এবং পরজাতিরা প্রভুর বাক্যকে মহিমান্বিত করেছিল। ঈশ্বরের বাক্য ছিল প্রেরিতদের সমস্ত বার্তার ভিত্তি।
যদিও প্রচারই একমাত্র মাধ্যম নয় যার মাধ্যমে শাস্ত্র কথা বলে, এটি ঈশ্বরের লোকেদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক মাধ্যম। এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একজন পাস্টারের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে ঈশ্বরের বাক্যকে অবশ্যই কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে। বাইবেলভিত্তিক প্রচার ঈশ্বরের বাক্য দিয়ে শুরু করতে হবে, সেখানে ঈশ্বরের বাক্য ব্যাখ্যা করতে হবে এবং ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানাতে হবে।
মন্ডলীর ইতিহাসে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল
মন্ডলীর প্রথম শতকে প্রচার ছিল উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু। দ্বিতীয় শতকে, শহীদ জাস্টিন লিখেছিলেন যে খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা রবিবারে প্রেরিতদের চিঠি এবং ভাববাদীদের পুস্তক পাঠ করার জন্য এবং সেগুলির ব্যাখ্যা শোনার জন্য একত্রিত হত। তৃতীয় শতকে বাইবেলের প্রতিটি প্রধান অংশের বিভিন্ন অংশ উপাসনার সময়ে পাঠ করা হত।
মধ্যযুগে ক্যাথলিক মন্ডলী প্রচারের ভূমিকাকে ন্যূনতম করে দিয়েছিল, কিন্তু ধর্মসংস্কারকরা প্রচারকে উপাসনার একটি কেন্দ্রীয় স্থানে ফিরিয়ে আনেন। সংস্কারকৃত প্রচারের লক্ষ্য বিনোদন, প্রচারকের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সমাজের সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণ করা ছিল না। প্রচারের লক্ষ্য ছিল যত্ন সহকারে ঈশ্বরের বাক্য ব্যাখ্যা করা; শাস্ত্রের ব্যাখ্যা এমনভাবে করা যা শ্রোতাদের প্রভাবিত করে এবং জীবন পরিবর্তনকারী প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানায়।
[1]Timothy J. Ralston, “Scripture in Worship” in Authentic Worship. Edited by Herbert Bateman. (Grand Rapids: Kregel, 2002), 201
[2]১ তিমথি ৪:১৩, ১ থিষলনীকীয় ৫:২৭, কলসীয় ৪:১৬, ২ পিতর ৩:১৬
“প্রকৃত বাইবেল ব্যাখ্যার আশীর্বাদ হলো প্রজ্জ্বলিত হৃদয়, তা স্ফীত মস্তক নয়।”
- ওয়ারেন উইয়ার্সবি
(Warren Wiersbe)
শাস্ত্রকে উপাসনায় কেন্দ্রবিন্দু করে তোলা
যদি ঈশ্বরের বাক্য আমাদের উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত হয়, তাহলে আমরা কীভাবে এই নীতিটি অনুশীলন করতে পারি? আমাদের উপাসনায় শাস্ত্রকে কেন্দ্রবিন্দু করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক পদক্ষেপগুলি নিম্নলিখিত:
উপাসনার সমস্ত অংশে শাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত
উপাসনায় আমাদের শাস্ত্র শোনার জন্য সারমন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। ঈশ্বরের বাক্য দিয়ে শুরু করা ছাড়া উপাসনা শুরু করার আর ভালো কোনো উপায় নেই।
উপাসনা সভার দু’টি শুরুকে বিবেচনা করুন। কোনটি ঈশ্বরের উপস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকারী আমন্ত্রণ?
১। “আজকে মন্ডলীতে আসার জন্য ধন্যবাদ। অনেকেরই বৃষ্টিতে এতদূর আসতে বেশ সমস্যা হয়েছে, কিন্তু আমি আনন্দিত যে আপনারা এসেছেন। চলুন, আমরা ঈশ্বরের প্রতি আমাদের মনোযোগ স্থির করি এবং উপাসনা করি। আসুন, আমরা দাঁড়াই এবং গান করি, ‘পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র?”
২। “‘আমি আনন্দিত হলাম, যখন লোকে আমাকে বলল, চলো, আমরা সদাপ্রভুর গৃহে যাই।’ ঈশ্বরের গৃহে সকলকে স্বাগত! মন্দিরে যিশাইয় দেখেছিলেন যে সদাপ্রভু উন্নত এবং সর্বোচ্চ স্থানে বিরাজমান। তিনি স্বর্গদূতেদের গাইতে শুনেছিলেন ‘‘পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, সমস্ত পৃথিবী তাঁর মহিমায় পরিপূর্ণ।’ আসুন, আমরা একসাথে গান করি ‘পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র।’”
প্রথম লিডার আমাদেরকে মন্ডলীতে আসার সমস্যার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল; দ্বিতীয় লিডার আমাদেরকে উপাসনার আনন্দের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। প্রথম লিডার সাধারণ কিছু কথা দিয়ে শুরু করেছিল; দ্বিতীয় লিডার ঈশ্বরের বাক্য দিয়ে শুরু করেছে। প্রথম লিডার একটি সাধারণ প্রচলিত স্তোত্র ঘোষণা করেছিল। দ্বিতীয় লিডার আমাদেরকে মনে করিয়েচ দিয়েছে যে স্বর্গদূতেরা ঈশ্বরকে প্রশংসা করার সময়ে এই স্তোত্রটি গায়। কোন মন্ডলী অধিক উৎসাহের সাথে গানটি গাইবে?
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গিহানার পর, লোকেরা তাদের নিজস্ব মন্ডলীতে রবিবারের সকালে আগের মতোই একত্রিত হতো। এই দু’টি মন্ডলী থেকে উপাসনা সভার শুরুটি তুলনা করুন:
১। “আজকে আমাদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের দেশের জন্য এই সপ্তাহটা খুবই মর্মান্তিক। আমাদের মধ্যে অনেকেই শোকতপ্ত। এই দুঃসময়েও উপাসনা করতে আসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা ‘সুদূরে পাহাড়ে, প্রিয় ক্রুশ বিরাজে’ গানটি দিয়ে শুরু করব।”
২। “ঈশ্বর আমাদের আশ্রয় ও বল, সংকটকালে সদা উপস্থিত সহায়। এই কঠিন সময়তেও আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে তিনিই আমাদের আশা; তিনি আমাদের আশ্রয়। আসুন আমরা একসাথে উপাসনা করি, কারণ আমরা জানি যে “আমাদের ঈশ্বর এক পরাক্রান্ত দুর্গ, অটল প্রাচীর, কখনও হন না ভঙ্গ” (‘Mighty Fortress Is Our God, a bulwark never failing’)”
প্রথম লিডার লোকেদেরকে তাদের শোক মনে করিয়ে দিয়েছিল; দ্বিতীয় লিডার তাদেরকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে ঈশ্বর হলেন তাদের আশা। শাস্ত্র এবং সেই শাস্ত্রভিত্তিক একটি গান এমন একটি সপ্তাহে এক দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছিল যখন লোকেদের আত্মবিশ্বাস পরীক্ষিত হয়েছিল।
উপাসনা সভার বিভিন্ন অংশে শাস্ত্র করা যেতে পারে:
সভা শুরু করার কথা হিসেবে
নৈবেদ্য দান করার আমন্ত্রণ হিসেবে
গানের কথা হিসেবে
প্রার্থনা হিসেবে
আমাদের উপাসনাকে ঈশ্বরের বাক্যে সিক্ত হতে হবে। উপাসনা হলো ঈশ্বরের নিজেকে তাঁর বাক্যে যেভাবে প্রকাশ করেছেন তার প্রতি একটি প্রত্যুত্তর। উপাসনা সভার সমস্ত বিভাগে শাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
উপাসনায় শাস্ত্রপাঠের একটি কেন্দ্রীয় অবস্থান থাকা উচিত
আপনি কখনো একজন পাস্টারকে বলতে শুনেছেন, “আজকে আমাদের সময় খুবই কম এবং আমার সারমনটি বেশ বড়ো, তাই আমি শাস্ত্রপাঠ এড়িয়ে যাব?” কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ঈশ্বরের বাক্য, নাকি আমাদের কথা? আমাদের অবশ্যই উপাসনায় শাস্ত্রকে সময় দিতে হবে।
যেহেতু শাস্ত্রপাঠ উপাসনা, তাই আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে যে আমরা কীভাবে এটি পাঠ করছি। এটিকে স্পষ্টভাবে এবং নির্দিষ্টভাবে পাঠ করতে হবে। যে ব্যক্তি এটি পড়বে (পাস্টার বা অন্য কোনো সদস্য), তাকে এটি সভা শুরু হওয়ার আগে অনুশীলন করে নিতে হবে। মন্ডলীর প্রথম তিন শতকে, শাস্ত্র পাঠকের পদ ছিল একটি পবিত্র ভরসার বিষয়। পাঠকদেরকে তাদের নির্ধারিত বইগুলি বাড়িতে রাখতে হতো এবং পড়া অনুশীলন করতে হতো। যখন তারা উপাসনা সভায় পাঠ করত, তারা স্পষ্টভাবে এবং অভিব্যক্তি সহকারে পাঠ করার জন্য প্রস্তুত থাকত।[1]
মনে রাখবেন, এটি হলো ঈশ্বরের বাক্যে যা ঈশ্বরের গৃহে ঈশ্বরের লোকেদের সামনে উপাসনার একটি অংশ হিসেবে পাঠ করা হচ্ছে। যদি উপাসনার গানের জন্য অনুশীলন প্রয়োজন হয়, তাহলে ঈশ্বরের বাক্যে পাঠের জন্যও অনুশীলন প্রয়োজন। এটি আমাদের নিজেদের দক্ষতার উপর গর্ব করার বিষয় নয়; এটি হলো নিশ্চিত করার একটি বিষয় যে ঈশ্বরের বাক্য শ্রোতাদের কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি ঈশ্বরের বাক্য; এটি গুরুত্বপূর্ণ!
আমাদের পাঠকে অর্থবহ করে তোলা উচিত। বিভিন্নভাবে পড়ার ধরণ শাস্ত্রকে শ্রোতাদের কাছে মনোগ্রাহী করে তুলবে।
(১) কিছু কিছু সময়ে লিডারের শাস্ত্র পাঠ করা উচিত যাতে লোকেরা ঈশ্বরকে কথা বলতে শোনে। এই ধরণের পাঠ পুরাতন নিয়মের প্রথম পাঁচটি বইগুলির বেশিরভাগের জন্য এবং বেশিরভাগ ভাববাদী পুস্তকের জন্য উপযুক্ত।
(২) কিছু কিছু সময়ে লিডার এবং মন্ডলীর লোকেরা পরিবর্ত পদ্ধতিতে পাঠ করতে পারে। বহু গীতই এই ধরণের উত্তর-প্রত্যুত্তরমূলক পাঠের জন্য উপযুক্ত।
► গীত ১৩৬ অধ্যায়টি পড়ুন। ক্লাস লিডার প্রতিটি পদ শুরু করবেন; ক্লাসের প্রত্যেকে প্রতিটি পদের দ্বিতীয় অংশটির মাধ্যমে প্রত্যুত্তর করবে, “তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।”
পর্বতের উপরে দেওয়া উপদেশগুলি উত্তর-প্রত্যুত্তরমূলক পাঠের জন্য উপযুক্ত (মথি ৫:১-১০):
লিডার : ধন্য তারা, যারা আত্মায় দীনহীন, কংগ্রিগেশন: কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই। লিডার : ধন্য তারা, যারা শোক করে, কংগ্রিগেশন : কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে।
(৩)কিছু কিছু শাস্ত্রপদ মন্ডলী একসাথে পাঠ করতে পারে। সমবেত গানের মতোই একই দেহ হিসেবে শাস্ত্রপাঠ মন্ডলীর একতাকে প্রকাশ করে। সমগ্র মন্ডলী ঈশ্বরের বাক্য পড়ায় অংশগ্রহণ করে। গীত ১২৪ অধ্যায়ের মতো প্রার্থনাগুলি সম্মিলিত পাঠের জন্য উপযুক্ত।
নহিমিয় পুস্তকে লেখা ইষ্রা’র বিধান-পাঠের বিবরণ আমাদের উপাসনার কেন্দ্রবিন্দুতে এটি শাস্ত্র থাকার প্রভাব দেখায়।
► যদি আপনি এই ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে চান তাহলে নহিমিয় ৮ অধ্যায়টি আরেকবার পড়ুন।
পাঠের বিশদগুলি লক্ষ্য করুন।
ইষ্রা সকলের সামনে পুস্তকটি খুলেছিলেন। ঈশ্বরের বাক্যের সাথে একটি দৃশ্যমান সংযোগ ছিল।
তিনি সকলের চেয়ে উঁচু স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। পাঠককে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল এবং তার কথা শোনাও যাচ্ছিল।
যখন তিনি পাঠ করতে শুরু করেছিলেন, সকলে উঠে দাঁড়িয়েছিল। ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়াও ছিল।
যখন তিনি পাঠ করেছিলেন, লোকেরা তাদের দুই হাত উপরে তুলে বলেছিল, “আমেন! আমেন!” এবং তারা তাদের মাথা নত করেছিল, এবং মাটির দিকে মুখ করে সদাপ্রভুর উপাসনা করেছিল। তারা ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।
লেবীয়রা সুস্পষ্টভাবে ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করেছিল, এবং ব্যাখ্যা করেছিল, যাতে লোকেরা কী পড়া হচ্ছে তা বুঝতে পারে। তারা ঈশ্বরের বাক্য বোঝার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল। এটাই হলো আজকের দিনে প্রচার করার উদ্দেশ্য।
বিধানের কথাগুলি শুনে লোকেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। নহিমিয় তাদেরকে আনন্দ করতে বলেছিলেন, “কারণ সদাপ্রভুতে যে আনন্দ, তাই তোমাদের শক্তি।” ঈশ্বরের বাক্য একইসাথে অনুতাপ এবং আনন্দকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
এই বিশেষ ঘটনার প্রতিটি বিশদ আমাদের সভাগুলিতে পুনরাবৃত্ত না হলেও, এই ঘটনাটি শাস্ত্রের শক্তিকে দেখায়। আমাদের অবশ্যই আমাদের উপাসনায় শাস্ত্রকে কেন্দ্রীয় স্থানে রাখতে হবে।
মিলিয়ে দেখুন
আপনার মন্ডলী কি উপাসনায় বাইবেল পাঠের গুরুত্বকে উপলব্ধি করে? শাস্ত্র পাঠের সময় মন্ডলীর চারপাশে তাকালে আপনি যে আচরণ এবং প্রতিক্রিয়াগুলি দেখতে পান তার কিছু বর্ণনা করুন।
কোনো সাধারণ রবিবারে, আপনার মন্ডলীর লোকেরা কতগুলি বিবিধ শাস্ত্রীয় অংশ শোনে? উপাসনাকারীরা কি জানে যে কেন শাস্ত্রাংশগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
ঈশ্বরের বাক্য প্রচার আমাদের উপাসনার কেন্দ্রিবিন্দু হওয়া উচিত
ঠিক যেভাবে সঙ্গীতের ধরণগুলি প্রতি প্রজন্মে বদলাতে থাকে, তেমনই প্রচারের ধরণগুলিও প্রতিটি প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করার জন্য বদলায়। শাস্ত্র উপাসনার গানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট একধরণের সঙ্গীতকে বাইবেলভিত্তিক ধরণ বলে সংজ্ঞায়িত করে না; শাস্ত্র প্রচার করার ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট একধরণের প্রচার পদ্ধতিকে বাইবেলভিত্তিক ধরণ বলে সংজ্ঞায়িত করে না।
ধরণ বা শৈলী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এবং সংস্কৃতি থেকে সংস্কৃতিতে বদলাতে পারে; কিন্তু কখনোই বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।। শাস্ত্র সঙ্গীতের ধরণের সংজ্ঞা দেয় না, কিন্তু এটি বিষয়বস্তুকে সংজ্ঞায়িত করে। একইভাবে, প্রচারের ধরণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বদলে যেতে পারে, কিন্তু বিষয়বস্তু কখনোই বদলে যাওয়া উচিত নয়।
শাস্ত্রে থেকে সারমনগুলি দেখায় যে ঈশ্বরের বাক্যের ঘোষণাই হলো প্রচারকের মুখ্য দায়িত্ব যিনি কংগ্রিগেশনের সামনে দাঁড়ান। সমসাময়িক প্রচারেও ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি মনোযোগ একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে থাকা উচিত। পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং শেখার ধরণ প্রচারের ধরণকে প্রভাবিত করতে পারে; কিন্তু বিষয়বস্তুকে অবশ্যই শাস্ত্রভিত্তিক হতে হবে।
প্রচার করা যদি উপাসনা হয়, তাহলে আমাদের দায়িত্ব হলো সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া। আমাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের বেদিতে আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার আনতে হবে। দায়ূদ এমন কোনো জিনিস কখনোই দেননি যেটির কোনো মূল্য তার নিজের কাছে ছিল না। সভা শুরু করার আগে আমাদের সতর্কভাবে সারমন প্রস্তুত করা উচিত (২ শমূয়েল ২৪:২৪)।
প্রচারে কংগ্রিগেশনের দিক থেকে একটি প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
যদি প্রচার করা উপাসনা হয়, তাহলের এটিতে মন্ডলীর দিক থেকে একটি প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। উপাসনায় আমরা ঈশ্বরকে দেখি, আমরা নিজেদেরকে দেখি, এবং আমরা আমাদের জগতের প্রয়োজনীয়তাগুলি দেখি (যিশাইয় ৬:১-৮; পাঠ ১ দেখুন)। আমাদের সারমন যেন অবশ্যই শ্রোতাদের কাছে ঈশ্বরকে প্রকাশ করে, আমাদের সারমন যেন অবশ্যই এমন একজন শ্রোতাকে অনুতপ্ত করে যার সেটি হওয়া প্রয়োজন, এবং আমাদের সারমন যেন অবশ্যই এক হারিয়ে যাওয়া জগতের কাছে পৌঁছানোর জন্য মন্ডলীকে অনুপ্রাণিত করে। উপাসনা হিসেবে প্রচার পাপীদের কাছে অনুতাপ নিয়ে আসবে এবং সুসমাচার প্রচারের জন্য বিশ্বাসীদেরকে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রচারে প্রচারকের তরফ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
যদি প্রচার করা উপাসনা হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে যে প্রচার আমাদের তরফ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া দাবি করে। যদি আমরা বলিদানমূলক উপাসনার একটি কাজ হিসেবে প্রচারের জন্য প্রস্তুত হই, তাহলে আমরা ঈশ্বরকে দেখব; আমরা আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় অংশগুলিতে অনুতপ্ত হব; এবং আমরা আমাদের চারপাশের জগতের প্রয়োজনীয়তাগুলি দেখতে পাব। প্রতিক্রিয়ায়, আমরাও যিশাইয়’র মতো উচ্চরবে বলব, “এই যে আমি। আমাকে পাঠান!” প্রকৃত প্রচার প্রচারককেও বদলে দেবে। যতক্ষণ না ঈশ্বর আমাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন এবং আমরা তাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মন্ডলীর লোকেদের কাছে ঈশ্বরের বার্তা প্রকাশ করা উচিত নয়।
যিশু শাস্ত্রবিদদের (প্রচারক) তাদের খারাপ সারমনের জন্য তিরস্কার করেননি; তিনি তাদের তিরস্কার করেছিলেন কারণ তারা তাদের প্রচার করা জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তারা শাস্ত্র জানত এবং জানত যে কীভাবে শাস্ত্র ব্যাখ্যা করতে হয়, কিন্তু তারা নিজেরা শাস্ত্র দ্বারা পরিবর্তিত হয়নি। যিশু বলেছেন, “তারা যা প্রচার করে, তা নিজেরা অনুশীলন করে না” (মথি ২৩:৩)। যদি প্রচার করা উপাসনা হয়, তাহলে আমরা আমাদের প্রচার করা সত্য দ্বারা পরিবর্তিত হব। পরিবর্তে, এর ফলে, আমরা যাদের কাছে প্রচার করব, তাদের হৃদয় ও জীবন পরিবর্তন করার জন্য ঈশ্বর আমাদের মাধ্যমে কথা বলবেন।
প্রচারককে অবশ্যই পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিযুক্ত হতে হবে।
যদি প্রচার করা উপাসনা হয়, তাহলে প্রচারককে অবশ্যই পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিযুক্ত হতে হবে। ঠিক যেমন উপাসনার বাকি সমস্ত দিক প্রকৃত শক্তির জন্য পবিত্র আত্মার উপর নির্ভরশীল, তেমনই একজন প্রচারককেও ঈশ্বরের আত্মা দ্বারা অভিষিক্ত হতে হবে যদি তিনি কার্যকারী হতে চান।
► ২ করিন্থীয় ৩:৩-১৮ পদ পড়ুন।
আমরা সারমনে আমাদের প্রস্তুতির সর্বোত্তম নৈবেদ্যটি নিয়ে আসি; তবে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর, পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই প্রচারে শক্তি আসে। পবিত্র আত্মার শক্তি ছাড়া আমরা মানুষের মনকে স্পর্শ করতে পারি, আমরা মন্ডলীকে প্রভাবিত করতে পারি, আমাদের দুর্দান্ত বিষয়বস্তুও থাকতে পারে, কিন্তু আমরা জীবন পরিবর্তন করতে পারব না।
মিলিয়ে দেখুন
আপনার প্রচার কি বাইবেলভিত্তিক উপাসনার একটি কাজ? যদি কোনো ব্যক্তি নিয়মিতভাবে আপনার প্রচার শোনে, তাহলে সে কি সুষম বাইবেলভিত্তিক সত্য শুনবে?
[1]Keith Drury, The Wonder of Worship, (Fishers, IN: Wesleyan Publishing House, 2002), 35
“প্রচার, যদি উপাসনা না হয়, তাহলে তা অপবিত্র... একটি প্রকৃত সারমন হলো ঈশ্বরের একটি কাজ, এবং নিছক মানুষের দ্বারা সম্পাদিত নয়।”
- জে.আই. প্যাকার (J.I. Packer) থেকে গৃহিত
উপাসনার বিপদ: ঈশ্বরের বাক্য হারিয়ে ফেলা
নিজেদেরকে বিশ্বাসী বলে দাবি করা অনেকের দৈনন্দিন জীবন থেকেই বাইবেল তার জায়গা হারিয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো, এটি বহু মন্ডলীতেই সাপ্তাহিক উপাসনাতে এটির জায়গা হারিয়েছে। যেখানে প্রারম্ভিক মন্ডলী গীত গাইত, সেখানে আজকের কিছু মন্ডলী এমন গান গায় যেগুলিতে বাইবেলভিত্তিক বিষয়বস্তু খুবই কম থাকে বা থাকেই না। যেখানে প্রারম্ভিক মন্ডলী শাস্ত্র থেকে বড়ো বড়ো অংশ পাঠ করত, সেখানে আজকের কিছু মন্ডলী সারমনের সাথে যুক্ত কয়েকটি পদ পড়েই ছেড়ে দেয়। বহু সভাতেই, উপাসনা এমন একাধিক গান এবং একটি সারমন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে গেছে যা ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি অতি সামান্য মনোযোগ প্রদান করে।
সমসাময়িক উপাসনা আন্দোলনের কিছু লিডার জোর দিয়ে বলেন যে প্রকাশ্যে শাস্ত্রপাঠ করা এখন আর আধুনিক চাহিদা পূরণ করে না। সম্প্রতি একজন সুপরিচিত পাস্টার তার মন্ডলীর সহকর্মীদেরকে তার প্রচার মূল্যায়ন করতে বলেছিলেন। তারা তাকে বলেছিল যে তিনি খুব বেশি বাইবেল ব্যবহার করছেন! “বাইবেলের উপর ভিত্তি করে সারমন দেওয়া আপনার পক্ষে ভালো, তবে আপনার খুব দ্রুত প্রাসঙ্গিক কোনো বিষয়ে পৌঁছানো উচিত, নয়তো আমরা শোনা বন্ধ করে দেব।” এই মন্ডলীর কর্মীরা মনে করত না যে বাইবেল আজকের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক!
উপাসনার লিডার হিসেবে, আমাদেরকে অবশ্যই উপাসনায় শাস্ত্রের কেন্দ্রীয়তা বজায় রাখতে হবে। উপাসনায়, আমরা প্রার্থনা এবং প্রশংসার বিভিন্ন গানের মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে কথা বলি। উপাসনায়, আমরা ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করা এবং তা ঘোষণা করার মাধ্যমে ঈশ্বরকে আমাদের সাথে কথা বলতে শুনি। আমাদের উপাসনার ধরণ নির্বিশেষে, আমাদের কখনোই উপাসনা ঈশ্বরের বাক্যের কেন্দ্রীয়তা হারিয়ে ফেলা উচিত নয়।
► নহিমিয় ৮ অধ্যায় পর্যালোচনা করুন। প্রতিটি কথার একটি তালিকা করুন যা দেখায় যে লোকেরা বিধান পাঠকে গুরুত্ব দিয়েছিল। এটিকে আপনার বর্তমান উপাসনা সভায় শাস্ত্রপাঠের সাথে তুলনা করুন। একটি ব্যবহারিক পদক্ষেপ আলোচনা করুন যা আপনার উপাসনায় শাস্ত্রের প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে।
উপাসনায় প্রার্থনার গুরুত্ব
লিয়ানা[1] একজন সমর্পিত খ্রিষ্টবিশ্বাসী। এমনকি যখন সে স্কুলে পড়ত, সে প্রতিদিন সকালে ঈশ্বরের সাথে সময় কাটাত। ব্রেকফাস্টের আগে সে বাইবেল পাঠ এবং প্রার্থনায় সময় কাটাত।
কিন্তু এখন সে চার সন্তানের মা হওয়ার ফলে প্রার্থনা এবং বাইবেল পড়া তার জন্য প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে। একটি সন্তান একেবারেই শিশু এবং তার জন্য লিয়ানাকে রাতে জেগে থাকতে হয়। লিয়ানার প্রতিদিনই বাচ্চাদের আগে ঘুম থেকে উঠতে বেশ কষ্ট হয়। রাতে সে এতই ক্লান্ত থাকে যে প্রার্থনা এবং বাইবেল পাঠে মনোযোগ দিতেই পারে না।
রবিবার এলেই লিয়ানা খুশি হয়। প্রতি রবিবার সে সারা সপ্তাহের জন্য আত্মিক শক্তি অর্জন করে, কিন্তু দিন যত যেতে থাকে সে হতাশ হতে থাকে। সে অনুভব করে যে তার প্রার্থনার জীবন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
► লিয়ানাকে তার প্রার্থনার জীবনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিন।
এই পাঠটি আমরা উপাসনায় শাস্ত্রের অধ্যয়ন নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন আমরা উপাসনায় প্রার্থনার উপর অধ্যয়ন করার দিকে এগিয়ে যাব। শাস্ত্রে ঈশ্বর আমাদের সাথে কথা বলেন; প্রার্থনায় আমরা ঈশ্বরের প্রতি প্রত্যুত্তর জানাই। শাস্ত্র ও প্রার্থনার দ্বারা আমাদের উপাসনা পরিপূর্ণ হওয়া উচিত।
বাইবেলভিত্তিক উপাসনায় প্রকাশ্যে প্রার্থনা এবং ব্যক্তিগত প্রার্থনা
আমরা দেখেছি যে গীতসংহিতা পুস্তকটি ইহুদি উপাসনাকারীদের স্তোত্রের বই ছিল। এটি ইহুদি উপাসনাকারীদের প্রার্থনার বইও ছিল। গীতসংহিতা পুস্তকে জনসমক্ষে উপাসনার জন্য এবং ব্যক্তিগত উপাসনার জন্য প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমবেত এবং ব্যক্তিগত – উভয় ধরণের প্রার্থনাই ইহুদি উপাসনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বাড়িতে বিশ্বস্ত ইহুদিরা দিনে তিনবার প্রার্থনা করত (দানিয়েল ৬:১০)।[2] গীতসংহিতা অনেক গানগুলিই হলো ব্যক্তিগত প্রার্থনা। এগুলিতে প্রার্থনার ক্ষেত্রে আমরা-র তুলনায় আমি কথাটি বেশি দেখা যায়। ব্যক্তিগত প্রার্থনার জন্য কিছু গীতের উদাহরণ হলো:
গীত ১৮ – একটি ধন্যবাদের গান
গীত ৩২ – ক্ষমা পাওয়ার জন্য একটি আনন্দের প্রার্থনা[3]
গীত ৩৮ – একটি অনুতাপের প্রার্থনা
গীত ৪১ – ক্ষমার জন্য একটি প্রার্থনা
গীত ৫১ – একটি অনুতাপের প্রার্থনা
গীত ৮৮ – কষ্টভোগের সময়ে একটি বিলাপ
গীত ১১৬ – ঈশ্বরের যত্নশীলতার জন্য ধন্যবাদের একটি গান
মন্দিরে ইহুদি উপাসনাকারীরা সমবেত প্রার্থনায় যুক্ত হতো। মন্দির উৎসর্গের সময়ে শলোমন মানুষের উপর ঈশ্বরের অনুগ্রহের জন্য একটি দেশব্যাপী প্রার্থনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন (২ বংশাবলি ৬)। যিশাইয় যিহুদার লোকেদের কাছে ঈশ্বরের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, “আমার গৃহ আখ্যাত হবে সর্বজাতির প্রার্থনা-গৃহ বলে” (যিশাইয় ৫৬:৭)। নির্বাসনকালের পরে সমাজভবনের উপাসনা বিধান পাঠ এবং প্রার্থনা করার উপরে বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। সমাজভবনের সভাগুলি একাধিক প্রার্থনার একটি ক্রম দিয়ে শুরু হতো।
ইহুদিদের প্রার্থনা করার ধরণটি প্রারম্ভিক মন্ডলীতেও অনুসরণ করা হতো। প্রথম শতকের খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা বাড়িতে দিনে তিনবার প্রার্থনা করত। যখন খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা উপাসনার জন্য মিলিত হতো, তারা একটি দেহ হিসেবে একত্রে প্রার্থনা করত। প্রভুর প্রার্থনা প্রতিটি উপাসনা সভার একটি অংশ ছিল। অন্যান্য প্রার্থনাগুলি প্রতিটি উপাসনা সভা জুড়ে উপস্থাপন করা হতো।
বর্তমানকালে উপাসনায় প্রার্থনা
প্রার্থনা যদি বাইবেলে উল্লিখিত উপাসনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে আজকের দিনে আমাদের উপাসনাতেও প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। প্রকাশ্যে প্রার্থনা এবং ব্যক্তিগত প্রার্থনা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
[4]ব্যক্তিগত প্রার্থনা আমাদেরকে স্বয়ং দ্রাক্ষালতার সাথে সংযুক্ত করে এবং আমাদের আত্মিক জীবনের জন্য পুষ্টি প্রদান করে। ব্যক্তিগত প্রার্থনার অভাব বহু মন্ডলীতে আত্মিক শক্তির অভাবকে ব্যাখ্যা করতে পারে। যদি যিশুর তাঁর পার্থিব পরিচর্যা কাজে ব্যক্তিগত প্রার্থনার জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে আমাদেরকে আত্মিক পুষ্টিলাভ এবং পরিচর্যা কাজে শক্তিযুক্ত হওয়ার জন্য আরো কত বেশি মাত্রায় প্রার্থনার উপর নির্ভরশীল হতে হবে।
প্রকাশ্যে বা সমবেত প্রার্থনা উপাসনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিছু কিছু মন্ডলী প্রার্থনায় খুব কমই মনযোগ দেয়। একজন পাস্টার তার মন্ডলীতে সমবেত প্রার্থনার অভাবের সমর্থনে বলেছিলেন, “চোখ বন্ধ থাকলে আপনি মানুষকে আগ্রহী করে রাখতে পারবেন না।”[5] তিনি বিশ্বাস করতেন যে শ্রোতাদের সন্তুষ্ট করা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মিলিত প্রার্থনা এই ভুল ধারণাটিকে সংশোধন করে যে খ্রিষ্টবিশ্বাস কেবল আমি এবং আমার সাথে ঈশ্বরের সম্পর্কের বিষয়ভিত্তিক; আমরা একই দেহের অংশ। যখন আমরা প্রার্থনার অনুরোধগুলি শুনি এবং সম্মিলিত প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করি, আমরা একজন সহখ্রিষ্টবিশ্বাসীর অসুস্থতা, আবেগীয় দুঃখ, এবং জীবনের পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন হই। সম্মিলিত প্রার্থনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মন্ডলীর সদস্যরা হলো এক দেহ। সম্মিলিত প্রার্থনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ঈশ্বর মণ্ডলীকে একটি দেহ হিসেবে বিবেচনা করেন।
ঠিক যেমন সারা উপাসনা জুড়ে শাস্ত্র ব্যবহার করা উচিত, ঠিক তেমনই সারা উপাসনা জুড়ে প্রার্থনা করা উচিত। ঈশ্বরের উপস্থিতিকে স্বাগত জানানোর জন্য একটি প্রারম্ভিক প্রার্থনা থেকে শুরু করে মানুষের প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনায় নিবদ্ধ সময় পর্যন্ত, সদস্যরা যখন জগতে পরিচর্যা কাজ করার জন্য এগিয়ে যায় সেই সময়ের আশীর্বাদের শেষ প্রার্থনা পর্যন্ত, প্রার্থনা আমাদের উপাসনায় অন্যতম মূল বিষয় হওয়া উচিত।
[1]লিয়ানার কাহিনীটি Keith Drury, The Wonder of Worship, (Fishers, IN: Wesleyan Publishing House, 2002), 17 থেকে নেওয়া হয়েছে।
[2]দানিয়েলের এই অভ্যাসটি বিশ্বস্ত ইহুদিদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
[3]এই গীতটি সম্ভবত গীত ৫১ অধ্যায়ে দায়ূদের অনুতাপের ঠিক পরেই সংকলন করা হয়েছিল।
কেউ প্রথমে নিজে উপাসনা না করা পর্যন্ত অন্যদের উপাসনায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত নয়। কেউ প্রথমে একান্তে প্রার্থনা না করা পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রার্থনায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত নয়। আমরা যখন একটি ব্যক্তিগত প্রার্থনার জীবন গড়ে তুলি, তখনই আমরা জনসমক্ষে প্রার্থনায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হই। একজন উপাসনার লিডার হিসেবে, প্রতিদিনের ব্যক্তিগত প্রার্থনার নিয়মানুবর্তিতায় নিজেকে নিয়োজিত করুন।
কীভাবে প্রার্থনা করতে হয় তা শিখুন
যিশু শিষ্যরা বলেছিলেন, “প্রার্থনা করতে শিখিয়ে দিন” (লূক ১১:১)। প্রত্যুত্তরে যিশু একটি আদর্শ প্রার্থনা শিখিয়েছিলেন যা প্রভুর প্রার্থনা নামে পরিচিত। প্রার্থনা করা শেখা যেতে পারে।
কিছুটা হলেও, ঈশ্বরের প্রতিটি সন্তানের কাছে প্রার্থনা হলো একটি স্বাভাবিক বিষয়; তবে, প্রার্থনা করা শেখা যেতে পারে। একটি ছোটো শিশু কথা বলার শিক্ষা না নিয়েই কথা বলতে শেখে। তবে, একটি শিশু বড়ো হওয়ার সাথে সাথে তারা ভাষা, শব্দভাণ্ডার এবং সঠিকভাবে কথা বলা সম্পর্কে আরো শেখে। একইভাবে, একজন তরুণ খ্রিষ্টবিশ্বাসী স্বাভাবিকভাবেই ঈশ্বরের সাথে কথা বলতে চায়, কিন্তু আমরা বিশ্বাসে পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে প্রার্থনার প্রতি আমাদের বোধগম্যতা এবং উপলব্ধি আরো গভীর হয়।
প্রার্থনার উপর লেখা বইগুলি প্রার্থনা সম্পর্কে আপনার বোধকে আরো গভীর করতে পারে। নিচে প্রার্থনার উপর লেখা কিছু কালজয়ী বই উল্লেখ করা হলো যা প্রত্যেক খ্রিষ্টবিশ্বাসীকে উপকৃত করতে পারে:
Power Through Prayer by E.M. Bounds
With Christ in the School of Prayer by Andrew Murray
Mighty Prevailing Prayer by Wesley Duewel
শাস্ত্রের বাক্য সহকারে প্রার্থনা করুন
প্রার্থনা করতে শেখার জন্য শাস্ত্রের চেয়ে ভালো আর কিছু নেই। প্রার্থনার প্রথম পাঠশালা হলো বাইবেল। গীতসংহিতা এবং বাইবেলে উল্লিখিত অন্যান্য প্রার্থনাগুলি আমাদেরকে কার্যকরভাবে প্রার্থনা করতে শেখায়। মন্ডলীর ইতিহাস জুড়ে, মহান খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা তাদের প্রার্থনা শাস্ত্র দিয়েই পূরণ করেছেন। নিচে বাইবেলের কিছু মহান প্রার্থনা তুলে ধরা হলো:
সমাদরের প্রার্থনা। যাত্রা পুস্তক ১৫:১-১৮, ১ শমূয়েল ২:১-১০, ১ বংশাবলি ২৯:১১-২০, লূক ১:৪৬-৫৫, লূক ১:৬৮-৭৯, ১ তিমথি ৬:১৫-১৬, এবং প্রকাশিত বাক্য ৪:৮-৫:১৪।
স্বীকারোক্তির প্রার্থনা। ইষ্রা ৯:৫-১৫, গীত ৫১, এবং দানিয়েল ৯:৪-১৯।
মধ্যস্থতা বা বিনতি প্রার্থনা। আদি পুস্তক ১৮:২৩-৩৩, যাত্রা পুস্তক ৩২:১১-১৪, ইফিষীয় ১:১৫-২৩, এবং ফিলিপীয় ১:৯-১১।
ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপনের উপর মনোযোগ দিন
বহুবার আমাদের প্রার্থনা কেবল ঈশ্বরের কাছে অনুরোধ পেশ করে। কিছু লোক ঈশ্বরকে অনুরোধের একটি তালিকা দেয়, গতকালের সমস্ত অনুরোধের উত্তর দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানায়, এবং তারপরে “আমেন” বলে। প্রকৃত প্রার্থনা অতি অবশ্যই অনুরোধের একটি তালিকার চেয়েও অনেক বেশি কিছু হওয়া উচিত; প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপন করা।
প্রভুর প্রার্থনা মূলত প্রার্থনার জন্য একটি মডেল প্রদান করে (মথি ৬:৯-১৩)। প্রভুর প্রার্থনায় যা যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা নিম্নরূপ:
সমাদর: “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক,”
সমর্পণ: “তোমার রাজ্য আসুক, তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমন পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক।”
আবেদন: “আমাদের দৈনিক আহার আজ আমাদের দাও।”
স্বীকারোক্তি: “আমরা যেমন আমাদের বিরুদ্ধে অপরাধীদের ক্ষমা করেছি, তেমন তুমিও আমাদের অপরাধসকল ক্ষমা করো।”
নির্দেশনার জন্য প্রার্থনা: “আর আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিয়ো না, কিন্তু সেই পাপাত্মা থেকে রক্ষা করো।”
প্রশংসা: “কারণ রাজ্য, পরাক্রম ও মহিমা যুগে যুগে তোমার। আমেন।”
বহু খ্রিষ্টবিশ্বাসী একটি চার-স্তরীয় বিন্যাস অনুসরণ করে যার মধ্যে যিশুর দেওয়া মডেল প্রার্থনাটির সমস্ত উপাদানই অন্তর্ভুক্ত আছে: সমাদর, স্বীকারোক্তি, ধন্যবাদজ্ঞাপন, এবং বিনতি।
সমাদর
প্রার্থনায় সমাদর এবং প্রশংসা কখনোই বাদ থাকা উচিত নয়। প্রশংসা দিয়ে শুরু করার দ্বারা, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমাদের প্রার্থনা সাহায্যের জন্য একাধিক অনুরোধের একটি তালিকার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। গীতসংহিতা প্রার্থনার এমন একটি মডেল তুলে ধরে যার ভিত্তিমূল প্রশংসা। এমনকি বিলাপের গীতেও প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত আছে। যদি প্রার্থনা করা প্রকৃত উপাসনা হয়, তাহলে সেটিতে ঈশ্বরের সমাদর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্বীকারোক্তি
যিশাইয় ৬ অধ্যায় দেখায় যে আমাদের ঈশ্বরকে দেখার (সমাদর) সময়ে আমরা নিজেদেরকে দেখব। যখন আমরা ঈশ্বরের নিখুঁত পবিত্রতার আলোয় নিজেদেরকে দেখি, তখন আমরা আমাদের স্বীকারোক্তির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি। কোনো খ্রিষ্টবিশ্বাসী যতই পরিপক্ক হোক না কেন, তার ঈশ্বরের সাথে পথ চলা যতই গভীর হোক না কেন, তার নিজেকে কখনোই এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত নয় যেখানে সে বলতে পারে, “আমার কিছু স্বীকার করার প্রয়োজন নেই। আমার পরিপূর্ণতা চূড়ান্ত।” যিশু তাঁর শিষ্যদেরকে বলেছিলেন, “প্রার্থনা করার সময়, তোমরা বোলো:… আর আমাদের সব পাপ ক্ষমা করো, যেমন আমরাও নিজেদের সব অপরাধীকে ক্ষমা করি” (লূক ১১:৪)। প্রকৃত উপাসনায় স্বীকারোক্তি অন্তর্ভুক্ত।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন
সমাদর ঈশ্বরকে তাঁর পরিচয়ের জন্য প্রশংসিত করে; ধন্যবাদ জ্ঞাপন ঈশ্বরকে আমাদের জগতে তাঁর ক্রমাগত করতে থাকা কাজের জন্য প্রশংসিত করে। ধন্যবাদ জ্ঞাপন স্বীকার করে সমস্ত উৎকৃষ্ট ও নিখুঁত দান ঊর্ধ্বলোক [অর্থাৎ, স্বর্গ] থেকে আসে (যাকোব ১:১৭)। ধন্যবাদ জ্ঞাপনে আমরা ঈশ্বরকে আমাদের জীবনে তিনি যা করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। দশটি কুষ্ঠরোগীর কাহিনীটি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের গুরুত্ব দেখায় (লূক ১৭:১২-১৯)।
বিনতি
প্রভুর প্রার্থনায় যিশু দেখিয়েছেন যে ঈশ্বর তাঁর সন্তানদের অনুরোধগুলিকে মূল্য দেন। ঈশ্বর একজন পার্থিব শাসকের মতো নন, যিনি এতই ব্যস্ত যে একজন সাধারণ নাগরিকের চাহিদাগুলিকে কোনো গুরুত্ব দেন না। পরিবর্তে, ঈশ্বর হলেন সেই যথার্থ পিতা যিনি তাঁর সন্তানদেরকে উত্তম উপহার দিয়ে আনন্দিত হন। প্রভুর প্রার্থনায় আমরা সাধারণ প্রয়োজনীয়তাগুলির জন্য (“প্রতিদিন আমাদের দৈনিক আহার আমাদের দাও”) এবং আত্মিক নির্দেশনা লাভের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত হই (“আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিয়ো না”)।
প্রভুর প্রার্থনায়, আমরা যখন অনুরোধগুলি পেশ করি তখন আমরা নিজেদের ইচ্ছাকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে শিখি। বিশ্বাসী সন্তান হিসেবে আমরা শিখি যে তাঁর ইচ্ছা নিখুঁত; তাঁর “না” আমাদের ভালোর জন্যই। প্রার্থনা কোনো জাদুকাঠি নয় যা ঈশ্বরকে আমাদের ইচ্ছা পালন করতে বাধ্য করে। প্রার্থনা হলো একটি আত্মিক নিয়মানুবর্তিতা যা আমাদেরকে ঈশ্বরের ইচ্ছার কাছে আনন্দপূর্ণ ভাবে সমর্পণ করতে সাহায্য করে।
আপনার অগ্রাধিকারগুলিকে ঈশ্বরের অগ্রাধিকারগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করুন
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থনা দেখায় যে কোনটি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনটি আমাদের সবচেয়ে আন্তরিক প্রার্থনাকে অনুপ্রাণিত করে – দৈহিক চাহিদা নাকি আত্মিক চাহিদা?
থিষলনীকীয় মন্ডলীর খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের জন্য পৌল তার প্রার্থনায় বলেছেন, “… আমরা তোমাদের জন্য অবিরত প্রার্থনা করি, যেন আমাদের ঈশ্বর, তাঁর আহ্বানের যোগ্য বলে তোমাদের গড়ে তোলেন এবং তাঁর পরাক্রমে তোমাদের প্রত্যেক শুভ-সংকল্প এবং বিশ্বাস-প্রণোদিত প্রত্যেকটি কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেন। আমরা এই প্রার্থনা করি, যেন তোমাদের মধ্যে প্রভু যীশুর নাম গৌরবান্বিত হয় এবং আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহে, তোমরা তাঁতে গৌরব লাভ করতে পারো” (২ থিষলনীকীয় ১:১১-১২)। পৌলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল যে ঈশ্বর তাদের জীবনে যেন তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ করেন। এই খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা নির্যাতিত হচ্ছিল, কিন্তু পৌলের প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে তাদের দুঃখকষ্ট থেকে উদ্ধার করার জন্য ছিল না। বরং, তিনি প্রার্থনা করেছিলেন যে প্রভু যিশুর নাম তাদের মধ্যে মহিমান্বিত হোক।
ঠিক যেমন আমাদের অনুরোধ আমাদের অগ্রাধিকারগুলিকে প্রকাশ করে, তেমনভাবেই আমাদের ধন্যবাদজ্ঞাপনও আমাদের অগ্রাধিকারগুলিকে প্রকাশ করে। যদি আমাদের বেশিরভাগ ধন্যবাদজ্ঞাপন বস্তুগত আশীর্বাদের জন্য হয়, তাহলে বস্তুগত আশীর্বাদই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হতে পারে। যদি আমাদের বেশিরভাগ ধন্যবাদজ্ঞাপন আমাদের আত্মিক জীবনে ঈশ্বরের সাহায্যের জন্য হয়, তাহলে আত্মিক বৃদ্ধিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান।
থিষলনীকীয় মন্ডলীর জন্য তাঁর প্রার্থনায় পৌল ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন কারণ তাদের বিশ্বাস প্রচুররূপে বৃদ্ধি পাচ্ছিল, এবং তাদের পরস্পরের জন্য ভালোবাসা বৃদ্ধি পাচ্ছিল (২ থিষলনীকীয় ১:৩)। তার সর্বোত্তম ধন্যবাদ জ্ঞাপনটি সাময়িক আশীর্বাদগুলির জন্য ছিল না; তার সর্বশ্রেষ্ঠ ধন্যবাদ জ্ঞাপনটি ছিল তাদের আত্মিক বৃদ্ধির জন্য। কোনটি আপনার জীবনে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য সবচেয়ে বড়ো কারণ – আর্থিক আশীর্বাদ নাকি আত্মিক বৃদ্ধির প্রমাণ?
ঈশ্বরের সাথে কথা বলুন, কংগ্রিগেশনের সাথে নয়
সমগ্র শাস্ত্র জুড়ে, ঈশ্বর কংগ্রিগেশনের সাথে কথা বলেছেন। প্রার্থনায় কংগ্রিগেশন ঈশ্বরের সাথে কথা বলে। সমবেত প্রার্থনার সময়টি লিডারের জন্য লোকেদের কাছে এটি বলার সময় নয় যে সে তাদেরকে (প্রার্থনার মাধ্যমে) কী বলতে চায়! প্রার্থনা ঈশ্বরের সাথে কথা বলে।
যিশু তাঁর শিষ্যদেরকে শিখিয়েছিলেন যে কীভাবে এক প্রকৃত উপাসনার আত্মায় প্রার্থনা করতে হয়:
আর তোমরা যখন প্রার্থনা করো, তখন ভণ্ডদের মতো কোরো না, কারণ তারা সমাজভবনগুলিতে বা পথের কোণে কোণে দাঁড়িয়ে লোক-দেখানো প্রার্থনা করতে ভালোবাসে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে। কিন্তু তুমি যখন প্রার্থনা করো তখন ঘরে যাও, দরজা বন্ধ করো ও তোমার পিতা যিনি অদৃশ্য হলেও উপস্থিত—তাঁর কাছে প্রার্থনা করো। এতে তোমার পিতা, যিনি গোপনে সবকিছু দেখেন, তিনি তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। আর তুমি প্রার্থনা করার সময় পরজাতীয়দের মতো অর্থহীন পুনরাবৃত্তি কোরো না, কারণ তারা মনে করে, বাগবাহুল্যের জন্যই তারা প্রার্থনার উত্তর পাবে। তাদের মতো হোয়ো না, কারণ তোমাদের কী প্রয়োজন তা চাওয়ার পূর্বেই তোমাদের পিতা জানেন। (মথি ৬:৫-৮)
প্রকৃত প্রার্থনা ঈশ্বরকে বা কংগ্রিগেশনকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে না; এটি খুব সহজভাবে এবং স্পষ্টভাবে আমাদের স্বর্গস্থ পিতার সাথে কথা বলে।
► আপনার ব্যক্তিগত প্রার্থনার জীবনে বৃদ্ধিলাভের জন্য আপনি কী করবেন? আপনার মন্ডলীতে আপনি কীভাবে প্রার্থনাকে প্রকাশ্য প্রার্থনার আরো বেশি অর্থবহ একটি অংশ করে তুলবেন?
“খ্রিষ্টীয় জীবনের মূল উপাদান হল আমাদের ব্যক্তিগত অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঈশ্বরের উপাসনা এবং আরাধনার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা।”
- ডেনিস কিনলাও
(Dennis Kinlaw)
ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি একটি প্রত্যুত্তর হিসেবে নৈবেদ্য
প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি একটি স্বাভাবিক প্রত্যুত্তর। এই কারণে আমাদের প্রার্থনা সহকারে শাস্ত্রপাঠ এবং সারমন অনুসরণ করা উচিত। প্রার্থনায় আমরা ঈশ্বরের বাক্য থেকে প্রাপ্ত সত্যের প্রতি সাড়া দিই; আমরা আনুগত্যের প্রতি নিজেদেরকে অঙ্গীকারবদ্ধ করি।
নৈবেদ্যও ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি একটি প্রত্যুত্তর। পুরাতন নিয়মে বলিদান (নৈবেদ্য) ছিল বিধানের (ঈশ্বরের বাক্য) প্রতি উপাসনাকারীদের প্রতিক্রিয়া। নতুন নিয়মে নৈবেদ্য হলো ঈশ্বরের কাছে আমাদের সমগ্র সত্তার আত্মসমর্পণের প্রতীক।
নৈবেদ্য হলো উপাসনার একটি অংশ। গীতরচক উপাসনাকারীদেরকে নৈবেদ্য সাজিয়ে তাঁর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বলেছেন (গীত ৯৬:৮)। ইব্রীয় পুস্তকের লেখক উপাসনাকে দানের সাথে সংযুক্ত করেছেন, “আর অপরের উপকার ও অন্যদের সঙ্গে তোমাদের সম্পদ ভাগ করার কথা ভুলে যেয়ো না, কারণ এ ধরনের বলিদানেই ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন” (ইব্রীয় ১৩:১৬)। পৌল মন্ডলীকে বলেছিলেন যে তাদের ঈশ্বরকে দেওয়া উপহার তার কাছে সুরভিত নৈবেদ্যস্বরূপ, ঈশ্বরের প্রীতিজনক গ্রহণযোগ্য বলিদান (ফিলিপীয় ৪:১৮)।
উপাসনামূলক নৈবেদ্যের একটি ঈশতত্ত্ব
মন্ডলীতে যাওয়া বহু লোকই প্রাথমিকভাবে দান বা নৈবেদ্যকে এমনভাবে দেখে যেন আমরা মন্ডলীর খরচা মিটাচ্ছে। এটি নৈবেদ্যকে উপাসনার একটি আত্মিক কাজের চেয়ে একটি আর্থিক আদান-প্রদান করে তোলে। খ্রিষ্টীয় স্টুয়ার্ডশিপ, অর্থাৎ ন্যস্ত ন্যস্ত দায়ভারকে উপাসনার একটি অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। নিম্নলিখিত প্রতিটি নীতি আমাদের নৈবেদ্য দানের ঈশ্বতত্ত্বের অংশ হওয়া উচিত।
উপাসনামূলক নৈবেদ্য অনুগ্রহ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, ভয় দ্বারা নয়।
উপাসনা একটি কাজ হিসাবে প্রদত্ত দান ঈশ্বরের অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। পৌল করিন্থীয় মন্ডলীর বিশ্বাসীদের যিরুশালেমের অভাবী খ্রিষ্টবিশ্বাসীদেরকে সাহায্য করার জন্য দান করতে বলেছিলেন। তিনি তাদের এই হুমকি দেননি যে, “তোমাদের অবশ্যই দান করতে হবে, কারণ তোমাদের একদিন সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।” পরিবর্তে, তিনি প্রশংসার মাধ্যমে তার আবেদন শেষ করেছিলেন, “বর্ণনার অতীত ঈশ্বরের দানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই” (২ করিন্থীয় ৯:১৫)। তাদের দান করা ঈশ্বরের অনুগ্রহের উপহারের প্রতি ধন্যবাদ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। যদি একটি নৈবেদ্য দান প্রকৃত উপাসনা হয়ে থাকে, তাহলে তা একটি ইচ্ছুক হৃদয় থেকে আসে।
উপাসনামূলক নৈবেদ্য প্রেম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, পুরস্কার দ্বারা নয়।
প্রকৃত উপাসনা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, পুরস্কার লাভের ইচ্ছা দ্বারা নয়। আর্থিক উপহারগুলি আমাদের নিজেদেরকে ঈশ্বরের কাছে উপহারস্বরূপ তুলে ধরার একটি প্রতীক। পৌল ম্যাসিডোনিয়ার খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের প্রশংসা করেছিলেন, কারণ “ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে তারা প্রথমে প্রভুর, পরে আমাদেরও কাছে নিজেদের প্রদান করল” (২ করিন্থীয় ৮:৫)। তাদের উপহারগুলি ছিল ঈশ্বরের প্রতি এবং যে সকল প্রেরিতরা তাদের অঞ্চলে সুসমাচার নিয়ে এসেছিলেন তাদের প্রতি ভালোবাসার প্রতীকস্বরূপ।
ঠিক যেমন সঙ্গীত বা অন্য কোনো উপাসনামূলক কার্যকলাপ ভুল কারণে করা যেতে পারে, তেমনই দান ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারে। কিছু সুসমাচার প্রচারক প্রতিশ্রুতি দেন যে ঈশ্বর আর্থিক আশীর্বাদ দিয়ে আর্থিক উপহারের প্রতিদান দেবেন। বাইবেলের প্রেক্ষাপট থেকে শাস্ত্রাংশকে বিকৃত করে তারা ঈশ্বরকে দেওয়া উপহারের জন্য শতগুণ পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। এই ধরণের দানে প্রেমময় উপাসনার কাজ হবে না, বরং এটি একটি মহাজাগতিক লটারির টিকিট কেনার মতো হবে যেখানে দাতা জ্যাকপট পাওয়ার করার আশা করে! বাইবেলে কোথাও এই ধরণের দানকে প্রশংসা করে না।
পরিবর্তে, বাইবেল মরিয়মের দানের প্রশংসা করে। যখন সে যিশুকে অভিষিক্ত করেছিলেন, সেখানে কোনো দৃশ্যমান পুরস্কার ছিল না। সে কিছু ফেরত পাওয়ার চিন্তা না করেই তার সমস্ত সঞ্চয় ঢেলে দিয়েছিল। এমনকি শিষ্যরাও তার এই অপচয়ের জন্য রেগে গিয়েছিলেন। কেবল যিশু দেখেছিলেন এবং তার উপহারের প্রশংসা করেছিলেন, এমন একটি উপহার যা কেবল ভালোবাসা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল (মথি ২৬:৬-১৩)।
উপাসনামূলক দান কেবল ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা দ্বারাই নয়, সেইসাথে অন্যদের প্রতি ভালোবাসা দ্বারাও অনুপ্রাণিত হয়। যোহন তার লিডারদের পাঠকদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে প্রকৃত প্রেম কেবল কথার চেয়েও অনেক বেশি কিছু; এটি কাজ। পৌলের প্রতি ফিলিপীয় মন্ডলীর লোকেদের ভালোবাসা তাদের দানেই প্রকাশিত হয়েছিল। একজন বিশ্বাসীর অন্যদের প্রতি ভালোবাসা তার দানেই দেখা যায়।
জাগতিক সম্পদের অধিকারী হয়ে কেউ যদি তার ভাইবোনকে অভাবগ্রস্ত দেখে কিন্তু তার প্রতি করুণাবিষ্ট না হয়, তাহলে তার অন্তরে ঈশ্বরের প্রেম কীভাবে থাকতে পারে? প্রিয় সন্তানেরা, এসো, মুখের কথায় অথবা ভাষণে নয়, কিন্তু কাজ করে ও সত্যের মাধ্যমেই আমরা প্রেম করি। (১ যোহন ৩:১৭-১৮)
উপাসনামূলক নৈবেদ্য উদার হয়, তা কৃপণ নয়।
পৌল করিন্থীয় মন্ডলীকে উদার হস্তে দান করতে উৎসাহিত করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন, তোমরা সর্বতোভাবে সমৃদ্ধিশালী হবে, যেন তোমরা সব উপলক্ষে মুক্তহস্ত হতে পারো এবং আমাদের মাধ্যমে তোমাদের মুক্তহস্তের সেই দান ঈশ্বরের প্রতি ধন্যবাদ-দানে পরিণত হবে।” তাদের উদারতা ছিল ঈশ্বরের প্রতি তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের একটি প্রকাশ। “তোমাদের সাধিত এই সেবাকাজ কেবলমাত্র যে ঈশ্বরের লোকদের অভাব দূর করেছে, তা নয়, কিন্তু তা বহু অভিব্যক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি ধন্যবাদ-জ্ঞাপনে উপচে পড়ছে” (২ করিন্থীয় ৯:১১-১২)। যদি দান করা প্রকৃত উপাসনা হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই উদার হওয়া উচিত।
উপাসনামূলক নৈবেদ্য নম্রতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, অহংকার দ্বারা নয়।
► মথি ৬:১-৪ পদ পড়ুন।
পর্বতের উপরে দেওয়া উপদেশে যিশু দানের বিষয়ে ভুল অনুপ্রেরণার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। কেউ কেউ অন্যদের থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য দান করে; তাদের পুরস্কার হলো প্রশংসা। “তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।” কেউ কেউ নীরবে দান করে, যেখানে তারা নিজেদেরকে তাদের নম্রতার জন্য প্রশংসিত করে; তাদের পুরস্কার হলো আত্ম-সন্তুষ্টি। যিশু বলেছেন, “তোমার ডান হাত কী করছে, তা যেন তোমার বাঁ হাত জানতে না পায়।” নিজেকে নিজের উদারতার জন্য প্রশংসিত করবেন না। পরিবর্তে, আপনার স্বর্গস্থ পিতাকে দেখতে দিন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আপনাকে পুরস্কৃত করতে দিন।
আনন্দপূর্ণ দানের একটি কাহিনী
জন ওয়েসলি (John Wesley) তার নিজের ঘরের জন্য সবেমাত্র কিছু ছবি কেনার পর তার পরিচারিকা আসে। সেদিন মারাত্মক ঠাণ্ডা পড়েছিল এবং তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে মেয়েটি কেবল একটি পাতলা গাউন পরে আছে। তিনি তাকে গরম জামা কেনার জন্য কিছু টাকা দিতে গিয়ে পকেটে হাত দিয়ে দেখেন যে খুব সামান্য কিছু পড়ে আছে। তিনি কেঁদে উঠে বলেন, “আমি আমার এই দেওয়াল যে টাকা দিয়ে সাজিয়েছি সেই টাকা এই অসহায় মেয়েটিকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করতে পারত!”
ওয়েলসি তার খরচ সীমিত করতে শুরু করেছিলেন যাতে তার কাছে দুঃস্থদেরকে দেওয়ার জন্য কিছু অর্থ থাকে। তার জার্নালে, তিনি নথিবদ্ধ করেছিলেন যে এক বছরে তার উপার্জন ছিল ৩০ পাউন্ড, এবং তার দিনযাপনের খরচ ছিল ২৮ পাউন্ড, তাই তিনি ২ পাউন্ড দান করেছিলেন। পরের বছরে তাঁর উপার্জন দ্বিগুণ হয়েছিল, কিন্তু তিনি তবুও ২৮ পাউন্ড দিয়েই চালিয়েছিলেন এবং ৩২ পাউন্ড দান করেছিলেন। তৃতীয় বছরে তার উপার্জন একলাফে ৯০ পাউন্ড হয়েছিল; কিন্তু তিনি পুনরায় ২৮ পাউন্ড দিয়েই চালিয়েছিলেন, এবং ৬২ পাউন্ড দান করেছিলেন। চতুর্থ বছরে তিনি ১২০ পাউন্ড উপার্জন করেছিলেন, ২৮ পাউন্ড দিয়ে নিজের খরচ চালিয়েছিলেন, এবং ৯২ পাউন্ড দুঃস্থদের জন্য দিয়েছিলেন।
ওয়েসলি প্রচার করেছিলেন যে খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের কেবল দশমাংশ নয়, অতিরিক্ত দান করা উচিত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের দানও বৃদ্ধি পেতে হবে। তিনি সারা জীবন এটি অনুশীলন করেছিলেন। এমনকি যখন তার উপার্জন হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছিল, তখনও তিনি সরল জীবনযাপনই করেছিলেন এবং উদ্বৃত্ত অর্থ দান করেছিলেন। একটি বছরে তার উপার্জন ১,৪০০ পাউন্ডের বেশি ছিল; তিনি ৩০ পাউন্ড ছাড়া বাকি সব দান করেছিলেন।[1] তিনি বলেছিলেন যে তিনি কখনো নিজের জন্য ১০০ পাউন্ডের বেশি রাখেননি। তিনি তার জীবনকালে উপার্জিত ৩০,০০০ পাউন্ডের বেশিরভাগই দান করেছিলেন।[2]
এই কাহিনীর মূল কথা দারিদ্র্যের প্রতি আইনগত আদেশ নয়! মূল কথা হলো ঈশ্বরের প্রতি আনন্দপূর্ণ এবং স্বেচ্ছা আনুগত্য। ঈশ্বর সকলকে জন ওয়েসলির মতো একই আয় দেন না; ঈশ্বর সকলকে জন ওয়েসলির মতো একই হারে দান করার আহ্বানও জানান না। পরীক্ষাটি এই নয় যে, “আমি কি অন্য কারোর মতো ততটা দান করছি?” পরীক্ষাটি হলো, “আমি কি ঈশ্বরের প্রতি আনন্দের সাথে আনুগত্য প্রকাশ করছি?” ঈশ্বর আমাদের বলিদানমূলক দান সহকারে উপাসনা করার আহ্বান জানান।
দান করার অনুশীলন
যেহেতু দান করা উপাসনারই একটি কাজ, নৈবেদ্য এমনভাবে সংগ্রহ করা উচিত যা উপাসনার মনোভাব বৃদ্ধি করে। নিম্নলিখিত ব্যবহারিক ধারণাগুলি বিবেচনা করুন।
নৈবেদ্য প্রদানের ক্ষেত্রে চাহিদার উপর নয়, বরং উপাসনার উপর জোর দেওয়া উচিত।
সম্ভবত যে কারণে অনেক খ্রিষ্টবিশ্বাসী নৈবেদ্যকে প্রধানত মন্ডলীর বিভিন্ন খরচা মিটানোর মাধ্যম হিসেবে দেখে থাকে, সেটা হল দান সংগ্রহের সময় মন্ডলীর বিভিন্ন খরচ সংস্থানের উপর জোর দেওয়া হয়! এটি আরো খারাপ হয় যখন আর্থিক সংকটের কারণে আমরা বলি, যদি উদারভাবে নৈবেদ্য না দেওয়া হয় তাহলে “মন্ডলী বন্ধ হয়ে যাবে” অথবা “আমরা কোনো মিশনারিকে পাঠাতে পারব না।” কখনো কখনো একজন পাস্টার নৈবেদ্য চাওয়ার জন্য ক্ষমা চান, “খুব ভালো হতো যদি আপনার কাছে আমার অর্থ চাওয়ার প্রয়োজন না হতো।” পরিবর্তে, নৈবেদ্যটি আনন্দের সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের প্রকাশ হওয়া উচিত।
নৈবেদ্য সম্পর্কে কথা বলার সময়ে উপাসনার উপরেই জোর দেওয়া উচিত। নৈবেদ্যটি এমন একটি শাস্ত্রীয় অংশের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যেতে পারে যা উপাসনাকারীদেরকে নৈবেদ্যটির উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দেয়। ২ করিন্থীয় ৮:৯ এবং ২ করিন্থীয় ৯:৭, যাত্রা পুস্তক ২৫:২, প্রেরিত ২০:৩৫, এবং এমনকি যোহন ৩:১৬ পদের মতো শাস্ত্রীয় অংশগুলি দানের জন্য প্রকৃত অনুপ্রেরণার দিকে নির্দেশ করে।
নৈবেদ্যটি অবশ্যই সমগ্র উপাসনা সভার একটি অংশ হওয়া উচিত।
কিছু কিছু সংস্কৃতিতে, উপাসনা সভার বাইরে মানুষজনকে তাদের নৈবেদ্য দান করতে উৎসাহিত করার প্রচলন আছে। যদিও এটি লোক দেখানো এড়াতে বা সভার সময় বাঁচানোর ইচ্ছা থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে, তবে এটি দানকে উপাসনা থেকে আলাদা করে। নৈবেদ্যকে উপাসনা সভার অংশ হিসেবে গ্রহণ করলে উপাসনাকারীরা দানকে উপাসনার একটি অংশ হিসেবে বুঝতে পারে।
যেহেতু নৈবেদ্য হলো ঈশ্বরের প্রতি আমাদের সাড়া দেওয়া, তাই আপনি সারমনের আগে নৈবেদ্য গ্রহণ করার পরিবর্তে পরে নৈবেদ্য গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারেন। এর অর্থ হলো, “আমরা ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি সাড়া দিয়ে তাঁকে দান করছি।”
বাবা-মায়েদের উচিত তাদের সন্তানদেরকে উপাসনায় নৈবেদ্য দান করতে শেখানো।
আমরা যেমন আমাদের বাচ্চাদের গান গাইতে, প্রার্থনা করতে এবং শাস্ত্রপাঠ ও প্রচার শুনতে শেখাই, তেমনই আমাদের বাচ্চাদের আনন্দের সাথে দান করতে শেখানো উচিত। আমাদের বাচ্চারা যখন শিখবে যে দান করা প্রশংসার একটি আনন্দজনক কাজ, তখন তারাও উপাসনাকারী হয়ে ওঠে।
নৈবেদ্য নেওয়ার সময় যে গান হয় তা উপাসনামূলক হওয়া উচিত।
যদি নৈবেদ্য দান করা উপাসনা হয়, তাহলে নৈবেদ্য নেওয়ার সময়ে যে গান হয় তা উপাসনামূলক হওয়া উচিত। এই সঙ্গীত যন্ত্রসঙ্গীত বা কণ্ঠ দিয়ে গাওয়া গান হতে পারে; এটি একক বা সমবেত হতে পারে; এটি শান্ত এবং প্রতিফলিত হতে পারে; অথবা আনন্দময় এবং উচ্ছ্বসিত হতে পারে; যে ধরণেরই হোক না কেন, এটিকে উপাসনার একটি অংশ হতে হবে। নৈবেদ্যের সময় যারা গান গায়, তাদের আত্মিক নির্দেশনার জন্য প্রার্থনা করা উচিত ঠিক যেমন উপাসনাকারী আত্মিক নির্দেশনার জন্য প্রার্থনা করে। উপাসনার কোনো অংশকেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
নৈবেদ্য সংগ্রহের পর উৎসর্গীকৃত প্রার্থনা করা উচিত।
যেহেতু নৈবেদ্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে একটি উপহার, তাই নৈবেদ্যের পরে আত্ম-উৎসর্গের প্রার্থনা করা উচিত। এটি উপাসনাকারীদেরকে দানের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দেয় এবং উপাসনা হিসেবে দানের একটি দৃশ্যমান প্রমাণ প্রদান করে।
মন্ডলীর লিডারদেরকে লোকেদের দেওয়া উপহারের উত্তম তত্ত্বাবধায়ক হতে হবে।
এই নৈবেদ্য দানের মাধ্যমে, উপাসনাকারীরা তাদের উপহার মন্ডলীর লিডারদের তত্ত্বাবধানে অর্পণ করছে। মন্ডলীর লিডারদের অবশ্যই সেই সমস্ত উপহারের ভালো তত্ত্বাবধায়ক হতে হবে। অর্থ ব্যবহারের জন্য মন্ডলীর কাছে তুলে ধরা হিসাব-নিকাশ দেখায় যে সমস্ত নৈবেদ্য ঈশ্বরের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি দানকে উৎসাহিত করে এবং মন্ডলীর নেতৃত্বে অসততার প্রলোভন কমায়। এমন একটি পৃথিবীতে যেখানে খ্রিষ্টীয় লিডারদের অবিশ্বাসের চোখে দেখা হয়, সেখানে আমাদের নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত।
নৈবেদ্য নানারকম খরচা মিটানোর একটি উপায়ের চেয়েও অনেক বেশি কিছু; এটি উপাসনার একটি কাজ। ঈশ্বর তাঁর বাক্যের মাধ্যমে নিজেকে উপাসনাকারীদের কাছে প্রকাশ করেন। আমরা আনন্দপূর্ণ হৃদয় থেকে দেওয়া আত্মত্যাগমূলক উপহারের মাধ্যমে সাড়া দিই। এই হলো প্রকৃত উপাসনা।
মিলিয়ে দেখুন
আপনার মন্ডলীর লোকেরা দান করার সময়ে কি উপলব্ধি করে যে তারা উপাসনা করছে, নাকি তারা কেবল মন্ডলীর খরচা মেটাচ্ছে? নৈবেদ্যকে উপাসনার একটি কাজ করে তোলার জন্য আপনি কোন কোন ব্যবহারিক পদক্ষেপগুলি নিতে পারেন?
[1]আজকের তুলনার জন্য, এটি প্রায় ২ কোটি টাকা উপার্জন এবং ৫ লক্ষ টাকা ছাড়া বাকি সব দেওয়ার সমতুল্য। তার জীবদ্দশায়, ওয়েসলি আজকের অর্থের প্রায় ৩০ কোটি টাকার সমতুল্য অর্থ উপার্জন এবং দান করেছিলেন।
► আপনার মন্ডলীর প্রভুর ভোজ পালন নিয়ে আলোচনা করুন। আপনি কতবার প্রভুর ভোজ উদযাপন করেন? আপনি যখন প্রভুর ভোজ পালন করেন, তখন কি এটি উপাসনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থাকে?
[1]ঈশ্বর যেমন লিখিত বাক্যে (শাস্ত্রপাঠ) এবং কথিত বাক্যে (তাঁর বাক্য প্রচারে) প্রকাশিত হন, তেমনই তিনি প্রভুর ভোজের মাধ্যমে প্রদর্শিত বাক্যেও প্রকাশিত হন। প্রভুর ভোজ হলো যিশুর প্রায়শ্চিত্তমূলক মৃত্যুর স্মারক এবং তাঁর পুনরুত্থানের উদযাপন।[2] শেষ ভোজের সাথে নিস্তারপর্বের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু এটি নতুন চুক্তিরও সূচনা করেছিল।
► মথি ২৬:১৭-৩০ এবং ১ করিন্থীয় ১১:১৭-৩৪ পদ পড়ুন।
নতুন নিয়মে প্রভুর ভোজ সম্পর্কে উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে রয়েছে সুসমাচারের বিবরণ এবং করিন্থীয় মন্ডলীর প্রতি পৌলের নির্দেশাবলী।
প্রভুর ভোজ পালনের সাথে সম্পর্কিত তিনটি প্রশ্ন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা করা হয়।
প্রভুর ভোজের অর্থ কী?
কত ঘন ঘন প্রভুর ভোজ পালন করা উচিত?
কীভাবে প্রভুর ভোজ পালন করা উচিত?
প্রভুর ভোজের অর্থ কী?
প্রভুর ভোজ পালন করা উপাসনার একটি অর্থপূর্ণ অংশ।[3] করিন্থীয় মন্ডলীর উদ্দেশ্যে লেখা পত্রে পৌলে দেখিয়েছেন যে প্রভুর ভোজে:
১। আমরা খ্রিষ্টের মৃত্যুর দিকে ফিরে তাকাই (“তোমরা প্রভুর মৃত্যু ঘোষণা করে থাকো”)।
২। আমরা আগামী সময়ে খ্রিষ্টের পুনরাগমনের অপেক্ষায় আছি (“যতদিন পর্যন্ত তিনি না আসেন”)।
যখন আমরা প্রভুর ভোজ উদযাপন করি, আমরা তাঁর আত্মবলিদান স্মরণ করি, এবং আমরা তাঁর প্রতিজ্ঞাত ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকি। উপাদানগুলি খ্রিষ্টের দেহ এবং রক্তের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সেগুলি আমাদেরকে প্রভুর মৃত্যুতে আমাদের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। “ধন্যবাদ দেওয়ার যে পানপাত্রটি নিয়ে আমরা ধন্যবাদ দিই, তা কি খ্রীষ্টের রক্তের সহভাগিতা নয়? আবার, যে রুটি আমরা ভেঙে থাকি, তা কি খ্রীষ্টের দেহের সহভাগিতা নয়?” (১ করিন্থীয় ১০:১৬)। প্রভুর ভোজ হলো ক্রুশবিদ্ধ এবং পুনরুত্থিত প্রভুর অবিচ্ছিন্ন উপস্থিতির একটি শক্তিশালী প্রতীক।
কত ঘন ঘন প্রভুর ভোজ পালন করা উচিত?
শাস্ত্র বা মন্ডলীর ইতিহাস এই প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেয় না। অনুমান করা হয় যে, প্রারম্ভিক মন্ডলীতে প্রতি রবিবার প্রভুর ভোজ গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে কিছু মন্ডলী সাপ্তাহিকভাবে প্রভুর ভোজ উদযাপন করে, আবার অন্যরা বছরে একবার বা দু’বার এটি পালন করে।
যতক্ষণ প্রভুর ভোজকে উপাসনার একটি শ্রদ্ধাপূর্ণ দিক হিসেবে পালন করা হয় ততক্ষণ এটির ঘন ঘন উদযাপন মোটেই প্রভুর ভোজের গুরুত্ব হ্রাস করে না, ঠিক যেমন সাপ্তাহিক বাইবেল পাঠ উপাসনায় শাস্ত্রের গুরুত্বকে হ্রাস করে না।
কীভাবে প্রভুর ভোজ পালন করা উচিত?
পৌল করিন্থীয় মন্ডলীকে “অযোগ্যরূপে” খাওয়া এবং পান করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন (১ করিন্থীয় ১১:২৭)। কিছু ব্যবহারিক পদক্ষেপ আমাদেরকে খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের কাছে এটির তাৎপর্য অনুযায়ী প্রভুর ভোজ পালন করতে সাহায্য করে।
প্রভুর ভোজ উপাসনার একটি কেন্দ্রীয় অংশ হওয়া উচিত, কোনো সংযোজন নয়।
প্রভুর ভোজের জন্য একটি স্বাভাবিক সময় হলো সারমনের পরে। এক্ষেত্রে, সারমন আমাদেরকে ভোজ সম্পর্কে আরো গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। এটি সরাসরি প্রভুর ভোজের উদ্দেশ্যে সম্বোধন করা সারমনের মাধ্যমে অথবা সম্পর্কিত বিষয়ের (মুক্তি, প্রায়শ্চিত্ত, অনুগ্রহ, শিষ্যত্ব) উপর সারমনের মাধ্যমে করা যেতে পারে। যেসব মন্ডলী ঘন ঘন প্রভুর ভোজ উদযাপন করে, তাদের জন্য প্রতিটি সভার মূল বিষয়বস্তু প্রভুর ভোজের উপর কেন্দ্রীভূত করা উপযুক্ত নয়। তবে, প্রভুর ভোজ পালন এবং উপাসনার পূর্ববর্তী অংশের মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগসূত্র থাকা উচিত।
প্রভুর ভোজ হলো একইসাথে একটি ভাবগম্ভীর এবং আনন্দপূর্ণ উপলক্ষ।
প্রভুর ভোজ হলো ভাবগম্ভীর আত্ম-পরীক্ষার এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহের একটি আনন্দপূর্ণ উদযাপনের সময়। উদযাপনের গম্ভীরতা এটির স্মরণে প্রতিফলিত যে ভোজটি প্রভুর মৃত্যুর কথা মনে করে খাওয়া হচ্ছে। উদযাপনের আনন্দ প্রভুর ফিরে আসার প্রতিজ্ঞায় প্রতিফলিত হয়।
মাঝে মাঝে, পুনরুত্থানের উদযাপন এবং খ্রিষ্টের পুনরাগমনের প্রত্যাশা প্রভুর ভোজের প্রাথমিক জোরের বিষয় হতে পারে। অন্য সময়ে, যিশুর মৃত্যুর গাম্ভীর্য এবং আত্ম-পরীক্ষার গুরুত্ব প্রাথমিক জোর হতে পারে। উভয় দিকই এটি পালনের অংশ।
আমরা প্রভুর ভোজে আনন্দ করি কারণ এটি ঈশ্বরের অনুগ্রহ দ্বারাই সম্ভব। প্রভুর ভোজে আমাদের স্মরণ করানো হয় যে কেবল অনুগ্রহই আমাদেরকে পরিত্রাণ প্রদান করে। আমরা প্রভুর ভোজের গম্ভীরতা স্বীকার করি কারণ আমরা মনে রাখি যে প্রভুর ভোজে আমাদের অংশগ্রহণ পাপ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রভুর টেবিলে প্রত্যেক উপাসনাকারীকেই নিজেকে পরীক্ষা করতে হবে।
প্রভুর ভোজে মন্ডলীর একতা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
দুঃখের বিষয় যে, প্রভুর ভোজের অধ্যাদেশ যা মন্ডলীর ঐক্যকে প্রতিফলিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, তা কখনো কখনো বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিভাবে প্রভুর ভোজ পরিবেশন করা হবে (আলাদা আলাদা কাপ, সকলের জন্য একটি সাধারণ কাপ, কাপে রুটি ডুবিয়ে) এবং কারা অংশগ্রহণ করতে পারে (সকল দাবীদার বিশ্বাসী, কেবল যারা বাপ্তিস্ম নিয়েছে, কেবল স্থানীয় মন্ডলীর সদস্যরা) তা নিয়ে পার্থক্য মন্ডলীগুলির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে।
পৌল করিন্থীয় মন্ডলীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে যেহেতু তারা একটি রুটি ভাগ করে নেয়, অতএব তাদেরকে অবশ্যই এক দেহ হতে হবে। “কারণ, আমরা যারা অনেকে, আমরা এক রুটি, একই দেহ, কারণ আমরা সকলেই এক রুটি থেকে অংশগ্রহণ করে থাকি” (১ করিন্থীয় ১০:১৭)।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে প্রভুর ভোজে, উপাসনাই মুখ্য বিষয় এবং সমস্ত অনুষ্ঠান-পদ্ধতিই আনুষঙ্গিক। মন্ডলীকে অবশ্যই সেই সমস্ত পদ্ধতি বজায় রাখতে করতে হবে যা সুসমাচার পুস্তকগুলি এবং ১ করিন্থীয়’র প্রতি বিশ্বস্ত। যাইহোক, প্রভুর ভোজ যেভাবে পরিবেশন করা হোক না কেন, এটি বিভাজনমূলক হওয়া উচিত নয়। প্রভুর ভোজে আমরা ঈশ্বরের পরিবারের একতা উদযাপন করি।
“ভোজ হলো প্রভুর তাঁর লোকেদের সাথে আলাপচারিতার সময়। যারা খ্রিষ্টের সাথে এই সম্মেলন পালন করে, তারা আত্মবিশ্বাসের সাথে আশা করতে পারে যে তিনি অবশ্যই তাদের সাথে দেখা করতে আসবেন।”
- ফ্র্যাঙ্কলিন সেগলার ও র্যান্ডাল ব্র্যাডলি
(Franklin Segler and
Randall Bradley)
[2]Franklin M. Segler and Randall Bradley, Christian Worship: Its Theology and Practice (Nashville: B&H Publishing, 2006), 178
উপাসনা কী গুরুত্বপূর্ণ? এখানে ১৯৪৫ সালের একটি সাক্ষ্য তুলে ধরা হলো যা দেখায় যে যখন একজন সাধারণ ব্যক্তি প্রার্থনার মাধ্যমে উপাসনা করে তখন কী ঘটতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন, এক রূপান্তরিত বৌদ্ধধর্মাবলম্বী জাপানি-আমেরিকান শিক্ষার্থী বেইলর ইউনিভার্সিটিতে পুনর্জাগরণের এক মুখপাত্র হয়ে উঠেছিল। রেইজি হোশিজাকি (Reiji Hoshizaki) তার পড়াশোনা চালানোর জন্য কেয়ারটেকারের কাজ করতেন। ক্লাসরুমগুলি পরিষ্কার করার সময়ে তিনি প্রতিটি বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতেন।
এরকম কয়েক সপ্তাহ প্রার্থনা করার পরে একদিন রেইজি যখন ক্লাসে বসে ছিলেন তখন তিনি সহপাঠীদের জন্য এতটাই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিলেন এবং চোখের জলে প্রার্থনা করতে শুরু করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেছিল, “রেইজি’র কী হয়েছে?” রেইজি’র কিছুই হয়নি; তার চেয়ারটাই তার বেদি হয়ে উঠেছিল।
রেইজি’র বিনতিমূলক প্রার্থনার মাধ্যমে গোটা বেইলর ইউনিভার্সিটিতে পুনর্জাগরণ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারপর গোটা টেক্সাস শহরে। একাধিক শিক্ষার্থী যারা সুসমাচার প্রচার করত, তারা বেইলরের ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল যাতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমগ্র দক্ষিণ পশ্চিম দিকে পুনর্জাগরণ ছড়িয়ে দিতে পারে। প্রার্থনা হলো উপাসনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যখন আমরা উপাসনা করি, আমাদের জগত ঈশ্বরের শক্তি দ্বারা পরিবর্তিত হয়।
(১) আমাদের উপাসনার সকল অংশে শাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করে আমরা শাস্ত্রকে উপাসনার প্রধান ভূমিকায় রাখতে পারি।
(২) যেহেতু শাস্ত্র হলো উপাসনার কেন্দ্র, তাই আমাদের নিশ্চিত করা উচিত যে এটি স্পষ্টভাবে, অভিব্যক্তি সহযোগে এবং বৈচিত্র্যের সাথে পড়া হচ্ছে, যা পাঠকে প্রাণবন্ত রাখবে।
(৩) যেহেতু প্রচার হলো উপাসনার অংশ, তাই:
প্রচারের জন্য সতর্ক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
প্রচারে কংগ্রিগেশনের দিক থেকে একটি প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
প্রচারে প্রচারকের তরফ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
প্রচারককে অবশ্যই পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিযুক্ত হতে হবে।
(৪) প্রার্থনাকে সমবেত প্রার্থনার একটি অর্থপূর্ণ অংশ করে তোলার কিছু ব্যবহারিক উপায়:
আপনার ব্যক্তিগত প্রার্থনার জীবন গড়ে তুলুন।
কীভাবে প্রার্থনা করতে হয় তা শিখুন।
শাস্ত্রের বাক্য সহকারে প্রার্থনা করুন।
ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপনের উপর মনোযোগ দিন।
আপনার অগ্রাধিকারগুলিকে ঈশ্বরের অগ্রাধিকারগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করুন
ঈশ্বরের সাথে কথা বলুন, কংগ্রিগেশনের সাথে নয়।
(৫) যেহেতু নৈবেদ্য দান উপাসনার অংশ, তাই:
উপাসনামূলক নৈবেদ্য অনুগ্রহ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, ভয় দ্বারা নয়।
উপাসনামূলক নৈবেদ্য প্রেম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, পুরস্কার দ্বারা নয়।
উপাসনামূলক নৈবেদ্য উদার হয়, তা কৃপণ নয়।
উপাসনামূলক নৈবেদ্য নম্রতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, অহংকার দ্বারা নয়।
আমরা যেভাবে নৈবেদ্য সংগ্রহ করি সেটির উপাসনার মনোভাব তৈরিতে অবদান রাখা উচিত।
(৬) প্রভুর ভোজ
খ্রিষ্টের মৃত্যুর দিকে ফিরে তাকাই।
খ্রিষ্টের পুনরাগমনের অপেক্ষা করে।
যোগ্য উপায়ে পালন করা উচিত।
ভাবগম্ভীর এবং আনন্দপূর্ণ পদ্ধতিতে পালন করতে হবে।
এমন পদ্ধতিতে পালন করতে হবে যা মন্ডলীর একতাকে প্রতিফলিত করে।
৭ নং পাঠের অ্যাসাইনমেন্ট
(১) ৬ নং পাঠে আপনি পাঁচটি আলাদা বিষয়ের জন্য কিছু গান নির্বাচন করেছিলেন। এই পাঁচটি বিষয়ের প্রতিটীর জন্য ৩-৪টি শাস্ত্রীয় উল্লেখ খুঁজে বের করুন যা ওই বিষয়টি সম্পর্কে বলেছে। আপনার তালিকাগুলি পরের একটি পাঠে আপনার উপাসনা সভা পরিকল্পনা করার সময়ে ব্যবহৃত হবে।
ঈশ্বরের প্রকৃতির উপর ৩-৪টি পদ
যিশু এবং তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের উপর ৩-৪টি পদ
পবিত্র আত্মা এবং মন্ডলীর উপর ৩-৪টি পদ
ঈশ্বরের লোকেদেরকে একটি সমর্পিত, পবিত্র জীবনে আহ্বান জানায় এমন ৩-৪টি পদ
সুসমাচার প্রচার এবং মিশনের উপর ৩-৪টি পদ
(২) পরবর্তী পাঠের শুরুতে, এই পাঠের উপর ভিত্তি করে আপনি একটি পরীক্ষা দেবেন। প্রস্তুতির সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নগুলি ভালো করে অধ্যয়ন করুন।
৭ নং পাঠের পরীক্ষা
(১) উপাসনায় শাস্ত্রের গুরুত্ব দেখানোর জন্য তিনটি উদাহরণ তালিকাভুক্ত করুন।
(২) উপাসনার সভার তিনটি অংশের নাম লিখুন যেখানে শাস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
(৩) উপাসনা হিসেবে প্রচারের নীতিটির চারটি ব্যবহারিক তাৎপর্য তালিকাভুক্ত করুন।
(৪) প্রার্থনাকে সম্মিলিত উপাসনার অর্থপূর্ণ অংশ করে তোলার জন্য তিনটি ব্যবহারিক পরামর্শ তালিকাভুক্ত করুন।
(৫) উপাসনামূলক নৈবেদ্যের চারটি ঈশতাত্ত্বিক নীতি তালিকাভুক্ত করুন।
(৬) দান করা উপাসনার একটি কাজ হিসাবে চারটি ব্যবহারিক ধারণা তালিকাভুক্ত করুন।
(৭) ১ করিন্থীয় পত্রে স্বীকৃত প্রভুর ভোজের দু’টি দিক তালিকাভুক্ত করুন।
Free to print for ministry use. No changes to content, no profit sales.
SGC exists to equip rising Christian leaders around the world by providing free, high-quality theological resources. We gladly grant permission for you to print and distribute our courses under these simple guidelines:
No Changes – Course content must not be altered in any way.
No Profit Sales – Printed copies may not be sold for profit.
Free Use for Ministry – Churches, schools, and other training ministries may freely print and distribute copies—even if they charge tuition.
No Unauthorized Translations – Please contact us before translating any course into another language.
All materials remain the copyrighted property of Shepherds Global Classroom.