[1]পাস্টার রঞ্জন, অরিত্র, সায়ন, এবং অভীক পুরাতন নিয়ম থেকে উপাসনার ব্যাপারে কী শিখেছেন তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য পুনরায় মিলিত হয়েছেন।
রঞ্জন, যিনি ঐতিহ্যবাহী উপাসনাকে বেশি গুরুত্ব দেন, বলছেন, “আমার মনে হয় পুরাতন নিয়ম প্রমাণ করে যে আমার মন্ডলী সঠিকভাবে উপাসনা করছে। মন্দিরে উপাসনা ছিল আনুষ্ঠানিক এবং সংগঠিত। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করি।”
অরিত্র হেসে বললেন, “হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কি ভাববাদীরা যা বলেছিলেন তা পড়েছেন? মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উপাসনার কোনো অর্থই ছিল না! ঈশ্বরকে খুশি করে এমন উপাসনা হলো হৃদয় থেকে আসা উপাসনা। আমাদের সমসাময়িক উপাসনায় আমরা এটাই করি; আমরা নতুন প্রজন্মের হৃদয় স্পর্শ করছি।”
হতাশভাবে সায়ন বললেন, “আমরা যখন উপাসনা সম্পর্কে আমাদের অধ্যয়ন শুরু করেছিলাম তখনকার চেয়ে আমরা আর বেশি দূরে এগোইনি। ঈশ্বর কেন বলেন না, ‘তোমাদের এইভাবেই আমার উপাসনা করতে হবে?’”
অভিক উত্তর দিয়েছিল, “আমরা হাল ছাড়ব না। আমরা নতুন নিয়মের খ্রিষ্টবিশ্বাসী; হয়তো নতুন নিয়ম আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেবে। আসুন, নতুন নিয়মে উপাসনা অধ্যয়ন করি এবং দেখি এটি কী বলে।”
► নতুন নিয়মে উপাসনা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল? প্রারম্ভিক মন্ডলীর উপাসনা কীভাবে তাঁবু এবং মন্দিরের উপাসনা থেকে আলাদা ছিল? নতুন নিয়মের উপাসনা সম্পর্কে আপনি ইতিমধ্যে যা জানেন তা সংক্ষেপে বলুন।
“খ্রিষ্টীয় মন্ডলীর সর্বোচ্চ এবং একমাত্র অপরিহার্য কাজ হলো উপাসনা। মন্ডলীর অন্যান্য সমস্ত কাজ শেষ হয়ে গেলেও, কেবল এটিই স্বর্গে স্থায়ী হবে।”
- ডব্লিউ. নিকোলস (W. Nicholls)
সুসমাচার পুস্তকসমূহ: যিশু—আমাদের উপাসনার উদাহরণ এবং আমরা যাঁকে উপাসনা করি
নতুন নিয়মে যতবার “উপাসনা” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তার অর্ধেকই চারটি সুসমাচার পুস্তকে পাওয়া যায়। সুসমাচার আমাদের দেখায় যে যিশু হলেন উপাসনার ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ। সেগুলি আমাদের এটিও দেখায় যে তিনি আমাদের উপাসনার যোগ্য।
তাঁর মানব জীবনে যিশু ছিলেন উপাসনার সর্বোচ্চ আদর্শ
যিশু প্রকৃত উপাসনার আদর্শ স্থাপন করেছিলেন। যিশু শমরীয় নারীকে বলেছিলেন যে যারা আত্মায় ও সত্যে তাঁর উপাসনা করে ঈশ্বর তাদের অন্বেষণ করছেন (যোহন ৪:২৪)। তাঁর নিজের উপাসনার অনুশীলনে (শাস্ত্র পাঠ, প্রার্থনা, সমাজভবন এবং মন্দিরে উপস্থিতি), যিশু দেখিয়েছিলেন যে প্রকৃত অর্থে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করার অর্থ কী।
যিশু উপাসনার স্থানকে ভালোবাসতেন।
লূক যিশুর উপাসনার স্থানের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন। এমনকি ছোটোবেলাতেও যিশু মন্দিরকে তাঁর পিতার গৃহ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন (লূক ২:৪১-৪৯)। মন্দিরের উপাসনার শুচিতার প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল; তিনি দু’বার মন্দিরের অপব্যবহারকারীদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।[1]
তাঁর প্রকাশ্য পরিচর্যা কাজের প্রথম দিকে, যিশু তাঁর রীতি অনুসারে বিশ্রামবারে নাসরতের সমাজভবনে যেতেন (লূক ৪:১৬)। তাঁর পার্থিব পরিচর্যা কাজের সময় যিশু প্রায়শই সমাজভবনে যেতেন।
যিশু ঈশ্বর ছাড়া কাউকে বা কোনোকিছুকে উপাসনা করা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
প্রান্তরে যিশু ভ্রান্ত উপাসনার প্রলোভনকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
► মথি ৪:৯-১০ পদ পড়ুন।
সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে সৃষ্টির উপাসনা করার প্রলোভন সমগ্র শাস্ত্রের একটি নিরবচ্ছিন্ন বিষয়। পুরাতন নিয়মে এটি ছিল মূর্তিপূজার মূল। প্রকাশিত বাক্য ড্রাগন ও পশুর উপাসনা এবং ঈশ্বর ও মেষশাবকের উপাসনার মধ্যে পার্থক্য দেখায়। যিশু সৃষ্টির উপাসনা করতে অস্বীকার করেছিলেন।[2]
যিশু অভ্যাসগতভাবে প্রার্থনা করতেন।
যিশুর সমগ্র পরিচর্যাকালে প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুসমাচার পুস্তকগুলিতে পনেরো বার বলা হয়েছে যে যিশু প্রার্থনা করেছিলেন। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে, তিনি তাঁর পিতার সাথে একাকী পুরো রাত কাটিয়েছিলেন। বারোজন প্রেরিত-শিষ্যকে বেছে নেওয়ার আগে, তিনি সেই রাতটি প্রার্থনায় কাটিয়েছিলেন (লূক ৬:১২)। তাঁর শিষ্যদের সাথে তাঁর শেষ সময়কালে, যিশু শিষ্যদের জন্য এবং পরবর্তীতে যারা তাঁকে বিশ্বাস করবে তাদের সকলের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন (যোহন ১৭ অধ্যায়)। ক্রুশের মুখোমুখি হয়ে তিনি গেৎশিমানীতে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন (মথি ২৬:৩৬-৪২)। যিশুর উপাসনায় প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
যিশু প্রকৃত উপাসনা ব্যাখ্যা করেছিলেন।
নিজের কাজের মাধ্যমে উপাসনার আদর্শ তৈরি করার পাশাপাশি, যিশু ধারাবাহিকভাবে উপাসনার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি শমরীয় নারীকে সত্য উপাসনার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন। যিশু শিষ্যদের একটি মডেল প্রার্থনা শিখিয়েছিলেন এবং দৃষ্টান্তের মাধ্যমে প্রার্থনার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন (লূক ১১:৫-৮, লূক ১৮:১-১৪)।
► লূক ১১:১-৪ পদ পড়ুন।
যিশুর মডেল প্রার্থনাটি দেখায় যে প্রার্থনা অবশ্যই উপাসনার হৃদয় থেকে আসতে হবে। প্রার্থনা শুরু হয়, “তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক।” পবিত্র বলে মান্য হোক কথার অর্থ পবিত্র হিসেবে সম্মান করা। প্রার্থনায় আমরা ঈশ্বরকে পবিত্র বলে স্বীকার করি।
যিশু ভ্রান্ত উপাসনাকে তিরস্কার করেছিলেন।
যদি প্রকৃত উপাসনা আত্মায় এবং সত্যে উপাসনা হয়, তাহলে ভ্রান্ত উপাসনা হলো এমন যেকোনো কিছু যার মধ্যে ঘাটতি আছে। যিশু প্রত্যাখান করেছিলেন:
(১) ভণ্ডামিপূর্ণ উপাসনা
পর্বতের উপরে প্রদত্ত উপদেশে, যিশু সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ভুল কারণের জন্যও সঠিক কাজ করা সম্ভব। দরিদ্রদের দান করা, প্রার্থনা, এবং উপবাস--এ সবই উপাসনার দিক। যিশু তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন যারা অন্যদেরকে খুশি করার জন্য এই কাজগুলি করে; তারা ভণ্ড (মথি ৬:১-১৮)। প্রকৃত উপাসনাকারীরা ঈশ্বরকে উপসনা প্রদান করার একটি আকাঙ্খা থেকে এই কাজগুলিই থাকে।
মথি ২৩ অধ্যায়ে, যিশু সেই ধর্মীয় নেতাদের দোষীসাব্যস্ত করেছেন যারা উপাসনা বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দেয় কিন্তু তাদের হৃদয় ঈশ্বর থেকে অনেক দূরে। যিশু বলেছিলেন যে তাদের শিক্ষা সঠিক ছিল, কিন্তু তাদের হৃদয় ভুল ছিল; তারা ভণ্ড।
(২) আইনগত উপাসনা
একটি বিপদ হল ভণ্ডামিপূর্ণ উপাসনা; ঈশ্বরকে খুশি করার পরিবর্তে শ্রোতাদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে উপাসনা করা। আরেকটি বিপদ হল আইনবাদ; কিছু নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা পূরণের মাধ্যমে ঈশ্বরের অনুগ্রহ অর্জন করার উদ্দেশ্যে উপাসনা করা। আমরা যখন আমাদের উপাসনার মাধ্যমে ঈশ্বরের অনুগ্রহ অর্জন করতে চাই, তখন আমরা প্রকৃত উপাসনার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলি। উপাসনা এমন একটি কাজে পরিণত হয় যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের মঙ্গলভাবের প্রতি এক আনন্দপূর্ণ সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে আমরা ঈশ্বরের অনুমোদন অর্জন করি।
যিশু ইস্রায়েলের ধর্মীয় নেতাদের পরম্পরাগত প্রথাগুলি ভঙ্গ করে তাদের অসন্তুষ্ট করেছিলেন।[3] যিশু বিধান বা এমনকি বিধানের মূল চেতনা লঙ্ঘন করেননি; তিনি ফরিশীদের আইনবাদের মাধ্যমে বেড়ে ওঠা মানবিক প্রথাগুলি লঙ্ঘন করেছিলেন। ফরিশীদের কাছে এই প্রথাগুলি বিধানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা বিশ্বাস করত যে আইন পালনের দ্বারা ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করা যায়। এটি আইনবাদকে সংজ্ঞায়িত করে: প্রয়োজনীয়তা পূরণ করার মাধ্যমে ঈশ্বরের অনুগ্রহ অর্জনের প্রচেষ্টা। যিশু আইনবাদকে যতটা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, ততটাই ভণ্ডামিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
যিশু তাঁর ঈশ্বরত্বে উপাসিত হন
তাঁর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের পরে, যিশু পিতার দক্ষিণে বসে আছেন এবং ন্যায্য উপাসনা গ্রহণ করছেন (প্রকাশিত বাক্য ৫:১২-১৪)। পৌল এই রূপান্তরের ব্যাপারে ফিলিপীয় ২ অধ্যায়ে লিখেছেন। যিশুর স্বেচ্ছায় নিজেকে অবনত করার কারণে, তিনি এখন উচ্চে স্থাপিত হয়েছেন এবং উপাসিত হচ্ছেন।
সেই কারণে, ঈশ্বর তাঁকে সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত করলেন এবং সব নাম থেকে শ্রেষ্ঠ সেই নাম তাঁকে দান করলেন, যেন যীশুর নামে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালনিবাসী সকলে নতজানু হয় এবং পিতা ঈশ্বরের মহিমার জন্য প্রত্যেক জিভ স্বীকার করে যে, যীশু খ্রীষ্টই প্রভু। (ফিলিপীয় ২:৯-১১)
মথি ১৮:২০ পদে যিশু সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি উপাসনার যোগ্য। ইহুদি রীতি অনুযায়ী, প্রার্থনা ও উপাসনার জন্য সমাজভবনে ১০ জন পুরুষ সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল। যিশু তাঁর শিষ্যদেরকে বলেছিলেন, “কারণ যেখানে দুই কিংবা তিনজন আমার নামে একত্র হয়, সেখানে আমি তাদের মধ্যে উপস্থিত।” মন্ডলীতে, কতজন লোক উপস্থিত আছে তা নয়, বরং যিশুর উপস্থিতিই উপাসনা নির্ধারণ করে।
যারা তাঁর অলৌকিক কাজ দেখেছিল সেই জনতার উপর তাঁর প্রভাবের মাধ্যমে, যিশু দেখিয়েছেন যে তিনি উপাসনার যোগ্য। যখন তারা তাঁর অলৌকিক কাজ দেখেছিল, লোকেরা ঈশ্বরের প্রশংসা করেছিল, যা উপাসনার একটি কাজ। যারা তাঁর আরোগ্যদান দেখেছিল, তারা সকলেই অবাক হয়েছিল (মার্ক ১:২৩-২৭)।
শিষ্যদের সাথে তাঁর শেষ রাতে, যিশু নিস্তারপর্বের ভোজ খেয়েছিলেন। এই ভোজটি ইহুদি নিস্তারপর্ব ভোজের প্রথাগত প্যাটার্ন অনুসরণ করলেও যিশু এটিকে এক নতুন অর্থ দিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁর শিষ্যদেরকে বলেছিলেন যে রুটি “হল আমার শরীর যা তোমাদের জন্য উৎসর্গীকৃত” এবং “এই পানপাত্র আমার রক্তে নতুন নিয়ম” (লূক ২২:১৯-২০)।
► লূক ২২:১৩-২০ পদ পড়ুন।
তিনি তাদেরকে তাঁর স্মরণার্থে এটি করার আদেশ দিয়েছিলেন। প্রভুর ভোজ খ্রিষ্টের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যা হোল নিস্তারপর্বের যথাযথ পরিপূর্ণতা।
[1]যোহন ২:১৩-১৬ পদ প্রথম শুচিকরণের বিষয়ে বলছে। মথি ২১:১২-২৭, মার্ক ১১:১৫-১৭, এবং লূক ১৯:৪৫-৪৬ পদ তাঁর পার্থিব পরিচর্যা কাজের শেষ সপ্তাহ চলাকালীন এক দ্বিতীয় শুচিকরণের বিষয়ে বলছে।
[2]যিশু রোমীয় ১:২৫ পদে যে লোকেদের ব্যাপারে বলা হয়েছে তাদের মতো ছিলেন না।
[3]মথি ১২:১-১৪, লূক ১৩:১০-১৭, এবং যোহন ৫:৮-১৮, অন্যান্য পদে।
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
যিশু ভ্রান্ত উপাসনাকে তিরস্কার করেছিলেন। প্রকৃত উপাসনা নিয়ে তাঁর নিজস্ব উদাহরণ দেখায় যে আমাদের উপাসনার অবশ্যই আন্তরিক হওয়া উচিত, তা যেন অন্যদেরকে প্রভাবিত করতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে না হয়। প্রকৃত উপাসনা আবশ্যিক উদ্দেশ্য হলো পিতাকে সন্তুষ্ট করা, অন্যদেরকে সন্তুষ্ট করা নয়।
মন্ডলীর লিডারদের জন্য এটি একটি নিরন্তর প্রলোভন। যেহেতু প্রচার এবং উপাসনায় নেতৃত্বদান জনসমক্ষে করা হয়, ফলত আমরা উপাসনার পরিবর্তে কর্মশৈলী প্রদর্শনের জন্য প্রলুব্ধ হতে পারি। আমরা যখন ঈশ্বরকে সম্মান করার পরিবর্তে শ্রোতা বা দর্শকদের খুশি করার দিকে মনোনিবেশ করি, আমরা উপাসনার পরিবর্তে অনুষ্ঠান করি।
একজন লিডারের কাছে ভ্রান্ত উপাসনা করার প্রলোভনটি কী?
সারমন প্রচারের জন্য এমন একটি শাস্ত্রাংশ বেছে নেওয়া যেটি আমরা জানি যে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হবে
এমন একটি প্রার্থনা যা ঈশ্বরের চেয়ে শ্রোতাদের কাছে আরও বেশি কিছু জানায়
এমনভাবে দেওয়া একটি নৈবেদ্য যা দাতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে
এমন একটি সঙ্গীত যা ঈশ্বরের চেয়ে শিল্পীর কাছে গৌরব নিয়ে আসে
যিশুর শিক্ষা এবং উদাহরণ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত উপাসনা কেবল ঈশ্বরেরই প্রাপ্য। উপাসনা তাঁর সম্পর্কে, আমাদের সম্পর্কে নয়।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমার উপাসনার নেতৃত্বদানে কে সম্মানিত হয়? আমি কি ঈশ্বরের গৌরবের জন্য প্রচার করি, গান গাই, প্রার্থনা করি, এবং দান দিই, নাকি আমার নিজের গৌরবের জন্য? আমি কি প্রকৃতভাবে উপাসনা করছি?”
প্রেরিত: উপাসনা এবং সুসমাচার প্রচার
সুসমাচার প্রচারের সাথে উপাসনা নিবিড়ভাবে জড়িত। অবিশ্বাসীরা যখন সুসমাচার শোনে এবং তাতে সাড়া দেয় তখন তারা উপাসক হয়ে ওঠে। প্রেরিত পুস্তকটি উপাসনা এবং সুসমাচার প্রচারের মধ্যে যোগসূত্র দেখায়।
যিশাইয় ৬:৮ পদ দেখায় যে উপাসনার ফলে সুসমাচার প্রচার হয়; উপাসনার প্রতি যিশাইয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল “এই যে আমি। আমাকে পাঠান!” যখন আমরা প্রকৃত অর্থে উপাসনা করি, তখন আমরা সুসমাচার প্রচারের প্রতি এক আবেগ অর্জন করি। উপাসনার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে দেখি এবং ঈশ্বরের চোখ দিয়ে আমাদের জগতের চাহিদাগুলি দেখি। উপাসনা সুসমাচার প্রচারকদের সৃষ্টি করে।
উপাসনা মন্ডলীকে সুসমাচার প্রচারের জন্য অনুপ্রাণিত করে। মন্ডলী যখন অবিশ্বাসীদেরকে খ্রিষ্টের দিকে পরিচালিত করে, তখন নতুন বিশ্বাসীরাও উপাসনাকারী হয়ে ওঠে। এই নতুন উপাসনাকারীরা তখন সুসমাচার প্রচারের জন্য অনুপ্রাণিত হয়।
প্রেরিত পুস্তক এই প্রক্রিয়াটিকে কার্যকরভাবে দেখায়। পৌল ইফিষ নগরে প্রচার করার পর, লোকেরা ডায়ানা এবং হাতে তৈরি দেবতাদের উপাসনা থেকে সরে এসে সত্য ঈশ্বরের উপাসনায় মনোনিবেশ করেছিল (প্রেরিত ১৯:২৬-২৭)। আমরা যখন খ্রিষ্টকে প্রচার করি, তখন নতুন বিশ্বাসীরা রাজ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়; তারা উপাসনাকারী হয়ে ওঠে। সুসমাচার প্রচার উপাসনাকারীদের সৃষ্টি করে।
প্রকৃত উপাসনা সুসমাচার প্রচারকে অনুপ্রাণিত করে
প্রেরিত পুস্তকটি শুরু হয়েছে শিষ্যদের উপাসনা দিয়ে; তাঁরা একচিত্তে প্রার্থনায় নিজেদের নিবেদিত করেছিল (প্রেরিত ১:১৪)। প্রেরিত পুস্তকটি রোমে পৌলের সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। “সাহসের সঙ্গে তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে প্রচার করতেন এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন। কেউ তাঁকে বাধা দিত না” (প্রেরিত ২৮:৩১)।
প্রথম শতকের খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের উপাসনা তাদেরকে সুসমাচার প্রচারের দিকে পরিচালিত করেছিল। পৌল এবং বার্ণবার প্রতি আহ্বান উপাসনার পরিবেশেই ঘটেছিল।
তাঁরা যখন প্রভুর উপাসনা ও উপোস করছিলেন, পবিত্র আত্মা বললেন, “বার্ণবা ও শৌলকে আমি যে কাজের জন্য আহ্বান করেছি, সেই কাজের জন্য আমার উদ্দেশ্যে তাদের পৃথক করে দাও।" এভাবে তাঁরা উপোস ও প্রার্থনা শেষ করার পর, তাঁরা তাঁদের উপরে হাত রাখলেন ও তাঁদের বিদায় দিলেন। (প্রেরিত ১৩:২-৩)
প্রকৃত উপাসনা সুসমাচার প্রচারকে অনুপ্রাণিত করে।
কার্যকরী সুসমাচার প্রচার উপাসনাকারীদের সৃষ্টি করে
সমগ্র প্রেরিত পুস্তক জুড়ে শিষ্যরা উপাসনায় নিযুক্ত ছিলেন। পঞ্চাশত্তমীর দিন ৩,০০০ লোক পরিত্রাণ পেয়েছিল। এই নতুন বিশ্বাসীরা উপাসনাকারী হয়ে উঠেছিল; তারা প্রেরিতদের শিক্ষা এবং সহভাগিতা, রুটি ভাঙা এবং প্রার্থনায় নিজেদের নিবেদিত করেছিল (প্রেরিত ২:৪২)।
► প্রারম্ভিক মন্ডলীতে উপাসনার একটি চিত্র বোঝার জন্য প্রেরিত ২:৪২-৪৬ পদ পড়ুন।
ইহুদি খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা মন্দিরে উপাসনা অব্যাহত রেখেছিল।[1] এছাড়াও, ইহুদি খ্রিষ্টবিশ্বাসী এবং রূপান্তরিত অ-ইহুদিরা উপাসনার জন্য সমাজভবনে মিলিত হত। বেশিরভাগ শহরেই পৌল সমাজভবনে তার পরিচর্যা কাজ শুরু করেছিলেন, যেখানে যিশুকে পুরাতন নিয়মের প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা হিসেবে দেখিয়েছিলেন।[2] ব্যক্তিগত বাড়িতেও উপাসনা হত। বিশ্বাসীরা সহভাগিতা এবং উপাসনার জন্য বিভিন্ন বাড়িতে যেত (প্রেরিত ২:৪৬)। পৌলের চিঠিগুলিতে ঘরে ঘরে মিলিত মন্ডলীর প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল।[3] প্রারম্ভিক মন্ডলীর সুসমাচার প্রচারক উপাসনাকারীদের একটি নতুন দল তৈরি করেছিল।
মার্স পাহাড়ে (আরেয়পাগের সভায়) সুসমাচার প্রচার
মার্স পাহাড়ে (আরেয়পাগের সভায়) পৌলের বার্তা হলো একটি অতুলনিয় লেখনী যা সুসমাচার প্রচার এবং উপাসনার মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তা তুলে ধরে (প্রেরিত ১৭:১৬-৩৪)। এথেন্সে পৌল এমন একটি সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়েছিলেন যা মূর্তিপূজায় পূর্ণ ছিল। পৌল মূর্তির মিথ্যা উপাসনা এবং যিহোবার সত্য উপাসনার মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছিলেন।
এথেন্স নিবাসীরা খুবই ধর্মভীরু ছিল (প্রেরিত ১৭:২২)।
এথেন্সের লোকেরা উপাসনাকারী ছিল, কিন্তু তারা সত্য ঈশ্বরের উপাসনা করত না। তাদের উপাসনা ছিল মিথ্যা। কেবল উপাসনাই যথেষ্ট নয়; উপাসনা অবশ্যই সঠিক বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত হতে হবে।
তারা জানত না যে তারা কার উপাসনা করত। পৌল সেই প্রভুর কথা ঘোষণা করেছিলেন যাঁকে তারা খুঁজছিল। তিনি তাদের বলেছিলেন যে ঈশ্বর সমস্ত জাতিকে তাঁর কাছে আসার এবং তাঁকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই বাক্যাংশটি এমন একজনকে ইঙ্গিত করে যে অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে। ঈশ্বরের প্রতি মানুষের ক্ষুধা সুসমাচার প্রচারের জন্য একটি দরজা খুলে দিয়েছিল।
এথেন্স নিবাসীরা এক অযোগ্য ঈশ্বরের উপাসনা করেছিল
যিহোবার কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে বলে মানুষের হাতে তাঁর সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হয় এমন নয়। বরং তিনি স্বয়ং সমস্ত মানুষকে জীবন ও শ্বাস এবং সবকিছুই দান করেন (প্রেরিত ১৭:২৫)। এথেন্স নিবাসীদের উপাসনা ভ্রান্ত ছিল কারণ তাদের দেবতা অনুপযুক্ত ছিল। প্রকৃত ঈশ্বর সকলকে জীবন দেন; তাঁর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। আমরা ঈশ্বরের উপাসনা করি কারণ তিনি আমাদের উপাসনার যোগ্য, এমন নয় যে তাঁর আমাদের উপাসনা প্রয়োজন আছে।
পৌল মূর্তির সাথে প্রকৃত ঈশ্বরের বৈপরীত্য দেখিয়েছেন।
১। ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা। তিনি এই পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন... তিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর প্রভু (প্রেরিত ১৭:২৪)। তিনি মানুষের হাতে গড়া প্রতিমার মতো নন, তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কোনো বিদেশি ঈশ্বর নন (প্রেরিত ১৭:১৮); তিনি সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা।
২। ঈশ্বর নিকটবর্তী। তিনি আমাদের কারোর থেকেই দূরে নন (প্রেরিত ১৭:২৭)। যদিও ঈশ্বর অতীন্দ্রিয়, তবুও তিনি আমাদের জগতে প্রবেশ করেছেন এবং প্রত্যেক উপাসনাকারীর নিকটবর্তী।
৩। যারা অনুতাপ করা প্রত্যাখ্যান করে, ঈশ্বর তাদের বিচার করবেন (প্রেরিত ১৭:৩০-৩১)। সত্যে উপাসনা উপলব্ধি করে যে ঈশ্বর হলেন একজন ধার্মিক বিচারকর্তা যিনি কোনোরকম বিরুদ্ধাচরণ সহ্য করবেন না। আমাদের উপাসনায় আমরা নিজেদেরকে তাঁর সার্বভৌমত্বের কাছে সমর্পণ করি।
৪। যিশু উপাসনার যোগ্য তা দেখানোর জন্য ঈশ্বর যিশুকে মৃত্যু থেকে উঠিয়েছিলেন (প্রেরিত ১৭:৩১)। যিশুর স্বেচ্ছায় নিজেকে মৃত্যুর কাছে অবনত করেছিলেন; তিনি এখন পিতার দ্বারা উচ্চে স্থাপিত হয়েছেন, “যেন যীশুর নামে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালনিবাসী সকলে নতজানু হয় এবং পিতা ঈশ্বরের মহিমার জন্য প্রত্যেক জিভ স্বীকার করে যে, যীশু খ্রীষ্টই প্রভু” (ফিলিপীয় ২:১০-১১)।
এথেন্সে পৌলের বার্তা প্রতিমার মিথ্যা উপাসনার সাথে যিহোবার সত্য উপাসনার সুসমাচারের পার্থক্যের মুখোমুখি হয়েছিল। কার্যকর সুসমাচার প্রচার উপাসনাকারীদের সৃষ্টি করে।
[3]রোমীয় ১৬:৫, ১ করিন্থীয় ১৬:১৯, কলসীয় ৪:১৫, ফিলীমন ১:২
উপাসনার বিপদ: সুসমাচার প্রচার ছাড়া উপাসনা
বহু মন্ডলী মিশন এবং সুসমাচার প্রচার থেকে উপাসনাকে আলাদা করে দেখে। কিছু মন্ডলী বলে, “আমরা সুসমাচার প্রচারের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের মূল উদ্যম হলো হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো।” এই মন্ডলীগুলি উপাসনার প্রতি খুব কম মনোযোগ দেয়। তারা নিজেদেরকে সুসমাচার প্রচারকারী মন্ডলী হিসেবে দেখে। অন্যান্য কিছু মন্ডলী বলে, “আমরা বিশ্বাস করি মন্ডলীর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো উপাসনা। অন্যরা সুসমাচার প্রচার করতে পারে; আমাদের লক্ষ্য হলো উপাসনা।”
প্রেরিত পুস্তক দেখায় যে মন্ডলীকে উপাসনা এবং সুসমাচার প্রচার উভয়ের প্রতিই নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। প্রকৃত উপাসনা আমাদেরকে সুসমাচার প্রচারের প্রতি আবেগ দেয়। কার্যকরী সুসমাচার প্রচার নতুন উপাসনাকারীকে তৈরি করে।
আমাদের উপাসনাকে সুসমাচার প্রচার থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত নয়। যে উপাসনা সুসমাচার প্রচারকে অনুপ্রাণিত করে না তা সম্ভবত আত্মকেন্দ্রিক উপাসনায় পরিণত হতে পারে, যা মূলত আমাদের নিজস্ব অনুপ্রেরণার জন্য করা হয়। যে সুসমাচার প্রচার উপাসনার দিকে পরিচালিত করে না তা গভীরতাহীন খ্রিস্টবশ্বাসীদের তৈরি করবে, যারা প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরকে দেখতে ব্যর্থ হবে।
বাইবেলভিত্তিক উপাসনায়, আমরা সুসমাচার প্রচারের কাজের জন্য একটি নতুন উদ্যম লাভ করি। যিশাইয়’র মতো, ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একটি অভাবী জগতের দৃষ্টিভঙ্গিও থাকবে। যিশাইয়’র মতো, ঈশ্বরের প্রতি আমাদের উপাসনাপূর্ণ অঙ্গীকার আমাদেরকে এই কথা বলতে পরিচালিত করবে যে, “এই যে আমি। আমাকে পাঠান!”
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমার উপাসনা কি আমাকে অবিশ্বাসীদের কাছে সুসমাচার প্রচার করতে অনুপ্রাণিত করে? আমার মধ্যে কি নতুন উপাসনাকারীদেরকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে আসার উদ্যম আছে?”
পত্রাবলী: প্রারম্ভিক মন্ডলীতে উপাসনা
পুরাতন নিয়মে ইহুদি উপাসনার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, নতুন নিয়মে মন্ডলীতে উপাসনার জন্য খুব কম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।[1] নতুন নিয়মে উপাসনা সভার কোনো সম্পূর্ণ বিবরণ নেই, তবে পত্রগুলিতে প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় উপাসনার কিছু উপাদান দেখানো হয়েছে।
শাস্ত্রপাঠ
প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় উপাসনায় শাস্ত্রপাঠ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কলসীয় ৪:১৬ এবং ১ থিষলনীকীয় ৫:২৭ পদে পৌলের পত্রগুলিকে জনসমক্ষে পাঠ করার জন্য মন্ডলীগুলিকে নির্দেশ দেয়। ১ তিমথি ৪:১৩ পদে পৌল তিমথিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে তারা যেন জনসমক্ষে শাস্ত্রপাঠের প্রতি মনোযোগ দেয়।
শাস্ত্র পাঠের গুরুত্ব কলসীয় ৩:১৬ পদে দেওয়া হয়েছে, “তোমাদের অন্তরে খ্রীষ্টের বাক্য প্রচুর পরিমাণে অবস্থিতি করুক; তোমরা সমস্ত বিজ্ঞতায়।” গীতরচয়িতা আশীর্বাদযুক্ত ব্যক্তিকে বর্ণনা করেছেন; সে প্রভুর বিধানে আনন্দ করে এবং ধ্যান করে (গীত ১:২)। আমাদের সম্মিলিত উপাসনা দেখায় যে আমরা শাস্ত্রকে কতটা মূল্য দিই।
ঈশ্বরের বাক্য প্রচার
শাস্ত্র পাঠের পাশাপাশি, লিডার বাক্য প্রচারের জন্য দায়বদ্ধ ছিলেন (২ তিমথি ৪:১-৪, তীত ২:১৫)। ইষ্রার সময় থেকে শাস্ত্রবিদরা লোকেদের জন্য শাস্ত্র ব্যাখ্যা করতেন। ইষ্রা এবং তার সহকর্মীরা ঈশ্বরের পুস্তক ব্যবস্থা থেকে স্পষ্টভাবে পাঠ করতেন এবং সেটির অর্থ ব্যাখ্যা করতেন যাতে লোকেরা পাঠটি বুঝতে পারে (নহিমিয় ৮:৮)। নতুন নিয়মের যুগে ইহুদি সমাজভবনগুলি এই অনুশীলন অব্যাহত রেখেছিল (প্রেরিত ১৩:১৪-১৫)। শাস্ত্রের অর্থ ব্যাখ্যা করা হলো প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় প্রচারের ভিত্তি।
প্রেরিত পুস্তকে দেওয়া সারমনগুলি প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় প্রচারের বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে।[2] এই সারমনগুলিতে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে তা নিম্নরূপ:
যিশু ছিলেন পুরাতন নিয়মের ভাববাণীগুলির পরিপূর্ণতা।
যিশু ঈশ্বরের শক্তিতে অলৌকিক কাজ করেছিলেন।
যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তারপর মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত করা হয়েছিল।
যিশুকে এখন উচ্চকৃত করা হয়েছে এবং প্রভু করা হয়েছে।
যারা শুনবে তাদের সকলের অনুতপ্ত হওয়া উচিত এবং বাপ্তিষ্ম নেওয়া উচিত।
সমবেত প্রার্থনা
প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় উপাসনায় সমবেত প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল (১ তিমথি ২:১-৩)। অনেক পণ্ডিত বিশ্বাস করেন যে পৌলের পত্রগুলিতে অন্তর্ভুক্ত প্রার্থনাগুলি জনসভার উপাসনায় ব্যবহৃত হত। মন্ডলীর একসাথে “আমেন” বলা প্রার্থনাটির সাথে তাদের একমত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।[3]
গান গাওয়া
মন্দিরে গান গাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় উপাসনায় এটি একটি ভূমিকা অব্যাহত রেখেছিল। খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা তাদের ইহুদি উপাসনা থেকে যে গীতগুলি নিয়ে এসেছিল তার পাশাপাশি, নতুন স্তোত্রগুলি যিশুকে মশীহ হিসাবে প্রশংসিত করেছিল। ইফিষীয় ৫:১৯ পদ এবং কলসীয় ৩:১৬ পদে এর ইঙ্গিত রয়েছে। বহু বাইবেল স্কলার বিশ্বাস করেন যে ফিলিপীয় ২:৫-১১ পদটি প্রথম শতকের একটি খ্রিষ্টীয় স্তোত্র ছিল। এছাড়াও, লূক ১:৪৬-৫৫ পদে মরিয়মের গান এবং লূক ২:২৯-৩২ পদে শিমিয়োনের প্রার্থনা উপাসনা সভাগুলিতে গাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
নৈবেদ্য বা দান
কিছু কিছু ক্ষেত্রে, নৈবেদ্য সম্মিলিত উপাসনার অংশ ছিল। ১ করিন্থীয় ১৬:২ পদ এবং ২ করিন্থীয় ৯:৬-১৩ পদ করিন্থের মন্ডলীকে যিরুশালেমের দুর্দশাগ্রস্ত খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের জন্য দান সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়।
বাপ্তিষ্ম এবং প্রভুর ভোজ
বাপ্তিষ্ম এবং প্রভুর ভোজের অধ্যাদেশ ছিল উপাসনার অংশ। করিন্থীয়দের প্রভুর ভোজ উদযাপনের যে অপব্যবহার হয়েছিল তা সংশোধন করার জন্য পৌল লিখেছিলেন। খ্রিষ্টের বলিদানের স্মরণার্থের পরিবর্তে এটি একটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল। পৌল প্রভুর ভোজের গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। প্রভুর ভোজ খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র অনুষ্ঠানকে স্মরণ করে; এটিকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।[4]
উপাসনা সভার এই উপাদানগুলির ইঙ্গিতের বাইরে আমরা প্রথম শতকের খ্রিষ্টীয় উপাসনা সম্পর্কে খুব কমই জানি। পত্রগুলিতে উপাসনার জন্য, উপাসনার বিন্যাসের জন্য, প্রারম্ভিক মন্ডলীর সম্মিলিত উপাসনার অন্যান্য বিবরণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট ক্রম নির্ধারণ করা হয়নি। প্রারম্ভিক মন্ডলীতে বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পটভূমির প্রতিনিধিত্ব করার কারণে, সম্ভবত সম্মিলিত উপাসনা স্থানভেদে অনেক আলাদা ছিল। ইহুদি খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা সম্ভবত সমাজভবনে উপাসনার মতোই উপাসনার ধারা অব্যাহত রেখেছিল। অ-ইহুদি খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা ইহুদি রীতিনীতির সাথে পরিচিত ছিল না এবং হয়তো তারা ভিন্নভাবে উপাসনা করত। তবে এটি স্পষ্ট যে প্রারম্ভিক মন্ডলী শাস্ত্র এবং ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করা ও শিক্ষা দেওয়ার উপর খুব বেশি জোর দিত।
[1]এই বিষয়বস্তুর বেশিরভাগই Franklin M. Segler and Randall Bradely, Christian Worship: Its Theology and Practice. (Nashville: B&H Publishing, 2006), অধ্যায় ২ থেকে গৃহিত।
[2]প্রেরিত ২, ৭, ১০, ১৭ পদে প্রেরিত পুস্তকের গুরুত্বপূর্ণ সামনগুলি পাওয়া যায়।
[3]১ করিন্থীয় ১৪:১৬ এই অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে লেখা।
[4]মথি ২৮:১৮-২০, প্রেরিত ২:৩৮-৪১, ১ করিন্থীয় ১১:২০-৩৪
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
অনেক মন্ডলীতে প্রকাশ্যে শাস্ত্র পাঠ করা বিরল হয়ে পড়েছে। এমন কিছু ইভাঞ্জেলিক্যাল মন্ডলী দেখা অস্বাভাবিক নয় যেখানে কোনো সভা চলাকালীন শাস্ত্রের মাত্র কয়েকটি পদ পাঠ করা হয়। আমাদের উপাসনায় শাস্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শাস্ত্রভিত্তিক গান, বাইবেল পাঠ, অথবা সারমনে সতর্কতাসহ শাস্ত্রের ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে, আমাদের পিপল অফ দ্য বুক অর্থাৎ “পুস্তকের ব্যক্তি” হিসেবে পরিচিত হওয়া উচিত। বাইবেলকে অবশ্যই আমাদের উপাসনার একটি কেন্দ্রীয় স্থানে রাখতে হবে।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমার উপাসনায় কি সেই সমস্ত উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা প্রারম্ভিক মন্ডলীর উপাসনার অংশ ছিল?”
প্রকাশিত বাক্য: সমাদর হিসেবে উপাসনা
উপাসনা হলো প্রকাশিত বাক্যের বার্তার কেন্দ্রবিন্দু।
যোহন প্রভুর দিনে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ ছিলেন যেদিন তিনি আলফা এবং ওমেগা’র রব শুনেছিলেন (প্রকাশিত বাক্য ১:১০)।
প্রকাশিত বাক্যের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হলো যারা সিংহাসনে বিরাজমান সেই যিহোবার উপাসনা করে এবং যারা সেই পশুর উপাসনা করে তাদের মধ্যে বৈপরীত্য।
প্রকাশিত বাক্য প্রতিজ্ঞা করেছে যে ঈশ্বর তাঁর শত্রুদের পরাজিত করবেন, এবং সমস্ত জাতি তাঁর সামনে আসবে এবং তাঁর উপাসনা করবে (প্রকাশিত বাক্য ১৫:৪)।
[1]উপাসনা বোঝার জন্য প্রকাশিত বাক্য পুস্তকটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা একটি সহায়ক বিষয়। প্রথম শতকের খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা দু’টি পরস্পরবিরোধী দাবির সম্মুখীন হয়েছিল। একদিকে, তারা জানত যে যিশুখ্রিষ্ট হলেন প্রভু (ফিলিপীয় ২:১১)। খ্রিষ্টে বিশ্বাস যিশুখ্রিষ্টের কর্তৃত্ব এবং প্রভুত্বের প্রতি অঙ্গীকার দাবি করে। অপরদিকে, রোম সেই সাম্রাজ্যের কর্তৃত্বের অধীন সকলেই শপথপূর্বক ঘোষণা করতে বাধ্য করেছিল যে সিজারই হলেন তাদের প্রভু এবং দেবতা।
খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের পক্ষে ঈশ্বর ছাড়া অন্য কারো প্রতি চূড়ান্ত আনুগত্য প্রকাশ করা অসম্ভব ছিল। রোম এবং প্রথম শতকের খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মূল ছিল, “আমাদের উপাসনার যোগ্য কে?” এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত বাক্য বলছে, “যিশুই হলেন প্রভু।” এমনকি যে জগৎ তাঁর কর্তৃত্বকে স্বীকার করে না, সেখানেও যিশুই হলেন প্রভু। তিনি উপাসনার যোগ্য। প্রকাশিত বাক্য প্রকৃত উপাসনার একটি ছবিকে তুলে ধরে।
স্বর্গীয় উপাসনা ব্যর্থ উপাসনার বিপরীত
প্রকাশিত বাক্য এশিয়া মাইনর (বর্তমানে টার্কি)-র সাতটি মন্ডলীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে শুরু হয়েছে। এশিয়া মাইনর ছিল সম্রাটকে উপাসনার অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র। প্রকাশিত বাক্যে বর্ণিত প্রতিটি শহরেই রাজকীয় মন্দির ছিল। সম্রাটের উপাসনা এই প্রদেশ জুড়ে প্রায় সর্বজনীন ছিল।
সাতটি মন্ডলীর প্রতি বার্তাগুলি বেশ কয়েকটি মন্ডলীর উপাসনায় ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। সাতটি মন্ডলী ঈশ্বরের উপাসনা করলেও পাঁচটি মন্ডলীকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। তিরস্কারগুলি দেখায় যে এই মন্ডলীগুলি ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য উপাসনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১।প্রেমের অভাব প্রকৃত উপাসনাকে বাধা দেয়। ইফিষীয় মন্ডলী অনেক ভালো কাজ করেছিল, কিন্তু তারা তাদের প্রথম প্রেম ভুলে গিয়েছিল। উপাসনায় শূন্যতা এমন একটি চিহ্ন হতে পারে যা দেখায় যে আমরা আমাদের উপাস্য ঈশ্বরের প্রতি প্রেম হারিয়ে ফেলেছি।
২।ভ্রান্ত শিক্ষা প্রকৃত উপাসনাকে বাধা দেয়। পর্গাম এবং থুয়াতীরা মন্ডলী ভ্রান্ত শিক্ষা সহ্য করেছিল। এই বিপদ সেই মন্ডলীগুলিতে দেখা যায় যেখানে বাইবেলের সত্যের পরিবর্তে বিভিন্ন চিহ্নকাজ ও আশ্চর্যের স্থান রয়েছে।
৩।মৃত কাজকর্ম প্রকৃত উপাসনাকে বাধা দেয়। ঘুমন্ত প্রহরীরা আসন্ন শত্রুর আগমন দেখতে ব্যর্থ হওয়ায় সার্দি শহর দু’বার পরাজিত হয়েছিল।[2] যোহন সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে সার্দি মন্ডলী ঘুমিয়ে ছিল, কারণ সে তার সৎকর্মের উপর আস্থা রেখেছিল। উপাসনায় ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাৎ সার্দিকে তার অলসতা থেকে জাগিয়ে তুলবে।
৪। উদ্যমের অভাব প্রকৃত উপাসনাকে বাধা দেয়। লায়োদেকিয়া নাতিষীতোষ্ণ মনোভাব দেখিয়েছিল যা সমৃদ্ধির সময়ে মন্ডলী প্রায়শই দেখেছে। তাদের সম্পদ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা লায়দিকেয়াবাসীদের উদ্যমের অভাবকে উৎসাহিত করেছিল। প্রকৃত উপাসনা আমাদেরকে ঈশ্বরের উপর আমাদের নির্ভরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
স্বর্গীয় উপাসনা ঈশ্বরের প্রতি মনোযোগী
প্রকাশিত বাক্য ৪-৫ অধ্যায় দেখায় যে স্বর্গীয় উপাসনা ঈশ্বর এবং তাঁর মহিমার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। স্বর্গীয় উপাসনাকারীরা অনন্তকালীন রাজা এবং উত্থিত মেষশাবকের উপাসনা করে।
আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে একজন স্বর্গদূত যোহনকে বলছেন, “উপাসনায় তোমাদের আরো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার জন্য আমরা কি এমন কিছু পরিবর্তন করতে পারি?” অবশ্যই না! উপাসনা ঈশ্বরকে নিয়ে, আমার বিষয়ে নয়। উপাসনা উপাসনাকারীকে আশীর্বাদ করে, কিন্তু এটি উপাসনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। উপাসনার উদ্দেশ্য ঈশ্বরকে সম্মান করা। ঈশ্বরের সিংহাসনের চারপাশে উপাসনাকারীরা ঈশ্বরের প্রশংসার স্তোত্র গায়:
প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান, মহৎ ও বিস্ময়কর তোমার কর্মসকল; যুগপর্যায়ের রাজা, ন্যায়সংগত ও সত্য তোমার যত পথ। হে প্রভু, কে না তোমাকে ভয় করবে ও তোমার নামের মহিমা করবে? কারণ কেবলমাত্র তুমিই পবিত্র। সর্বজাতি এসে তোমার সামনে উপাসনা করবে, কারণ তোমার ধর্মময় ক্রিয়াকলাপ প্রকাশিত হয়েছে। (প্রকাশিত বাক্য ১৫:৩-৪)
স্বর্গীয় উপাসনা ঈশ্বরের উপস্থিতিতে হয়। আদম এবং হবাকে উদ্যান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সময় থেকেই মানুষ ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মন্দের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে আবারও উপাসনা অনুষ্ঠিত হবে।
দেখো, এখন মানুষের মাঝে ঈশ্বরের আবাস, তিনি তাদের সঙ্গে বসবাস করবেন। তারা তাঁর প্রজা হবে এবং ঈশ্বর স্বয়ং তাদের সঙ্গে থাকবেন ও তাদের ঈশ্বর হবেন। (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩)
স্বর্গীয় উপাসনা প্রকৃত বাস্তবতাকে দেখায়
যোহন যখন প্রকাশিত বাক্য লিখেছিলেন তখন তিনি পাটম দ্বীপে নির্বাসিত ছিলেন। সমগ্র রোম সাম্রাজ্য জুড়ে খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা নির্যাতন সহ্য করছিল। একটি পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ভবিষ্যত ছিল অন্ধকার। তবে, প্রকাশিত বাক্য পার্থিব ঘটনাগুলিকে এক স্বর্গীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখায়।[3]
পৃথিবীতে আমরা ইতিহাসের কেবল একটি দিক দেখি। আমরা এটি ভাবতে প্রলোভিত হই যে আমাদের চারপাশের জগতই হলো চূড়ান্ত বাস্তবতা। উপাসনা এবং স্বর্গকে বাস্তব জগতের সংগ্রাম থেকে অনেক দূরে বলে মনে হয়। প্রকাশিত বাক্য ৪, ৫, এবং ১৫ অধ্যায়ে স্বর্গীয় উপাসনার যে ঝলকগুলি দেখা যায় তা আমাদেরকে বাস্তব জগতের একটি ছবি দেখায়।
খ্রিষ্টীয় কর্মীদের জন্য, প্রকাশিত বাক্য হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণকারী যে এই জগতের কষ্টভোগ সাময়িক। উপাসনা বাস্তবতা থেকে সাপ্তাহিক পলায়ন নয়; বরং, উপাসনা ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবতাকে দেখায় - এবং এটি আমাদের জগৎ সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে রূপান্তরিত করে। প্রকাশিত বাক্যে ঈশ্বর বলেছেন, “পরিস্থিতি যেমন মনে হয় তেমন নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়, শয়তান জয়ী হয়নি, মন্দ জয়ী হয়নি। দরজা দিয়ে তাকাও এবং বাস্তবতার এক ঝলক দেখো। ঈশ্বর তাঁর সিংহাসনে বিরাজমান।”[4]
[2]এটি ঘটেছিল যখন খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৭ সালে সাইরাস (Cyrus) আক্রমণ করেছিল, এবং আবার যখন তৃতীয় এন্টিওকাস (Antiochus III) খ্রিষ্টপূর্ব ২১৪ সালে আক্রমণ করেছিল।
[3]উদাহরণস্বরূপ: ৬:১-৭:৮ পদ পৃথিবীতে; ৭:৯-৮:৬ স্বর্গে। ৮:৭-১১:১৪ পদ পৃথিবীতে; ১১:১৫-১৯ স্বর্গে।
[4]David Jeremiah, Worship (CA: Turning Point Outreach, 1995), 72
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
“তিনি পুনরুত্থিত!” “তিনি প্রভু!” এই ঘোষণাগুলিই হলো উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু। পুনরুত্থানই ছিল সেই বিষয় যা যিশুকে প্রভু হিসেবে ঘোষণা করেছিল (রোমীয় ১:৪)।
প্রারম্ভিক মন্ডলী প্রত্যেক রবিবারকে পুনরুত্থানের উদযাপন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল; প্রত্যেক রবিবারই ছিল ইস্টার। খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা রবিবারে উপবাস করত না; রবিবার ছিল এক উদযাপনের দিন।
আজকের দিনে, আমাদের উপাসনাও উদযাপনের একটি সময় হওয়া উচিত। হ্যাঁ, মহীয়ান সদাপ্রভুর সান্নিধ্যে প্রবেশের সাথে এক ধরণের ভাবগাম্ভীর্য জড়িত আছে, তবে সেখানে আনন্দও জড়িত কারণ আমরা পুনরুত্থিত প্রভুকে উদযাপন করি। আমাদের উপাসনায় উদযাপনের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
উপাসনার মধ্যে রয়েছে প্রশংসার গান এবং সদস্যদের জীবনে ঈশ্বরের অনুগ্রহের সাক্ষ্য। নাইজেরিয়ার একটি মন্ডলী নৈবেদ্য প্রদানের সময়টি উদযাপন করে। নৈবেদ্য সংগ্রহের সময় সদস্যরা মন্ডলীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। এই উপাসনাকারীরা পুনরুত্থানের আনন্দ জানে। উপাসনার মধ্যে মৃত্যুর উপর খ্রিষ্টের বিজয়ের মাধ্যমে আমরা যে বিজয় অর্জন করেছি তা উদযাপনের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমার উপাসনা কি একটি উদযাপন নাকি কেবলই একটি কর্তব্য? আমি কি উপাসনায় প্রবেশ করে আনন্দিত হই, নাকি কেবল একজন খ্রিষ্টবিশ্বাসী হিসেবে আমার দায়িত্ব হিসেবে আমি উপাসনায় অংশগ্রহণ করি?”
ব্যক্তিগত প্রয়োগ
যে ঈশ্বরকে আমরা উপাসনা করি, তাঁকে নিয়ে কিছুক্ষণ ধ্যান করুন। শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপারে কী বলা হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করুন।
তিনিই সেই মেষশাবক যাঁকে হত্যা করা হয়েছিল,
রাজাদের রাজা, এবং প্রভুদের প্রভু!
[1]এটি Vernon Whaley, Called to Worship. (Nashville: Thomas Nelson, 2009), 331-333 থেকে গৃহিত।
উপসংহার: প্রেরিত যোহনের সাক্ষ্য
“আমার নাম যোহন। আমার জীবন উপাসনার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। নাসরতের যিশুর সাথে আমার প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকেই আমি একজন উপাসনাকারী।
“রূপান্তরের পর্বতে আমি ছিলাম। আমরা স্বর্গ থেকে এক রব শুনেছিলাম, আমরা তাঁর মহিমা দেখেছিলাম এবং আমরা উবুড় হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, এবং আমরা ভয় পেয়েছিলাম (মথি ১৭:৬)। আমরা যথাযথভাবে উপাসনা করতে পারিনি। দুঃখভোগের সপ্তাহ চলাকালীন আমাদের কাজকর্ম দেখিয়েছিল যে আমরা পর্বতে যা দেখেছিলাম তা বুঝতে পারিনি।
“আমি গালীলের সেই পর্বতে ছিলাম যেখানে যিশু পুনরুত্থানের পর আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমরা উপাসনা করেছিলাম, যদিও কেউ কেউ সন্দেহ করেছিল (মথি ২৮:১৭)। আমরা যথাযথভাবে উপাসনা করতে পারিনি। আমরা জানতাম যে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন, কিন্তু আমরা এর অর্থ কিছুই বুঝতে পারিনি।।
“আমি সেই উপরতলার ঘরে ছিলাম যেখানে আমরা সমবেতভাবে নিজেদেরকে প্রার্থনায় নিয়োজিত করেছিলাম (প্রেরিত ১:১৪)। যখন আমরা উপাসনা করছিলাম, পবিত্র আত্মা আমাদের উপর নেমে এসেছিলেন। উপাসনা সুসমাচার প্রচারের প্রেরণা হয়ে উঠেছিল; আমরা যিরুশালেম, যিহুদিয়া এবং শমরিয়া এবং পৃথিবীর শেষ প্রান্তে সুসমাচার নিয়ে গিয়েছিলাম।
“পাটম দ্বীপে নির্বাসনকালে, প্রভুর দিনে আমি যখন পবিত্র আত্মায় আবিষ্ট ছিলাম, তখন আমার পিছনে তূরীধ্বনির মতো এক উচ্চ কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিলাম। এটি ছিল সেই আলফা এবং ওমেগা, সেই প্রথম ও শেষের কন্ঠস্বর (প্রকাশিত বাক্য ১:১০-১১)।
“আমি সেখানে ছিলাম যখন ঈশ্বর স্বর্গের এক দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং আমাকে ঈশ্বরের সিংহাসনের চারপাশে হওয়া উপাসনা দেখার অনুমতি দিয়েছিলেন।
“আমি সেই নতুন যিরুশালেমে চিরকাল বাস করব যা স্বর্গ থেকে, ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছে (প্রকাশিত বাক্য ২১:২)। সেই শহরে, আমাদের উপাসনা অবশেষে নিখুঁত হবে কারণ আমরা তাঁর মুখ দেখব, যাঁকে আমরা উপাসনা করি। স্বর্গে, ‘মানুষের মাঝে ঈশ্বরের আবাস, তিনি তাদের সঙ্গে বসবাস করবেন। তারা তাঁর প্রজা হবে এবং ঈশ্বর স্বয়ং তাদের সঙ্গে থাকবেন ও তাদের ঈশ্বর হবেন।’ (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩)।
“আমি যোহন। এবং আমি অনন্তকাল আমার ঈশ্বর এবং মুক্তিদাতার উপাসনায় অতিবাহিত করব!
ব্যক্তিগত প্রয়োগ
এটি পাঠটি শেষ করার আগে কিছুক্ষণ উপাসনা করুন। প্রকাশিত বাক্য ৪, ৫, এবং ১৫ বা গীত ১৯ অধ্যায়ের গীতগুলি পড়ুন। একটি গান করুন যা ঈশ্বরের প্রশংসা করে। একটি সমাদরের প্রার্থনা করুন। ঈশ্বর আপনাকে যা বলছেন তা শুনুন। প্রকৃতভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করার জন্য কিছুটা সময় নিন।
গ্রুপে আলোচনার জন্য
► এই পাঠের ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়টি আলোচনা করুন:
কিংশুক একটি মন্ডলীতে পাস্টার হিসেবে নিযুক্ত যেটি সুসমাচার প্রচারের কাজে উদ্যমী। প্রতি মাসেই নতুন রূপান্তরিত ব্যক্তিরা বাপ্তাইজিত হয়। মন্ডলীটিতে এটি একটি উত্তেজনাপূর্ণ সময়।
তবে, কিংশুক উদ্বিগ্ন যে মন্ডলী প্রকৃতভাবে উপাসনা করছে না। অধিকাংশ প্রচার অবিশ্বাসী এবং নতুন রূপান্তরিতদের জন্যকরা হয়। নতুন লোকেরা গানগুলি জানে না বলে অপূর্ব স্তোত্রগুলি ব্যবহার করা কঠিন। কিংশুক ভীত যে তাঁর মন্ডলী হয়তো আকারে বড়ো হবে কিন্তু আত্মিক গভীরতায় অগভীর হবে। তিনি উপাসনার উপর আরো বেশি মনোযোগ দিতে চান। মন্ডলীর উপাসনাকে আরো গভীর করার সাথে সাথে সুসমাচার প্রচারের উপর জোর বজায় রাখার জন্য কী করা যেতে পারে তা নিয়ে কিংশুকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
(১) সুসমাচার পুস্তকগুলিতে যিশু পিতার উপাসনা করেছেন এবং নিজে ঈশ্বর হিসেবে উপাসিত হন।
যিশু উপাসনার জন্য একটি আদর্শ প্রদান করেছেন।
যিশু ভ্রান্ত উপাসনার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
যিশু প্রার্থনার গুরুত্বকে তুলে ধরেছিলেন।
যিশু অনন্তকাল ধরে উপাসিত হবেন।
(২) প্রেরিত পুস্তকটি উপাসনা এবং সুসমাচার প্রচারের মধ্যে সম্পর্ককে তুলে ধরে।
প্রকৃত উপাসনা সুসমাচার প্রচারকে অনুপ্রাণিত করে।
কার্যকর সুসমাচার প্রচার উপাসনাকারীদের সৃষ্টি করে।
যে উপাসনা সুসমাচার প্রচারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে।
(৩) পত্রগুলি প্রারম্ভিক মন্ডলীর উপাসনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলিকে দেখায়। প্রারম্ভিক মন্ডলীর উপাসনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল:
শাস্ত্র পাঠ
ঈশ্বরের বাক্য প্রচার
সমবেত প্রার্থনা
গান গাওয়া
নৈবেদ্য বা দান
বাপ্তিষ্ম
প্রভুর ভোজ
(৪) প্রকাশিত বাক্য দেখায় যে উপাসনা হলো ঈশ্বরের সমাদর করা।
উপাসনা উপাসনাকারীকে আশীর্বাদ করে, কিন্তু সেটি উপাসনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়।
উপাসনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ঈশ্বরকে সম্মানিত করা।
স্বর্গীয় উপাসনা আমাদের দেখায় যে, আমরা যে জগতকে দেখি সেটি চূড়ান্ত বাস্তবতা নয়।
৪ নং পাঠের অ্যাসাইনমেন্ট
(১) এই পাঠ থেকে উপাসনার তিনটি নীতি তালিকাভুক্ত করুন। প্রতিটি নীতির জন্য, আপনার মন্ডলীতে নীতিটি প্রয়োগ করার ব্যবহারিক উপায়গুলি নিয়ে আলোচনা করে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন।
(২) পরবর্তী পাঠের শুরুতে, এই পাঠের উপর ভিত্তি করে আপনি একটি পরীক্ষা দেবেন। প্রস্তুতির সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নগুলি ভালো করে অধ্যয়ন করুন।
৪ নং পাঠের পরীক্ষা
(১) যিশু যে তিনটি উপায়ে প্রকৃত উপাসনার জন্য আদর্শ প্রদান করেছিলেন, তা তালিকাভুক্ত করুন।
(২) প্রকৃত উপাসনা সম্বন্ধে যিশুর শিক্ষা এবং উদাহরণ আমাদেরকে কী স্মরণ করিয়ে দেয়?
(৩) কোন দু’টি বিবৃতি উপাসনা এবং সুসমাচার প্রচারের মধ্যে সম্পর্কের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে?
(৪) প্রেরিত ১৭ অধ্যায়ে এথেন্সের মিথ্যা উপাসনার বর্ণনা কীভাবে দেওয়া হয়েছে?
(৫) প্রেরিত ১৭ অধ্যায়ে প্রকৃত ঈশ্বরকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
(৬) পত্রাবলীতে প্রারম্ভিক খ্রিষ্টীয় উপাসনার পাঁচটি উপাদান তালিকাভুক্ত করুন।
Free to print for ministry use. No changes to content, no profit sales.
SGC exists to equip rising Christian leaders around the world by providing free, high-quality theological resources. We gladly grant permission for you to print and distribute our courses under these simple guidelines:
No Changes – Course content must not be altered in any way.
No Profit Sales – Printed copies may not be sold for profit.
Free Use for Ministry – Churches, schools, and other training ministries may freely print and distribute copies—even if they charge tuition.
No Unauthorized Translations – Please contact us before translating any course into another language.
All materials remain the copyrighted property of Shepherds Global Classroom.