প্রতি মাসে একদল পাস্টার তাদের মন্ডলীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য মিলিত হন। সম্প্রতি তারা উপাসনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উপাসনার বিষয়ে এই পাস্টারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। যদিও তারা একই ধর্মতত্বে বিশ্বাসী, তবুও উপাসনার ধরণ সম্পর্কে তাদের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
রঞ্জন এমন একটি মন্ডলীর পাস্টার যারা উপাসনার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করে। অভীক এমন একটি ক্রমবর্ধমান মন্ডলীতে কাজ করেন যা উপাসনায় অনেক সমসাময়িক ধারণা ব্যবহার করে। সায়ন এখনো তাঁর মন্ডলীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ধরণের উপাসনা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এই পাস্টাররা উপাসনা সম্পর্কে অনেক আলোচনা করেছেন, কিন্তু উপাসনার মৌলিক নীতিগুলিতে একমত হওয়ার চেষ্টায় তাঁরা মূলত হতাশ।
আজকে অভীক বলছেন, “হয়তো আমরা এটাকে ভুলভাবে দেখছি। আমরা বারবার জানতে চাইছি, ‘আমরা কোন ধরণের উপাসনা উপভোগ করি? আমরা কীভাবে উপাসনা করতে চাই?’ হয়তো আমাদের জানতে চাওয়া উচিত, ‘ঈশ্বর আমাদের থেকে কীভাবে উপাসনা চান? তিনি কোন ধরণের উপাসনা উপভোগ করেন? ঈশ্বর যদি উপাসনা পরিকল্পনা করতেন, তাহলে তা কেমন হতো?’ যদি আমরা জানতে পারি যে বাইবেলের উপাসনা কেমন ছিল, তাহলে এটি আমাদের আজকের উপাসনার জন্য একটি নমুনা দিতে পারে।”
► যদি ঈশ্বর উপাসনা পরিকল্পনা করতেন, তাহলে তা কেমন হতো? বাইবেলের উপাসনা সম্পর্কে আপনি ইতিমধ্যে যা জানেন তা সংক্ষেপে বলুন।
ভূমিকা: ঈশ্বর যথার্থ উপাসনা চান
২ নং পাঠে আমরা প্রকাশিত বাক্য থেকে দেখেছিলাম যে প্রকৃত উপাসনা হলো এক পবিত্র ঈশ্বরের উপাসনা। আমরা গীত ১৫ অধ্যায়ে দেখেছিলাম যে ঈশ্বর চান যে তাঁর উপাসনাকারীরা পবিত্র হোক। ৩ নং পাঠে আমরা জানতে চাই, “কীভাবে একজন উপাসনাকারী একজন পবিত্র ঈশ্বরের কাছে আসে?”
কিছু লোক বলে যে আমরা কীভাবে উপাসনা করি তা নিয়ে ঈশ্বর পরোয়া করেন না; তিনি কেবল দেখেন যে আমাদের হৃদয় সঠিক আছে কিনা। এটি সত্য যে উপাসনার মূলে রয়েছে হৃদয়। কিন্তু, শাস্ত্র থেকে আমাদের কাছে যথেষ্ট সাক্ষ্য রয়েছে যে কীভাবে তাঁকে উপাসনা করা হয় সে সম্পর্কে ঈশ্বর অত্যন্ত যত্নশীল।
উপাসনার ধরণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের উপাসনা ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের ধারণার উপর প্রভাব ফেলে। পূর্ববর্তী পাঠে আমরা দেখেছি যে ঈশ্বরের একটি বিকৃত চিত্র বিকৃত উপাসনার দিকে পরিচালিত করে। এটিও সত্য যে বিকৃত উপাসনা আমাদের ঈশ্বরের চিত্রকে বিকৃত করে। যখন ইস্রায়েলীয়রা কনানীয়রা যেভাবে তাদের দেবতাদের উপাসনা করে সেইভাবে যিহোবার উপাসনা করেছিল, তখন তারা দ্রুত বিশ্বাস করেছিল যে ঈশ্বরের প্রকৃতি কনানীয়দের দেবতাদের মতোই। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে ঈশ্বর প্রতিশোধপরায়ণ এবং অনাস্থাভাজন, ঠিক কনানীয়দের দেবতাদের মতো।[1]
উপাসনার ধরণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা কীভাবে উপাসনা করি তা প্রায়শই আমরা কেন উপাসনা করি তা প্রতিফলিত করে। প্রেমপূর্ণ হৃদয় ঈশ্বরকে সম্মানিত করে এমন উপাসনা করতে উল্লাসিত হয়; অনিচ্ছুক আনুগত্যের হৃদয় ঈশ্বরের পদ্ধতিতে নয়, বরং আমার পদ্ধতিতে উপাসনা করতে চায়।
অনেক কলেজের ক্লাসে রিসার্চ পেপারটি দেখতে কেমন হবে তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা থাকে। তাদের জন্য একটি কভার পেজ, ফুটনোট এবং একটি নির্দিষ্ট মার্জিন প্রয়োজন। এই বিবরণগুলি পেপারটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়; বিষয়বস্তুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, অনেক শিক্ষক লক্ষ্য করেছেন যে যে শিক্ষার্থীরা বিস্তারিত বিষয়গুলিতে সতর্ক থাকে, তারা সাধারণত বিষয়বস্তুর বিষয়েও সতর্ক থাকে; তারা তাদের সেরাটা দিতে চায়। অন্যদিকে, যে শিক্ষার্থীরা এই প্রয়োজনীয়তাগুলি উপেক্ষা করে, সে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়বস্তুরও প্রতি অসাবধান থাকে। পেপারের ধরণ মূলত পেপারটির বিষয়বস্তুকে প্রতিফলিত করে। আমরা যেভাবে উপাসনা করি তা মূলত আমাদের হৃদয়ের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। আমরা কীভাবে উপাসনা করি তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের উপাসনার কারণের সাথে সম্পর্কিত। এই কারণে, আমরা কীভাবে উপাসনা করি তা নিয়ে ঈশ্বর চিন্তা করেন।
কয়িন সদাপ্রভুর কাছে এক নৈবেদ্য এনেছিল। কয়িন ক্ষেতে কাজ করত। সে ভূমির ফসল নিয়ে এসেছিল, কিন্তু সদাপ্রভুর কয়িন এবং তার নৈবেদ্যের প্রতি কোনো মনোযোগই দেননি। কয়িনের উপাসনায় ব্যর্থতা তার হৃদয়ের মনোভাব প্রকাশ করেছিল। কয়িনের নৈবেদ্য তার নিজের জন্য সুবিধাজনক ছিল, কিন্তু ঈশ্বর তার উপাসনা গ্রহণ করেননি (আদি পুস্তক ৪:১-৫)।
হারোণ যিহোবার উপাসনা করার জন্য একটি সোনার বাছুর তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আগামীকাল সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি উৎসব হবে” (যাত্রা পুস্তক ৩২:১-৫)। সম্ভবত হারোণ নিজেকে নিশ্চিত করেছিলেন যে তিনি এমনভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করতে পারেন যা লোকেদেরকে খুশি করবে, কিন্তু ঈশ্বর তার উপাসনা গ্রহণ করেননি।
[2]নাদব ও অবীহূ ইস্রায়েলের ঈশ্বরকে সীনয় পর্বতে দেখেছিল (যাত্রা পুস্তক ২৪:১-১১)। মোশি ছাড়া অন্য কারোর চেয়ে তারা ঈশ্বরের আরো কাছে ছিল, কিন্তু সমাগম তাঁবুতে যাজক হিসেবে তাদের সেবার প্রথম দিনেই তারা সদাপ্রভুর সামনে অননুমোদিত আগুন উৎসর্গ করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায়, সদাভুর কাছ থেকে আগুন তাদের গ্রাস করেছিল। মোশি তাদের শোকাহত পিতাকে ঈশ্বরের বিচার ব্যাখ্যা করেছিলেন; “সদাপ্রভু এমন কথাই বলেছিলেন যখন তিনি আমাকে বলেছিলেন: “ ‘যারা আমার নিকটবর্তী হয়, তাদের আমি আমার পবিত্রতা দেখাব ও সব মানুষের দৃষ্টিতে আমি সম্মানিত হব” (লেবীয় পুস্তক ১০:১-৭)। এই যাজকরা ঈশ্বরের আজ্ঞা অনুসরণ করার পরিবর্তে তাদের নিজেদের পদ্ধতিতে ধূপ উৎসর্গ করেছিল। ঈশ্বর তাদের উপাসনা গ্রহণ করেননি।
উষীয় একজন মহান রাজা ছিলেন। তিনি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তাই করতেন। ২ বংশাবলি তাঁর রাজত্বকে এইভাবে ব্যাখ্যা করে, “দূর দূর পর্যন্ত তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ যতদিন না তিনি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন, ততদিন তিনি প্রচুর সাহায্য পেয়েছিলেন” (২ বংশাবলি ২৬:১৫)। দুঃখজনকভাবে, উষীয়ের কাহিনীর সমাপ্তি এটি ছিল না। “কিন্তু শক্তিশালী হয়ে ওঠার পর উষিয়ের অহংকারই তাঁর পতনের কারণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি তিনি অবিশ্বস্ত হলেন, এবং ধূপবেদিতে ধূপ পোড়ানোর জন্য তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করলেন” (২ বংশাবলি ২৬:১৬)। তিনি নিজের মতো করে ঈশ্বরের উপাসনা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন (২ বংশাবলি ২৬:১-২১)। ঈশ্বর তার উপাসনা গ্রহণ করেননি।
নির্বাসন-পরবর্তীকালে ইহুদিরা মন্দিরে বিকৃত বলিদান নিয়ে এসেছিল। যথাযথ বলিদান আনার ব্যর্থতা তাদের হৃদয়ের বেপরোয়া মনোভাব প্রকাশ করেছিল। তারা প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরকে ভালোবাসত না, তাই ঈশ্বর তাদের উপাসনা গ্রহণ করেননি (মালাখি ১:৬-১৪)।
ক কীভাবে তিনি উপাসিত হচ্ছেন ঈশ্বর সে বিষয়ে যত্নশীল। এই উদাহরণগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের নিজেদের উপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে, আমরা এমনভাবে ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াতে পারব না যা তাঁকে সম্মান করে। আমাদের কাছে যা উপযুক্ত বলে মনে হয় তা ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। উপাসনা করার জন্য তাঁর নির্দেশনা অবশ্যই আমাদের গ্রহণ করতে হবে।
যেহেতু উপাসনা মানে ঈশ্বরকে সম্মান প্রদান করা, তাই আমাদের উপাসনা ঈশ্বরের চরিত্রের দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে, আমাদের আকাঙ্খার দ্বারা নয়। ঈশ্বরের কাছে কোনটি সন্তোষজনক তা আমরা নিজেরা নির্ধারণ করতে পারি না; ঈশ্বরকে খুশি করে এমনভাবে উপাসনা করার পদ্ধতি শিখতে আমাদেরকে ঈশ্বরের বাক্য পড়তে হবে।
[1]মীখা ৬:৬-৭ পদে ধর্মীয় নেতারা যিহোবাকে শিশুবলি দিয়ে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা মনে করেছিল যে যিহোবাও মোলকের চাহিদা মতো শিশুবলি প্রত্যাশা করেন।
“যদি তুমি পুরাতন নিয়মের একজন যাজক হতেন, এবং আপনি এখন যেভাবে ঈশ্বরের সেবা করছেন, সেইভাবে যদি তাঁর সেবা করতেন, তাহলে প্রভুর আপনাকে হত্যা করতে কতক্ষণ সময় লাগত?”
- ওয়ারেন উইয়ার্সবি
(Warren Wiersbe)
(উপাসনার গুরুত্ব সম্পর্কে)
ঈশ্বরের সাথে পথ চলা: অনুগ্রহের সম্পর্ক হিসেবে উপাসনা
উপাসনার প্রথম বাইবেলভিত্তিক চিত্রটি আছে এদন উদ্যানে, “তখন সেই মানুষটি ও তাঁর স্ত্রী সেই সদাপ্রভু ঈশ্বরের হাঁটার আওয়াজ শুনতে পেলেন, যিনি দিনের পড়ন্ত বেলায় বাগানে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিলেন…” (আদি পুস্তক ৩:৮)। এটি ঈশ্বরের আদর্শ উপাসনাকে তুলে ধরে: মানুষ এবং তার সৃষ্টিকর্তার মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সহভাগিতা। পতনের আগে, মানুষ এবং ঈশ্বরের মধ্যবর্তী বন্ধন পাপের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়নি। এদন উদ্যানে উপাসনা ছিল সহজ সরল এবং জটিলতাহীন।
উদ্যানে আমরা দেখি যে ঈশ্বর তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সাথে সহভাগিতা চান। পতন না হওয়া পর্যন্ত, মানুষ ঈশ্বরের সাথে সম্পূর্ণ সহভাগিতা উপভোগ করেছিল; কেবল পাপ মানুষের প্রকৃতিকে কলুষিত করার পরেই সে নিজেকে ঈশ্বরের থেকে লুকিয়েছিল।
সমগ্র পুরাতন নিয়ম জুড়ে, “ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করলেন” কথাটি এটি দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে যে উপাসনা ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ককে অন্তর্ভুক্ত করে। হনোক ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করতেন; নোহ ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করতেন; অব্রাহামকে ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল (আদি পুস্তক ৫:২৪, আদি পুস্তক ৬:৯, আদি পুস্তক ১৭:১)। প্রতিটি উদাহরণ দেখায় এমন একজন ব্যক্তিকে দেখায় যিনি ঈশ্বরের সাথে সময় অতিবাহিত করার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। সঠিক উপাসনার ভিত্তিমূল হলো ঈশ্বরের সাথে সঠিক সম্পর্ক।
আদি পুস্তক ৩:৮ পদ দেখায় যে উপাসনা ছিল সম্পর্কভিত্তিক। এটি এটাও দেখায় যে উপাসনা কেবল ঈশ্বরের অনুগ্রহেই সম্ভব। পেগান অর্থাৎ পৌত্তলিকরা আশা করে যে মানুষ দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য সঠিকভাবে উপাসনা করার একটি উপায় খুঁজে বের করবে। অপরদিকে, যিহোবা অনুগ্রহপূর্ণভাবে উপাসনা করার যথার্থ পদ্ধতিসমূহ প্রদান করেছেন। তিনটি উদাহরণ এটিকে তুলে ধরে।
ঈশ্বর আদম এবং হবা’র জন্য উপাসনা করা সম্ভব করে তুলেছিলেন
পতনের পর, ঈশ্বর আদম ও হবার কাছ থেকে উপাসনা চাওয়া বা এমনকি তা গ্রহণ করতে বাধ্য ছিলেন না। তারা ঈশ্বরের বিধান ভেঙেছিল; তারা তাঁর সৃষ্টিকে কলুষিত করেছিল; তারা কেবল বিচারেরই যোগ্য ছিল।
আদম এবং হবা পাপ করার পরে, তারা নিজেদেরকে সদাপ্রভুর উপস্থিতি থেকে লুকিয়ে রেখেছিল (আদি পুস্তক ৩:৮)। আদম এবং হবার আর অন্য কোনো পদক্ষেপই ছিল না; তারা কেবল মৃত্যুরই প্রত্যাশা করতে পারত। কেবল যে প্রতিক্রিয়াটি তারা জানত তা ছিল বিধানদাতার কাছ থেকে নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখা, কিন্তু অনুগ্রহে সদাপ্রভু আদমকে ডেকেছিলেন। ঈশ্বরের অনুগ্রহ দ্বারাই উপাসনা সম্ভব হয়। আমাদের নিজেদের উপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে, এক পবিত্র ঈশ্বরের সামনে যাওয়ার কোনো পদ্ধতি বা উপায়ই আমাদের কাছে নেই। কেবল তাঁর অনুগ্রহেই আমরা উপাসনা করার জন্য আহুত হয়েছি।
ঈশ্বর অব্রাহামের জন্য উপাসনা করা সম্ভব করে তুলেছিলেন
► আদি পুস্তক ১৮:১-৮ পদ পড়ুন।
১ নং পাঠে আমরা দেখেছিলাম যে উপাসনার জন্য ব্যবহৃত হিব্রু শব্দগুলির মধ্যে একটি শব্দ Shachah-র অর্থ হলো “মাথা নত করা” বা “ভজনা করা”। এই শব্দটি আদি পুস্তক ১৮:২ পদে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছে। অব্রাহাম যখন তার তাঁবুর দরজায় বসে ছিলেন, তখন সদাপ্রভু এবং তাঁর দুই স্বর্গদূত আবির্ভূত হয়েছিলেন। অব্রাহাম তাঁদের সাথে দেখা করার জন্য তাঁবুর দরজা থেকে দৌড়ে তাঁদের সামনে গিয়েছিলেন এবং মাটিতে উবুড় হয়ে নিজেকে নত করেছিলেন। অব্রাহাম নিজেকে নত করেছিলেন—তিনি উপাসনা করেছিলেন।
লক্ষ্য করুন যে এই কাহিনীটিতে ঈশ্বর উদ্যোগ নিয়েছিলেন; তিনি অব্রাহামের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। ঈশ্বর উপাসনা করা সম্ভব করে তুলেছিলেন। নতুন নিয়মের মতো পুরাতন নিয়মেও, উপাসনা করা কেবল অনুগ্রহের দ্বারাই সম্ভব। পুরাতন নিয়মের বলিদানগুলি এমন একজন ক্রুদ্ধ ঈশ্বরকে তুষ্ট করার উপায় নয় যিনি সম্পর্ক চান না; সেগুলি ঈশ্বর নিজেই ঈশ্বর এবং পাপী মানুষের মধ্যে পুনর্মিলনের উপায় হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি পুরাতন নিয়মেও, উপাসনা একমাত্র ঈশ্বরের অনুগ্রহের মাধ্যমেই সম্ভব। আমাদের নিজেদের মধ্যে সঠিকভাবে উপাসনা করার ক্ষমতা নেই।
ঈশ্বর যাকোবের জন্য উপাসনা করা সম্ভব করে তুলেছিলেন
► আদি পুস্তক ২৮:১০-২২ পদ পড়ুন। উপাসনায় ঈশ্বরের ভূমিকা সম্বন্ধে এই কাহিনীটি কী প্রকাশ করে?
উপাসনার অন্যতম সবচেয়ে অবাক করা বাইবেলভিত্তিক চিত্রটি আদি পুস্তক ২৮:১০-২২ পদে পাওয়া যায়। যাকোবের অতীতের কোনোকিছুই একজন উপাসনাকারীর গুণাবলীর ইঙ্গিত দেয় না। তিনি গীত ১৫ অধ্যায়ের যোগ্যতাগুলি পরিপূরণ করেন না। তিনি ঈশ্বরকে খোঁজেন নি; পরিবর্তে, তিনি সেই সমস্ত সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন যা তিনি তার নিজের প্রতারণামূলক কাজ দ্বারা সৃষ্টি করেছিলেন। উপাসনা নিয়ে লেখা কোনো বইই বলে না, “যারা তাদের নিজের পাপের ফলাফল থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সেই প্রতারকদের কাছ গ্রহণযোগ্য উপাসনা থেকে আসে।”
কিন্তু, যাকোবের অযোগ্যতা সত্ত্বেও ঈশ্বর নিজেকে যাকোবের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। যাকোবের মতো অযোগ্য ব্যক্তির জন্যও ঈশ্বরের অনুগ্রহ উপাসনা করাকে সম্ভব করে তোলে। ওয়ারেন উইয়ার্সবি (Warren Wiersbe) লিখেছেন, “ঈশ্বর আমাদের উপর সদয়ভাব প্রকাশ করেন যখন আমরা এটির জন্য সবচেয়ে কম আশা করি ‒ এমনকি এর যোগ্যও নই। যখন উপাসনা আর কোনোমতেই একটি অনুগ্রহের অভিজ্ঞতা থাকে না, তখন তা আর গৌরবের অভিজ্ঞতাও থাকে না।”[1]
[2]কেবলমাত্র অনুগ্রহের মাধ্যমেই ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর উপস্থিতিকে আমন্ত্রণ জানান। আমাদের উপাসনা হলো তাঁর অনুগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া। আমরা উপাসনায় যা কিছু করি তা তাঁর জন্য উপযুক্ত নয়; কেবল তাঁর অনুগ্রহই আমাদের উপাসনা করার ক্ষমতা দেয়।
যাকোবের কাহিনীটি যিহোবার উপাসনা এবং মিথ্যা দেবতাদের উপাসনার মধ্যে একটি অন্যতম বিরাট পার্থক্যকে দেখায়। মিথ্যা দেবতাদের উপাসনাকারীরা তাদের দেবতাদের অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় বেদী নির্মাণ করেছিল। কর্মিল পর্বতে, বায়ালের ভাববাদীরা “সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ালের নাম ধরে ডেকেছিল। “হে বায়ালদেব, আমাদের উত্তর দাও!” এই বলে তারা চিৎকার করছিল। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি; কেউ উত্তর দেয়নি। তারা আবার তাদের তৈরি করা যজ্ঞবেদি ঘিরে নাচতেও লাগল” (১ রাজাবলি ১৮:২৬)।
► প্রকৃত উপাসনা এবং ভ্রান্ত উপাসনার মধ্যে বৈপরীত্যটি দেখার জন্য ১ রাজাবলি ১৮:২০-৩৯ পদ পড়ুন।
বায়ালের ভাববাদীরা বায়ালকে তাদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। এই প্যাটার্নটি মূর্তিপূজায় বারবার দেখা গেছে। বেদী এবং বলিদান হল প্রতিমার অনুগ্রহ অর্জনের একটি প্রচেষ্টা।
এর বিপরীতে, ঈশ্বর সদয়ভাবে উপাসনায় তাঁর লোকেদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেন। এই পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে এলিয় তাঁর বেদী নির্মাণ করেছিলেন যে তিনি যে ঈশ্বরকে সেবা করেন, সেই ঈশ্বর তাঁর প্রার্থনার উত্তর দেবেন।
হে সদাপ্রভু, অব্রাহাম, ইস্হাক ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর, লোকেরা আজ জানুক যে ইস্রায়েলে তুমিই ঈশ্বর এবং আমি তোমার দাস ও আমি তোমার আদেশেই এসব কাজ করেছি। (১ রাজাবলি ১৮:৩৬)
আদি পুস্তকে পিতৃপুরুষরা ঈশ্বরের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নয় বরং ঈশ্বর যেখানে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন সেই স্থানগুলির স্মারক হিসেবে বেদী নির্মাণ করেছিলেন। বেদীটি ঈশ্বরের অনুগ্রহ অর্জন করেনি; এটি তাঁর অনুগ্রহকে উদযাপন করেছিল। যাকোব আমাদেরকে দেখিয়েছেন যে উপাসনা কেবল অনুগ্রহের মাধ্যমেই সম্ভব। আমাদের কখনোই এমন ভাবা উচিত নয় যে আমাদের উপাসনা আমাদেরকে ঈশ্বরের অনুগ্রহের যোগ্য করে তোলে; আমরা অনুগ্রহের কারণে উপাসনা করি।
ঈশ্বর যখন উপাসনাকে সম্ভব করে তোলেন তখন কী ঘটে? যাকোব রূপান্তরিত হয়েছিলেন। এই রূপান্তর সম্পূর্ণ হতে ৩০ বছর লেগেছিল, কিন্তু এই রূপান্তর শুরু হয়েছিল বেথেল থেকে। উপাসনা (এমনকি যাকোবের মতো একজন ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তির ত্রুটিযুক্ত উপাসনাও) আমাদের পরিবর্তন করে এবং আমাদের জন্য এমন কিছু করে যা আমরা কখনো নিজেদের জন্য করতে পারি না।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমি কি উপাসনা দ্বারা রূপান্তরিত হচ্ছি, নাকি আমি এক অসার গতির মধ্যে চলছি? উপাসনায় ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাতের কারণে আমি শেষ কবে আমার কাজ, বিশ্বাস, বা মনোভাব পরিবর্তন করেছিলাম?”
[1]Warren W. Wiersbe, Real Worship, (Grand Rapids: Baker Books, 2000), 72
ভ্রান্ত উপাসনায়, একজন ব্যক্তি প্রতিমার অনুগ্রহ অর্জনের জন্য একটি বেদী নির্মাণ করে (কাজ)।
প্রকৃত উপাসনায়, একজন ব্যক্তি ঈশ্বরের আনুকূল্য উদযাপনের জন্য একটি বেদী নির্মাণ করে (অনুগ্রহ)।
অব্রাহাম: উপাসনার জন্য বাধ্যতা প্রয়োজন
► আদি পুস্তক ২২:১-১৯ পদ পড়ুন। এই কাহিনীটিতে উপাসনার জন্য প্রয়োজনীতাগুলি কী কী?
অব্রাহামের তার নিজেকে পুত্রের বলি ছিল সর্বোচ্চ উপাসনা। এই কাহিনীটিতে অব্রাহামের বাধ্যতার উপর যে জোরটি দেওয়া হয়েছে তা লক্ষ্য করুন। ঈশ্বর বলেছেন, “তোমার ছেলেকে … নাও ও মোরিয়া প্রদেশে যাও। সেখানে … তাকে হোমবলিরূপে উৎসর্গ করো…।” তিনটি আদেশ। অব্রাহাম “তাঁর ছেলে ইস্হাককে সাথে নিলেন…। তিনি সেই স্থানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন, যেটির বিষয়ে ঈশ্বর তাঁকে আগেই বলে দিয়েছিলেন… পরে তিনি হাত বাড়িয়ে ছুরিটি ধরে তাঁর ছেলেকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন।” অব্রাহাম প্রতিটি আদেশ মান্য করেছেন।
অব্রাহামের ইসাহাককে বলি দিতে যাওয়া দেখায় যে প্রকৃত উপাসনায় সম্পূর্ণ বাধ্যতা প্রয়োজন। উপাসনা অনুভূতি বা আবেগের চেয়ে অনেক বেশি কিছু; উপাসনা একজন গায়কের গান শোনা বা একজন প্রচারকের প্রচার শোনার চেয়েও অনেক বেশি কিছু; উপাসনা হলো ঈশ্বরের প্রতি সক্রিয় সাড়া দেওয়া।
আদি পুস্তক ১৮ অধ্যায়ে অব্রাহামের কাহিনীটিতে ফিরে যান। কাহিনীটির শুরুতে আমরা উপাসনাকে অনুগত পরিষেবা হিসেবে দেখি। অব্রাহাম দেখছেন যে তিনজন অচেনা ব্যক্তি তার তাঁবুর কাছে এসেছেন। তিনি নিজেকে মাটিতে উবুড় করে নত করেছিলেন। তিনি উপাসনা করেছিলেন।
এরপর আমরা অব্রাহামকে খুব ব্যস্ততার সাথে পরিচর্যা করতে দেখি। তিনি তাদেরকে পা ধোয়ার জন্য জলের ব্যবস্থা করেছিলেন; তিনি তাঁবুতে সারাকে রুটি বানানোর জন্য তাড়া দিয়েছিলেন; তিনি খাবার তৈরি করেছিলেন এবং তাঁদের পরিবেশন করেছিলেন। একজন অপেক্ষারত দাসের অবস্থান নিয়ে তিনি তাদের কাছে গাছের তলায় তাদের খাওয়ার সময়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই সবই হলো এটি একজন ভৃত্যের তার প্রভুর প্রতি সর্বোত্তম সেবা প্রদানের ভাষা। প্রকৃত উপাসনাকারীর স্বেচ্ছায় সেবা করার মনোভাব থাকে।
পুরাতন নিয়ম জুড়ে উপাসনায় আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। হেবলের বলিদান গ্রাহ্য হয়েছিল কারণ এটি বলিদানের জন্য ঈশ্বরের আবশ্যিকতাগুলি পূরণ করেছিল। হেবল তাঁর পালের প্রথমজাতদের এবং তাদের চর্বিযুক্ত অংশ নিয়ে এসেছিল (আদি পুস্তক ৪:৪)। হেবল বাধ্যতার সাথে তার সেরাটি নিয়ে এসেছিল। অন্যদিকে, কয়িন যতটা সম্ভব সহজ উপায়ে তার দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছিল।
শৌলের জীবনে উপাসনার ক্ষেত্রে বাধ্যতার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। শৌল যখন অমালেকীয়দের সমস্ত পশু ধ্বংস করার জন্য ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করেছিলেন, তখন তিনি নিজেকে অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন এই দাবি করে যে, সবচেয়ে ভালো পশুগুলি বলিদানের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। শমূয়েল উত্তর দিয়েছিলেন, “সদাপ্রভুর বাধ্য হলে তিনি যত খুশি হন, হোম ও বলি পেয়ে কি তিনি তত খুশি হন? বলি দেওয়ার থেকে বাধ্য হওয়া ভালো, মদ্দা মেষের চর্বির থেকে কথা শোনা ভালো” (১ শমূয়েল ১৫:২২)।
► ১ শমূয়েল ১৫:১-২৩ পদ পড়ুন।
ঈশ্বর এক বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন হৃদয়ের উপাসনা গ্রহণ করবেন না।
প্রকৃত উপাসনা ঈশ্বরের সঙ্গে গভীর সম্পর্ককে অনুপ্রাণিত করে। অব্রাহামের কাহিনীটি আবার দেখুন। আদি পুস্তক ১৮ অধ্যায় ঈশ্বরের প্রতি আব্রাহামের পরিচর্যা দিয়ে শুরু হয়েছে; অধ্যায়টি সম্পর্ক দিয়ে শেষ হয়েছে। সদাপ্রভু নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আমি যা করতে যাচ্ছি তা কি আমি অব্রাহামের কাছে লুকাব?” ঈশ্বরের অভিপ্রায় শোনার পর, অব্রাহাম সাহসের সাথে সদোমের ভাগ্য নিয়ে ঈশ্বরের সাথে আলোচনা করেছিলেন। কি হয়েছিল? ঈশ্বরের পরিচর্যাকারী ঈশ্বরের একজন বন্ধুও বটে।
উপাসনার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরকে প্রকৃতরূপে জানতে পারি। উপাসনায় আমরা ঈশ্বরের হৃদয়কে এতটাই বুঝতে পারি যে আমরা সাহসের সাথে চাইতে পারি। বাধ্য উপাসনার মাধ্যমেই ঈশ্বরের সাথে আমাদের সম্পর্ক গভীরভাবে বৃদ্ধি পায়। গ্রহণযোগ্য উপাসনার মধ্যে বাধ্যতা (সেবা) এবং সম্পর্ক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। উপাসনাকারী অব্রাহাম ঈশ্বরের একজন দাস এবং বন্ধু উভয়ই ছিলেন।
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন যে কেন কিছু লোক একটি উপাসনা সভায় যোগদান করে ও ঈশ্বরের উপস্থিতিতে আসে, এবং অন্যেরা সেই একই সভায় অংশগ্রহণ করে ও ঈশ্বরীয় কিছুই অনুভব করে না? কেউ কেউ দান দেয় এবং আশীর্বাদযুক্ত হয়; অন্যেরা দেয় এবং অখুশি থাকে। পার্থক্যটি হলো একটি বাধ্যতার হৃদয়।
আমাদের উপাসনা যতই সুন্দর হোক, মিউজিশিয়ানরা যতই প্রতিভাবান হোক, সারমন যতই পরাক্রমী হোক, যদি উপাসনা এক বাধ্য হৃদয় থেকে না আসে, তবে তা হলো কয়িনের উপাসনা। কয়িনের উপাসনা বলে, “আমি আমার নিজস্ব উপায়ে আমার নিজস্ব বলিদান আনতে পারি। এটি যথেষ্ট ভালো।” প্রকৃত উপাসনা একটি বাধ্য হৃদয় থেকে আসে।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমি কি একজন বাধ্য উপাসনাকারী? আমার উপাসনা কি হেবলের হৃদয় থেকে আসে নাকি তা আসে কয়িনের হৃদয় থেকে?”
বলিদানসমূহ: ধর্মানুষ্ঠান হিসেবে উপাসনা
পতনের আগে, ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে একটি সহজ-সাধারণ সম্পর্কে উপাসনা সাধিত হতো। পাপ মানুষের প্রকৃতিকে কলুষিত করার পর, ঈশ্বরের উপস্থিতিতে আসার জন্য মানুষের একটি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন ছিল। অনুগ্রহে, ঈশ্বর বলিদানের পদ্ধতি প্রদান করেছিলেন। ঈশ্বরের দ্বারাই এদন উদ্যানে বলিদান প্রথা স্থাপিত হয়েছিল যখন তিনি একটি পশুকে হত্যা করেছিলেন এবং আদম ও হবার পোশাক বানানোর জন্য সেটির চামড়া ব্যবহার করেছিলেন। লেবীয় পুস্তক ইস্রায়েলের উপাসনার জন্য বলিদান ব্যবস্থা সংগঠিত করেছিল (লেবীয় পুস্তক ১-৭, ১৬)।
যাত্রা পুস্তক এবং লেবীয় পুস্তক পড়ার সময়ে, এটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে উপাসনার বিশদগুলি ঈশ্বরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যারা তর্ক করে যে “আমরা যতক্ষণ উপাসনা করছি, ততক্ষণ ঈশ্বর পরোয়া করেন না যে আমরা কীভাবে তা করছি,” তাদেরকে যাত্রা পুস্তক এবং লেবীয় পুস্তক দেখায় যে আমরা কীভাবে উপাসনা করছি তা ঈশ্বরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ! ঈশ্বর উপাসনার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পতনের পর, আদম এবং হবার কাছে ঈশ্বরের প্রকাশের মতোই, এটি হলো ঈশ্বরের অনুগ্রহের একটি চিহ্ন। যিহোবা উপাসনার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন, “এইভাবেই তোমাদেরকে আমার সামনে আসতে হবে।” এটি অনুগ্রহের একটি কাজ ছিল।
ইস্রায়েলের জন্য ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশের আগেই উপাসনা শুরু হয়েছিল। উপাসনার প্রস্তুতির প্রক্রিয়া ঈশ্বর এবং তাঁর গৃহের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছিল। আরোহণের গীতগুলি দেখায় যে যিরুশালেমের দিকে যাত্রাও ছিল উপাসনা (গীত ১২০-১৩৪)। উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানগুলি শূন্যগর্ভ ছিল না; বলিদানের প্রতিটি দিক উপাসনাকারীকে সত্য উপাসনার গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিত।
বলিদানগুলি ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ বশ্যতাকে তুলে ধরেছিল
কিছু খ্রিষ্টবিশ্বাসী পুরাতন নিয়মের বলিদান ব্যবস্থাকে ভুল বুঝেছে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা কল্পনা করেছেন যেখানে ইস্রায়েলীয়রা ইচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরের বিধান লঙ্ঘন করেছিল, অর্থহীন বলিদান এনেছিল, এবং তারপর হৃদয়ের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অবিলম্বে একই পাপে ফিরে গিয়েছিল।
এটি সত্য যে কিছু কিছু পরিস্থিতিতে এটি ঘটেছিল। প্রত্যুত্তরে, ঈশ্বর বলেছিলেন, “আমি তোমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলি ঘৃণা করি, অগ্রাহ্য করি; তোমাদের সভাগুলি আমি সহ্য করতে পারি না। তোমরা যদিও আমার কাছে হোমবলি ও শস্য-নৈবেদ্যগুলি উপস্থিত করো, আমি সেগুলি গ্রহণ করব না” (আমোষ ৫:২১-২২)।
তবে, এটি ছিল মানুষের ব্যর্থতা, ঈশ্বরের নয়। বলিদান ব্যবস্থা তখনই ব্যর্থ হয়েছিল যখন মানুষ ঈশ্বর যা আদেশ করেছিলেন তা করে ব্যর্থ হয়েছিল। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল এমন বলিদানের জন্য যা সত্যিকারের হৃদয়ের অনুতাপকে প্রতিফলিত করে।
উৎসবের সাথে সম্পর্কিত আচার-অনুষ্ঠানগুলি ইস্রায়েলকে উপাসনার গুরুত্ব দেখিয়েছিল। প্রতিটি বিবরণ যিহোবার প্রতি ইস্রায়েলের শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিল। ইস্রায়েলের উপাসনা ফাঁকা ধর্মানুষ্ঠান ছিল না; এই আচার-অনুষ্ঠানগুলি তাদের আত্মসমর্পণ এবং আনুগত্যের বাস্তবতাকে নির্দেশ করে। পশুর মাথায় হাত রেখে উপাসনাকারী নিজেকে বলিদানের মৃত্যুর সাথে পরিচয়যুক্ত করত। এটি করার সময়ে সে স্বীকারোক্তি দিত, “এটি আমার হওয়া উচিত ছিল। আমার পাপ মৃত্যুর যোগ্য” (দেখুন লেবীয় পুস্তক ১:৪)।
ঈশ্বর তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে প্রকৃত উপাসনাকে সম্মানিত করেছেন
মন্দির নির্মাণের সাথে সাথে ইস্রায়েলের উপাসনা আরও সংঘবদ্ধ হয়েছিল। তাঁবুর মতোই, মন্দিরের প্রতিটি বিবরণ ঈশ্বরের প্রতি ইস্রায়েলের শ্রদ্ধাশীল আনুগত্যকে নির্দেশ করেছিল (২ বংশাবলি ১-৭)। বলিদানের সমারোহ এবং মন্দির উপাসনার আনুষ্ঠানিকতা ইস্রায়েলকে যিহোবার মহিমা এবং তাঁর কাছে যে নম্রতার সাথে আসতে হবে তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল।
মন্দিরের উপাসনার জন্য উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানের যত্ন সহকারে পরিকল্পনা ঈশ্বরের উপস্থিতিকে বাধাগ্রস্ত করেনি। ইতিহাসের সবচেয়ে সুসংগঠিত সভাগুলির মধ্যে একটি অবশ্যই মন্দিরের উৎসর্গীকরণ ছিল। দায়ূদ বহু বছর আগে মন্দিরের পরিকল্পনা করেছিলেন। মন্দির সম্পূর্ণ হওয়ার পর, শলোমন ২ বংশাবলি ৫ অধ্যায়ে বর্ণিত একটি সুন্দর সভায় উৎসর্গীকরণ পরিচালনা করেছিলেন। সঙ্গীতজ্ঞরা করতাল, বীণা এবং সুমধুর সুর বাজিয়েছিলেন। ১২০ যাজক তূরী বাজিয়েছিলেন। একটি গায়কদল প্রশংসার গান গেয়েছিল। তারা যখন গান গেয়েছিল, “সদাপ্রভুর মন্দির মেঘে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, এবং সেই মেঘের কারণে যাজকেরা তাদের পরিচর্যা করে উঠতে পারেননি, যেহেতু সদাপ্রভুর প্রতাপে ঈশ্বরের মন্দিরটি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল” (২ বংশাবলি ৫:১৩-১৪)।
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
কিছু লোক উপাসনার যেকোনো কাঠামো এবং ধরণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা বিশ্বাস করে যে যেকোনো পরিকল্পিত লিটার্জি আন্তরিক উপাসনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে, বাইবেলের উপাসনা সুসংগঠিত ছিল।
যদি আমরা ঈশ্বরকে আমাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হই, তাহলে তাঁর উপাসনা সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করার যোগ্য। আমরা আমাদের সভার সৌন্দর্য দিয়ে অন্যদেরকে অভিভূত করার জন্য সভার পরিকল্পনা করি না, বরং তার উদ্দেশ্য হলো আমাদের সর্বোত্তম উপাসনার নৈবেদ্য ঈশ্বরের কাছে নিয়ে আসা।
বাইবেলে সতর্কভাবে পরিকল্পিত উপাসনা (যেমন মন্দিরের উৎসর্গীকরণ) এবং তুলনামূলক কম পরিকল্পিত উপাসনা (যেমন প্রথম শতাব্দীতে গৃহ মন্ডলীর সভা) উভয়ই ঈশ্বরের উপস্থিতিতে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিল। এছাড়া, সতর্কভাবে পরিকল্পিত উপাসনা (যেমন যিরমিয়’র সময়কালের মন্দিরের উপাসনা) এবং তুলনামূলক কম পরিকল্পিত উপাসনা (যেমন করিন্থীয় মন্ডলীর বিশৃঙ্খল উপাসনা) উভয়ই ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়াই করা যেত। কাঠামোর মাত্রাটি সমস্যা নয়; সমস্যাটি হলো ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং ঈশ্বরের উপস্থিতির জন্য ক্ষুধা।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “জনসমক্ষে আমার উপাসনা (সেটি যতই আনুষ্ঠানিক হোক বা অনানুষ্ঠানিক হোক) কি একটি বাধ্য হৃদয় থেকে আসে?”
গীত: প্রশংসা হিসেবে উপাসনা
গীতসংহিতা পুস্তকটি ছিল ইস্রায়েলের উপাসনার পুস্তক। এটি ছিল একটি স্তোত্রপুস্তক; এটি ছিল একটি প্রার্থনার সংগ্রহ; এটি ছিল সঠিক উপাসনার নির্দেশিকা; এটি ছিল ধার্মিক জীবনযাপনের জন্য একটি নির্দেশিকা। গীতসংহিতা পুস্তকটি ইস্রায়েলের উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
গীতসংহিতা পুস্তকটি দেখায় যে প্রকৃত উপাসনায় প্রশংসার উপর অনেক জোর দেওয়া হয়েছে। গীত ৮৮ ছাড়া, প্রতিটি গীতেই প্রশংসার কিছু বিবৃতি রয়েছে। লেবীয় পুস্তকের আচার-অনুষ্ঠান আমাদের বাইবেলের উপাসনার গাম্ভীর্যের কথা মনে করিয়ে দেয়; গীতসংহিতা আমাদেরকে বাইবেলের উপাসনার আনন্দের কথা মনে করিয়ে দেয়। গীত ১২০-১৩৪ ইহুদি তীর্থযাত্রীদের যিরুশালেমে উপাসনার জন্য ভ্রমণের আনন্দ দেখায়। প্রশংসা হলো উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু।
গীতসংহিতা পুস্তকে যে প্রশংসা দেখা যায় যা প্রকৃত উপাসনার আনন্দকে প্রতিফলিত করে। প্রশংসা ঈশ্বরের মধ্যে আমাদের যে আনন্দ, সেটিকে তুলে ধরে। ঈশ্বর এবং তাঁর সমস্ত কাজ উদযাপন করা প্রকৃত উপাসনার অন্তর্ভুক্ত।
উপাসনায় বিলাপ
বিলাপের গীত বাইবেলভিত্তিক উপাসনার আরেকটি দিককে দেখায়; উপাসনা উপাসনাকারী এবং ঈশ্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ সততার সুযোগ করে দেয়। বিলাপের গীতে, গীতরচয়িতা এই জগতের অন্যায়ের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। গীত ১০:১ পদে গীতরচয়িতা জিজ্ঞাসা করেছেন, “হে সদাপ্রভু, কেন তুমি দূরে আছ? সংকটকালে কেন তুমি নিজেকে লুকিয়ে রাখো?” কেন ঈশ্বর অন্যায়কারীদের বিদ্রোহ ও অহংকারে কাজ করার অনুমতি দেন? যেহেতু উপাসনা ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কের উপর ভিত্তিশীল, উপাসনাকারী সততার সাথে এবং খোলামেলাভাবে কথা বলতে পারে।
গীত ১০ অধ্যায় ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের একটি ঘোষণা দিয়ে শেষ হয়েছে।
সদাপ্রভু নিত্যকালের রাজা; অধার্মিক জাতিরা তাঁর দেশ থেকে বিনষ্ট হবে। হে সদাপ্রভু, তুমি পীড়িতদের মনোবাসনার কথা শোনো; তুমি তাদের উৎসাহিত করো এবং তাদের কাতর প্রার্থনা শোনো। তুমি অনাথ ও পীড়িতদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে, যেন সামান্য মানুষ আর কোনোদিন আঘাত না করতে পারে। (গীত ১০:১৬-১৮)
এই ঘোষণাটি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের উপর ভিত্তিশীল। দুষ্টেরা অবিচার করেই চললেও, গীতরচয়িতা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন যে ঈশ্বর যা সঠিক তা-ই করবেন।
ইয়োবের পুস্তকেও আমরা একই সততা দেখি। এই ধরণের সততা ঈশ্বরের সাথে এক নিবিড় সম্পর্কের উপর ভিত্তিশীল। এটিই হলো প্রকৃত উপাসনা, সেই উপাসনা যা ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য।
“ঈশ্বরের প্রতি অবিরাম আনন্দ বজায় রাখতে ভুলবেন না।”
- রিচার্ড ব্যাক্সটার
(Richard Baxter)
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
গীতগুলি দুই ধরণের প্রশংসাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের মন্ডলীর সঙ্গীতে উভয়ই থাকা উচিত।
ঘোষণামূলকপ্রশংসা
বর্ণনামূলকপ্রশংসা
সংজ্ঞা
প্রশংসা অথবা প্রশংসা করার আদেশ যা নির্দিষ্ট নয়
ঈশ্বরের চরিত্র এবং পরাক্রমশালী কাজের জন্য নির্দিষ্ট প্রশংসা
উদাহরণমূলকবাক্য
“সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। সদাপ্রভুর উদ্দেশে নতুন গান গাও, তাঁর বিশ্বস্ত ভক্তজনের সমাবেশে তাঁর প্রশংসা করো” (গীত ১৪৯:১)।
“তিনিই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; তাঁর বিচার সমগ্র পৃথিবীতে বিরাজমান” (গীত ১০৫:৭)।
এইধরণেরপ্রশংসারউপকারিতা
উপাসনাকারীকে ঈশ্বরের সমাদর করতে আমন্ত্রণ জানায়
ঈশ্বরের প্রকৃতি সম্পর্কে উপাসনাকারীকে গভীর সত্য শেখায়
যেধরণেরগানেমূলতপাওয়াযায়
কোরাস বা সম্মিলিত গান
স্তোত্রগীত
গীতসংহিতাথেকেউদাহরণ
এই গীতগুলি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রশংসার আদেশ দেয়: গীত ১৪৮-১৫০
এই গীতগুলি প্রশংসার নির্দিষ্ট কারণ বর্ণনা করে: গীত ১৯, ১০৫, এবং ১৩৬
► উপরে তালিকাভুক্ত ছয়টি গীতের প্রত্যেকটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। প্রতিটিতে যে প্রশংসার ধরণ দেখা যাচ্ছে তা তুলনা করুন।
► আপনার নিজের ভাষার স্তোত্র এবং সমবেত গানের বা সঙ্গীতের সংগ্রহ দেখুন। প্রতিটি ধরণের প্রশংসার ২-৩টি উদাহরণ খুঁজে বের করুন।
মিলিয়ে দেখুন
গীতরচয়িতার প্রশংসা ঈশ্বরের প্রতি তার আনন্দকে প্রকাশ করে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমি কি সত্যিই ঈশ্বরে আনন্দ করি?”
ভাববাদীগণ: ঘোষণা হিসেবে প্রশংসা
বলিদানের বিধান, সমাগম তাঁবু এবং মন্দির মূলত উপাসনায় ধর্মানুষ্ঠানের মূল্য দেখায়। তবে, ভাববাদীরা দেখিয়েছেন যে হৃদয়ের উপাসনা ছাড়া আচার-অনুষ্ঠান সবই শূন্য। ইস্রায়েলের লোকেরা যখন এক বাধ্য হৃদয় ছাড়াই আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করতে শুরু করেছিল, তখন ভাববাদীরা ঈশ্বরের বিচারের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। তারা ঘোষণা করেছিলেন যে ঈশ্বর আর ধর্মত্যাগী জাতির বলিদান গ্রহণ করেন না।
ভাববাদীরা দেখিয়েছেন যে ঈশ্বরের বার্তা ঘোষণা করা হলো উপাসনা। আমাদের সভায়, আমাদের উপাসনাকে প্রচার থেকে আলাদা করা উচিত নয়। বাক্য ঘোষণা করা হলো সত্যে উপাসনা। প্রচার আমাদের উপর ঈশ্বরের কর্তৃত্ব এবং আমাদের জীবনের জন্য তাঁর জ্ঞানকে নিশ্চিত করে। এটিই উপাসনা; এটি ঈশ্বরকে সম্মান করে।
ভাববাদীদের বার্তা
বাস্তবতাহীন আচার-অনুষ্ঠান উপাসনা নয়।
আমোষ ঘোষণা করেছিলেন যে ঈশ্বর ইস্রায়েলের বলিদান প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেন? কারণ উপাসনাকারীদের জীবনধারা পাপপূর্ণ ছিল (আমোষ ৫:২১-২২)। যিশাইয় ঘোষণা করেছিলেন যে ইস্রায়েলের উৎসবগুলি ঈশ্বরের কাছে ক্লান্তিকর ভার-বোঝা ছিল। কেন? কারণ তার [ইস্রায়েলের] হাত রক্তে ভরা ছিল।
উপাসনা করার আগে, উপাসনাকারীদের আদেশ দেওয়া হয়েছে: “তোমরা সেইসব ধুয়ে ফেলো ও নিজেদের শুচিশুদ্ধ করো। তোমাদের সব মন্দ কর্ম আমার দৃষ্টিপথ থেকে দূর করো! অন্যায় সব কর্ম করা থেকে নিবৃত্ত হও। যা ন্যায়সংগত, তাই করতে শেখো; ন্যায়বিচার অনুধাবন করো। অত্যাচারিত লোকেদের পাশে দাঁড়াও। পিতৃহীনদের পক্ষসমর্থন করো, বিধবাদের সপক্ষে ওকালতি করো” (যিশাইয় ১:১৩-১৭)।
ঈশ্বর এমন আচার-অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হন না যা হৃদয়ের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।
প্রকৃত উপাসনা আমাদের সর্বোত্তমটি দাবি করে।
অব্রাহাম তার পুত্রকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন; তিনি তার সর্বোত্তমটি দিয়েছিলেন। হেবল তার পালের প্রথমজাতটিকে এনেছিলেন; তিনি তার সেরাটা দিয়েছিলেন। লেবীয় পুস্তক বলিদানের জন্য সেরা পশুটি দাবি করেছিল। দায়ূদ এমন কোনো উৎসর্গ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যা তার কাছে মূল্যহীন ছিল (২ শমূয়েল ২৪:২৪)। প্রতিটি ক্ষেত্রেই, উপাসনার জন্য আমাদের সেরাটা প্রয়োজন।
এই বার্তা ভাববাদীদের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে। মালাখি বলিদানের জন্য কোনো নিকৃষ্ট প্রাণী আনার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন (মালাখি ১:৬-৮)। বিচারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, কারণ লোকেরা ঈশ্বরের গৃহের চেয়ে তাদের নিজস্ব ঘরের অবস্থার জন্য বেশি চিন্তিত ছিল (হগয় ১:৮-১১)। প্রকৃত উপাসনা আমাদের সর্বোত্তমটি দাবি করে।
প্রকৃত উপাসনা সমগ্র জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আমোষ ইস্রায়েলের ধর্মভ্রষ্টের একটি বাস্তব প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বলিদান আর সমাধান ছিল না; সমাধান ছিল একটি ধার্মিক জীবন। “কিন্তু ন্যায়বিচার নদীর মতো প্রবাহিত হোক, ধার্মিকতা কখনও শুকিয়ে না যাওয়া স্রোতের মতো হোক!” (আমোষ ৫:২৪)। ভাববাদীরা মন্দিরে উপাসনা এবং বলিদানের বিরোধী ছিলেন না।[1] তারা এমন উপাসনার বিরোধী ছিলেন যেটির সাথে ধার্মিক জীবন যুক্ত নয়।
বাইবেল জুড়ে আমরা দেখতে পাই যে প্রকৃত উপাসনা সমগ্র জীবনের সাথে জড়িত। পেন্টাটিউকে, অর্থাৎ বাইবেলের প্রথম পাঁচটি পুস্তকে (আদি পুস্তক থেকে দ্বিতীয় বিবরণ), উপাসনা সম্পর্কিত বিধানগুলি নৈতিক আচরণ সম্পর্কিত বিধানগুলির পাশে রয়েছে; তাদের মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই। ইতিহাস-পুস্তকের বইগুলিতে (যিহোশূয় থেকে ইষ্টের), দৈনন্দিন জীবনে ইস্রায়েলের অবাধ্যতার ফলে ইস্রায়েলের উপাসনার স্থান, সেই মন্দির ধ্বংস হয়ে যায়। ভাববাদীরা ঘোষণা করেন যে ঈশ্বর ইস্রায়েলের উপাসনাকে তাদের অবাধ্যতার কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নতুন নিয়মে, যিশু ফরিশীদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে বিশ্রামবার পালনের মতো উপাসনা অনুশীলনগুলি করুণার জীবন ছাড়া কোনো অর্থই রাখে না (মথি ১২:৭)।
ভাববাদীদের উদাহরণ: উপাসনায় প্রচার এবং ঘোষণা
ভাববাদীরা দেখিয়েছেন যে ঈশ্বরের বাক্যের ঘোষণা হলো উপাসনা। কল্পনা করুন যিরমিয় মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে বলছেন, “মন্দিরে যাও, গীত গাও এবং তোমার বলিদান উৎসর্গ করো। এটাই হবে উপাসনা। যখন তুমি শেষ করবে, তখন আমি তোমার কাছে ঈশ্বরের বার্তা প্রচার করব।” না! যিরমিয়’র ঘোষণা নিজেই একটি উপাসনা ছিল। যিরমিয় প্রচার করেছিলেন যে ঈশ্বর ইস্রায়েলের পাপপূর্ণ জীবনের কারণে তাদের উপাসনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি ছিল উপাসনা। এটি একটি পবিত্র ঈশ্বরের পবিত্রতাকে স্বীকৃতি দেয়; এটি ঈশ্বরের যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দেয়।
[1]কিছু পণ্ডিত বলেন যে ভাববাদীরা মন্দির ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে, অনেক ভাববাদী মন্দিরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। মন্দিরে যিশাইয় সদাপ্রভুকে দেখেছিলেন। যিহিষ্কেল ঈশ্বরের মহিমায় পূর্ণ একটি পুনরুদ্ধারকৃত মন্দিরের ভাববাণী করেছিলেন। হগয় সরুব্বাবিলকে মন্দির পুনর্নির্মাণের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। ভাববাদীরা বলিদান প্রত্যাখ্যান করেননি; তারা বলিদানের অপব্যবহার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বর্তমানকালে বাইবেলভিত্তিক উপাসনা
কিছু কিছু মন্ডলী উপাসনা এবং প্রচারকে আলাদা করে। তারা ঘোষণা করে, “আমরা উপাসনা দিয়ে শুরু করব।” উপাসনা শেষ হওয়ার পর, তারা প্রচারে যায়। এর দু’টি বিপদ রয়েছে।
১। এর অর্থ হলো উপাসনা কেবল সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উপাসনার এই পদ্ধতিটি কেবল আবেগের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। প্রকৃত উপাসনাকে অবশ্যই গান-বাজনার চেয়েও বেশি কিছু হতে হবে।
২। এটি প্রচারকে উপাসনা থেকে পৃথক করে। মন্ডলীর সেবায় আমরা যা কিছু করি তা উপাসনা হওয়া উচিত। সংগীত, প্রার্থনা, শাস্ত্রপাঠ, সারমন, এমনকি নৈবেদ্যও উপাসনার অংশ।
মিলিয়ে দেখুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমার প্রচার কি উপাসনার অংশ? যখন আমি প্রচার করি, তখন কি আমি ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে কথা বলি, যিনি ঈশ্বরের মূল্যকে সম্মান করে?”
উপাসনার বিপদ: উপাসনায় ভারসাম্যহীনতা
(১) অতিরিক্ত অনানুষ্ঠানিক উপাসনার বিপদ
যখন আমরা ভুলে যাই যে বাইবেলের উপাসনা আত্মসমর্পণের দাবি রাখে, তখন আমরা ঈশ্বরকে একজন সাধারণ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করতে পারি যিনি কোনো সম্মান পান না। উপাসনার প্রতি অতিরিক্ত অনানুষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি এই মনোভাবকে উৎসাহিত করতে পারে। আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে ঈশ্বর অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত একজন ঈশ্বর যিনি সম্পূর্ণ আনুগত্যের দাবি করেন। “এখন অনন্ত রাজাধিরাজ, অবিনশ্বর, অদৃশ্য, একমাত্র ঈশ্বর, তাঁরই প্রতি যুগে যুগে সম্মান ও মহিমা অর্পিত হোক। আমেন” (১ তিমথি ১:১৭)। কিছু কিছু মন্ডলী ঈশ্বরের রাজকীয়তা ভুলে যায়; উপাসনা এতটাই সাধারণ হয়ে ওঠে যে তা একজন পুরানো বন্ধুর সাথে এক কাপ চা খেয়ে সময় কাটানোর চেয়ে আর বেশি কিছু থাকে না।
(২) অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক উপাসনার বিপদ
যখন আমরা ভুলে যাই যে বাইবেলের উপাসনা হলো এমন একজন ঈশ্বরের উপাসনা যিনি আমাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, তখন আমরা ঈশ্বরকে একজন দূরবর্তী দেবতা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করতে পারি। উপাসনার প্রতি অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি এই মনোভাবকে উৎসাহিত করতে পারে। কিছু মন্ডলী বিশ্বাসীদেরকে ঈশ্বরের সাথে ঘনিষ্ঠতা অনুভব করার সুযোগ দেয় না; সম্পূর্ণরূপে তাঁর মহিমা এবং মহত্ত্বের উপর জোর দেওয়া হয়।
উপাসনায়, আমাদের ঈশ্বরের তাঁর সৃষ্টির উপর রাজকীয় কর্তৃত্ব এবং তাঁর সন্তানদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা উভয়েরই অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত।
মিলিয়ে দেখুন
আপনার সাম্প্রতিক উপাসনা সভার কথা মনে করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, “সভার কোন অংশগুলি উপাসনাকারীদেরকে ঈশ্বরের রাজকীয়তাকে সম্মান করতে উৎসাহিত করেছিল? তারা কি আমাদের মহান ঈশ্বরের অনুভূতি নিয়ে উপাসনা সভাটি বেরিয়ে এসেছিল?” তারপর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, “সভার কোন অংশগুলি উপাসনাকারীদেরকে ঈশ্বরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব অনুভব করতে উৎসাহিত করেছিল? তারা কি এটি জেনে উপাসনা সভা থেকে বেরিয়ে এসেছিল যে ঈশ্বর তাদেরকে গভীরভাবে ভালোবাসেন?”
উপসংহার: মন্দির উৎসর্গের একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য
মন্দিরের উৎসর্গের সময় থাকতে পারলে কেমন হতো? সম্ভবত এটি এইভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে:
“মন্দির উদ্বোধনের সময় আমি সেখানে ছিলাম। সেই দিনটি আমি কখনো ভুলব না। আমরা বছরের পর বছর ধরে ওই সভাটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম।"
“বছরের পর বছর? হ্যাঁ, বহু বছর! রাজা দায়ূদ মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে শলোমনকে সেগুলো দিয়েছিলেন। এখন মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, এবং বহু প্রতীক্ষিত উৎসর্গীকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“খুব সুন্দর সব ব্যবস্থা ছিল এবং একপ্রকার নাটকীয় অনুষ্ঠান ছিল। কল্পনা করুন...
২২,০০০ ষাঁড় এবং ১২০,০০০ মেষ বলি
একশো জন গায়ক দায়ূদের গীত গাইছে
করতাল, বীণা, নেবল, এবং তূরীবাদ্যের এক বিরাট সমারোহ
যাজক এবং লেবীয়রা সর্বোত্তম সাদা মশিনার পোশাক পরেছিলেন
সর্বকালের সবচেয়ে সুন্দর ভবন নির্মিত হয়েছিল
উপাসনার প্রতিটি কাজের জন্য সোনা এবং রূপোর পাত্র ছিল
এটি একটি সুন্দর অনুষ্ঠান ছিল, কিন্তু অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য আমার স্মৃতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার সবচেয়ে বেশি মনে আছে যে সঙ্গীতশিল্পীরা যখন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে এবং গান গাইতে শুরু করেছিলেন, ‘সদাপ্রভুর প্রতাপে ঈশ্বরের মন্দিরটি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’ যাজকদের তাদের কর্তব্য পালন না করতে পারা পর্যন্ত ঈশ্বরের উপস্থিতি মন্দির পূর্ণ করে রেখেছিল। ঈশ্বরের প্রতি একটি সভা ঈশ্বরের দ্বারা গৃহীত হয়েছিল!
“সেই স্মরণীয় উপাসনার পর বহু বছর কেটে গেছে। আমি এমন দাবি করি না যে সেইদিন থেকে আমি যে সমস্ত উপাসনায় সভায় যোগ দিয়েছি তাতে ঈশ্বরের উপস্থিতির একই দৃশ্যমান চিহ্ন রয়েছে; সেটি ছিল একটি বিশেষ দিন। তবে, আমি যোগদান করা প্রতিটি উপাসনা সভায় আমি ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রত্যাশা করি।
“কখনো কখনো তাঁর উপস্থিতি নাটকীয়; কখনো কখনো এটি খুবই শান্ত। কখনো কখনো তাঁর উপস্থিতি গানের মধ্যে অনুভূত হয়; কখনো কখনো তিনি সারমনের মাধ্যমে কথা বলেন। কখনো কখনো আমার আবেগ স্পর্শ করে; কখনো কখনো তাঁর সত্য আমার মন এবং ইচ্ছার সাথে কথা বলে। কখনো কখনো আমি উৎসাহিত হই; কখনো কখনো আমি দোষী সাব্যস্ত হই।
“ঈশ্বর যেভাবেই উপস্থিত থাকতে চান, আমি তাঁর উপস্থিতিকে মূল্যবান বলে গণ্য করি। ঈশ্বরের দৃশ্যমান উপস্থিতির এমন নাটকীয় উদাহরণ হয়তো আর কখনো দেখতে পাব না, কিন্তু আমি যখনই উপাসনা করি, তখনই তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করতে পারি।”
গ্রুপে আলোচনার জন্য
► এই পাঠের ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়টি আলোচনা করুন:
এণাক্ষী একজন আন্তরিক খ্রিষ্টবিশ্বাসী এবং সে তার গ্রামের উপাসনা সভায় যোগ দিতে ভালোবাসে। প্রাণবন্ত সঙ্গীত এবং সাহচর্য দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট থেকে একটি স্বাগতমূলক পরিবর্তন এনে দেয়। তার সমস্ত হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করার সময় যে অনুভূতি এবং আবেগ অনুভব করে, সে তা ভালোবাসে। তবে, এণাক্ষী রবিবার সকালের উপাসনায় যে উদ্যম দেখায়, সে তার বিবাহ এবং দৈনন্দিন জীবনের কর্তব্যগুলিতে সেই একই উদ্যম দেখানো কঠিন বলে মনে করে। আপনি কীভাবে এণাক্ষীকে পরামর্শ দেবেন?
(১) আমরা কীভাবে উপাসনা করি তা নিয়ে ঈশ্বর পরোয়া করেন:
আমাদের উপাসনার ধরণ ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের বোধগম্যতার উপর প্রভাব ফেলে।
আমাদের উপাসনার ধরণ দেখায় যে আমরা কেন উপাসনা করি।
(২) উপাসনা হলো একটি সম্পর্ক - ঈশ্বরের সাথে পথচলা।
ঈশ্বর আদম ও হবার জন্য উপাসনার মাধ্যম জুগিয়েছিলেন।
ঈশ্বর অব্রাহামের জন্য উপাসনা সম্ভব করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ঈশ্বরের অনুগ্রহ যাকোবের জন্য উপাসনা সম্ভব করেছিল।
যখন আমরা ঈশ্বরের সাথে পথ চলি, তখন আমাদের জীবন রূপান্তরিত হয়।
(৩) আনুগত্যের মাধ্যমে উপাসনা শুরু হয়।
উপাসনা কেবল আবেগ বা অনুভূতির চেয়েও বেশি কিছু।
উপাসনা হল ঈশ্বরের আদেশের প্রতি একটি সক্রিয় প্রতিক্রিয়া।
ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতা তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ককে আরো গভীর করে।
(৪) উপাসনার মধ্যে আচার-অনুষ্ঠান (পুরাতন নিয়মের বলিদান) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বলিদানগুলি ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতিনিধিত্ব করত। (রোমীয় ১২:১)
ঈশ্বর তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে প্রকৃত উপাসনাকে সম্মানিত করেছেন। (২ বংশাবলি ৫)
জনসমক্ষের আচার-অনুষ্ঠান অবশ্যই বাধ্য হৃদয় থেকে আসতে হবে।
(৫) উপাসনার মধ্যে প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত (গীত)।
গীতসংহিতা পুস্তকটি দেখায় যে উপাসনার মধ্যে প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত।
গীতসংহিতা পুস্তকটি দেখায় যে উপাসনার মধ্যে বিলাপ অন্তর্ভুক্ত।
(৬) উপাসনার মধ্যে ঘোষণা অন্তর্ভুক্ত (ভাববাদী পুস্তকসমূহ)।
উপাসনা প্রশংসার চেয়েও বেশি কিছু; এটি একইসাথে সত্যের ঘোষণাও। প্রচার করা হলো উপাসনা।
ভাববাদীরা শিখিয়েছেন যে বাস্তবতাহীন আচার-অনুষ্ঠান উপাসনা নয়।
ভাববাদীরা শিখিয়েছেন যে প্রকৃত উপাসনা আমাদের সর্বোত্তমটি দাবি করে।
ভাববাদীরা শিখিয়েছেন যে প্রকৃত উপাসনা সমগ্র জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে।
৩ নং পাঠের অ্যাসাইনমেন্ট
(১) পুরাতন নিয়মে উপাসনা-র এই পাঠটি থেকে আপনি যে তিনটি নীতি শিখেছেন তার একটি তালিকা তৈরি করুন। আপনার মন্ডলীতে উপাসনায় প্রতিটি নীতি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তার ব্যবহারিক উপায়গুলি নিয়ে এক পাতার মধ্যে আলোচনাটি লিখুন।
(২) পরবর্তী পাঠের শুরুতে, এই পাঠের উপর ভিত্তি করে আপনি একটি পরীক্ষা দেবেন। প্রস্তুতির সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নগুলি ভালো করে অধ্যয়ন করুন।
৩ নং পাঠের পরীক্ষা
(১) এই পাঠ থেকে, বাইবেলে উপাসনার দু'টি উদাহরণ তালিকাভুক্ত করুন, যেগুলি ঈশ্বর প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
(২) “ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করলেন” কথাটি দেখায় যে উপাসনা ঈশ্বরের সাথে ________ অন্তর্ভুক্ত করে।
(৩) এই পাঠ থেকে, তিনজন অযোগ্য ব্যক্তির নাম লিখুন যাদের ঈশ্বর সদয়ভাবে তাঁর উপাসনা করা সম্ভব করে তুলেছিলেন।
(৪) অব্রাহামের ইসাহাককে বলি দিতে যাওয়া দেখায় যে প্রকৃত উপাসনায় সম্পূর্ণ ________ প্রয়োজন।
(৫) হেবলের উপাসনা এবং কয়িনের উপাসনার মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?
(৬) বলিদানের জন্য পশুর মাথায় উপাসনাকারীর হাত রাখার তাৎপর্য কী ছিল?
(৭) ঘোষণামূলক প্রশংসা এবং বর্ণনামূলক প্রশংসা উভয়ের সংজ্ঞা দিন।
(৮) ভাববাদীরা দেখিয়েছেন যে ঈশ্বরের বার্তা ________ করা হলো উপাসনা।
(৯) উপাসনা সম্পর্কে নভাববাদীদের বার্তার তিনটি দিক তালিকাভুক্ত করুন।
Free to print for ministry use. No changes to content, no profit sales.
SGC exists to equip rising Christian leaders around the world by providing free, high-quality theological resources. We gladly grant permission for you to print and distribute our courses under these simple guidelines:
No Changes – Course content must not be altered in any way.
No Profit Sales – Printed copies may not be sold for profit.
Free Use for Ministry – Churches, schools, and other training ministries may freely print and distribute copies—even if they charge tuition.
No Unauthorized Translations – Please contact us before translating any course into another language.
All materials remain the copyrighted property of Shepherds Global Classroom.