রঞ্জন পরম্পরাগত প্রথার উপাসনাকে মূল্য দেন। তাদের মাসিক মিটিংয়ে অরিত্র, যিনি একটি সমসাময়িক উপাসনা সভা পরিচালনা করেন, জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আপনি কেন আপনার উপাসনা সভায় নতুন কিছু চেষ্টা করেন না?”
“আমরা বাইবেলভিত্তিক”, রঞ্জন উত্তর দিয়েছিলেন। “যদি বাইবেল কোনো নির্দিষ্ট উপাসনা অনুশীলনের নির্দেশ না দেয়, তাহলে আমরা প্রথম শতকের উপাসনা অনুশীলনে কিছু যুক্ত করার স্বাধীনতা আমাদের নেই। বাইবেলভিত্তিক উপাসনা পরিবর্তন করার আমরা কে? আমাদের মন্ডলীতে, আমরা কেবল গীত গাই। সেই গানগুলি প্রারম্ভিক মন্ডলীর গান ছিল; এগুলি আমাদের জন্য যথেষ্ট ভালো!”[1]
অরিত্রর প্রত্যুত্তর ছিল, “এটা শুনে মনে হচ্ছে আপনি মনে করেন যে প্রকাশিত বাক্য পুস্তকটির শেষেই ইতিহাস থেমে গেছে। আমরা কীভাবে ২,০০০ বছরের পুরনো উপাসনা স্টাইলের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারি? যতক্ষণ না বাইবেল কোনো অনুশীলন নিষিদ্ধ করে এবং যতক্ষণ না সেই অনুশীলন মন্ডলীকে বিভক্ত করে, ততক্ষণ আমাদের প্রজন্মের চাহিদা অনুসারে উপাসনাকে মানানসই করিয়ে নেওয়া উচিত। আমার মন্ডলীতে আমরা অনেক নতুন গান গাই। ঈশ্বর যদি নতুন গান নিষিদ্ধ করতে চাইতেন, তাহলে বাইবেল স্পষ্টভাবে সেগুলো নিষিদ্ধ করত।”[2]
অভীকের উত্তর ছিল বাস্তবসম্মত। “উপাসনা সম্পর্কে বাইবেল কী বলে তা আমরা অধ্যয়ন করেছি। আমরা শাস্ত্র থেকে উপাসনার নীতিগুলি জানি। আমাদের দেখতে হবে যে অন্যান্য খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা প্রতিটি প্রজন্মে এই নীতিগুলি কীভাবে প্রয়োগ করেছে। মন্ডলীর ইতিহাসে উপাসনা কেমন ছিল?”
অভীক উপাসনা নিয়ে আলোচনা করার সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি বুঝতে পেরেছেন। যদিও উপাসনার বাইবেলভিত্তিক নীতিগুলি অপরিবর্তনীয়, তবুও বাইবেলে উপাসনার প্রতিটি অভিজ্ঞতাই ভিন্ন ধরণের। বিস্তারিত বিবরণগুলি ভিন্ন; কিন্তু উপাসনার অপরিহার্য উপাদানগুলি অপরিবর্তনীয়। আমরা গত দু’টি পাঠে উপাসনার অপরিহার্য নীতিগুলি দেখেছি, কিন্তু বিস্তারিত বিবরণগুলি পরিবর্তিত হয়। বিবেচনা করুন:
অব্রাহাম যখন উপাসনা করছিলেন তখন তিনি তার তাঁবুর দরজায় ছিলেন। কেউ হয়তো এটি পড়ে বলবে, “কেউ যখন তার নিজের ঘরে থাকে, তখনই প্রকৃত উপাসনা হয়।” কিন্তু...
যিশাইয় মন্দিরে ছিলেন যখন তিনি সদাপ্রভুকে উচ্চকৃত হতে দেখেছিলেন। কেউ হয়তো এটি পড়ে বলবে, “কেউ যখন মন্ডলীতে থাকে, তখনই প্রকৃত উপাসনা হয়।” কিন্তু...
ইয়োবের মাথা থেকে পা পর্যন্ত এক যন্ত্রণাদায়ক ঘায়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন, “তোমার কথা আমি কানে শুনেছিলাম কিন্তু এখন আমি স্বচক্ষে তোমাকে দেখলাম” (ইয়োব ৪২:৫)। কেউ হয়তো এটি পড়ে বলবে, “ওহ! কেউ যখন কষ্টভোগের মধ্যে দিয়ে যায়, তখনই প্রকৃত উপাসনা হয়।”
আপনি বিষয়টি বুঝতে পারছেন? উপাসনা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন উপায়ে এবং বিভিন্ন ধরণ অনুসরণ করে। আমরা প্রায়শই উপাসনার পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং অপরিবর্তনীয় নীতিগুলিকে গুলিয়ে ফেলি।
এই পাঠে আমরা দেখব কীভাবে মন্ডলী ইতিহাস জুড়ে উপাসনার নীতিগুলি প্রয়োগ করেছে। এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে, ঈশ্বরের লোকেরা বিভিন্ন উপায়ে উপাসনা করে। আশাকরি এটি আপনাকে দেখতে সাহায্য করবে যে উপাসনার জন্য এমন কোনো একক প্যাটার্ন নেই যা সকল পরিস্থিতিতে সকল মানুষকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। বরং, আমাদের পরিস্থিতিতে উপাসনার বাইবেলভিত্তিক নীতিগুলি কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করার জন্য আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের আত্মার নির্দেশনা অন্বেষণ করতে হবে।
এই পাঠে আমরা আরো দেখব যে আমাদের উপাসনা করার ধরণ আমাদের বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। আমাদের উপাসনা পদ্ধতিগুলি ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস এবং আমরা কীভাবে তাঁর সামনে উপস্থিত হই তার দ্বারা প্রভাবিত হয়।
উপাসনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই বোধগম্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি আপনার উপাসনা সভা এমনভাবে পরিচালনা করেন যা আপনার বিশ্বাসকে প্রকাশ করে, নাকি আপনি কেবল অন্য মন্ডলীর প্যাটার্ন নকল করছেন? আপনি যদি অন্য মন্ডলীর নকল করেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি ঈশ্বর সম্পর্কে সেই মন্ডলীর বিশ্বাস এবং আমরা কীভাবে তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিতি হই তা নিয়ে আপনি সহমত। আমাদের উপাসনা দেখায় যে আমরা কী বিশ্বাস করি।
► এই পাঠে এগিয়ে যাওয়ার আগে, আপনার সাম্প্রতিক উপসনা সভা নিয়ে আলোচনা করুন। একজন ব্যক্তি যদি আপনার ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কে কিছুই না জানে, তাহলে আপনার উপাসনার ধরণ দেখে সে কী বুঝবে? আপনার উপাসনা সভার ফলাফল হিসেবে ঈশ্বর সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি, ঈশ্বরের সাথে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি, এবং সুসমাচার প্রচার সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে তারা কী শিখবে?
[1]এটিকে উপাসনার “নিয়ন্ত্রক নীতি” (Regulative Principle) বলা হয়। জন কেলভিন’র শিক্ষা অনুযায়ী এটি এমন কোনো উপাসনা অনুশীলন নিষিদ্ধ করে যা শাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত নয়। মূলত, এটি কোনো প্রকার যন্ত্রসঙ্গীত (যেহেতু নতুন নিয়মের উপাসনায় বাদ্যযন্ত্রের উল্লেখ নেই) বা গীত ছাড়া অন্য কোনো গানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। কিছু মন্ডলী যারা আজ এই নীতি অনুসরণ করে তারা বাদ্যযন্ত্র এবং স্তোত্র যুক্ত করেছে; কিন্তু তারা এখনো উপাসনার জন্য নতুন পদ্ধতি এড়িয়ে চলে।
[2]এটিকে বলা হয় উপাসনার “মান-নির্ণায়ক নীতি” (Normative Principle)। এই পদ্ধতিটি শিক্ষা দেয় যে শাস্ত্রে নিষিদ্ধ নয় এমন যে কোনও উপাসনার অনুশীলন অনুমোদিত, যতক্ষণ না সেগুলি মন্ডলীতে শান্তি এবং ঐক্যকে ব্যাহত করছে।
দ্বিতীয় শতকে উপাসনার একটি চিত্র
আমাদের উপাসনার প্রাচীনতম চিত্রটি নতুন নিয়মের পরে ১১৩ খ্রিস্টাব্দের একটি চিঠিতে পাওয়া যায়। বিথুনিয়ার (Bithynia) শাসক প্লিনি (Pliny), সম্রাট ট্রাজানকে (Trajan) লেখা একটি চিঠিতে খ্রিষ্টীয় উপাসনার বর্ণনা দিয়েছিলেন।[1] তিনি লিখেছিলেন যে খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা, "ভোর হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট দিনে জড়ো হয় এবং ঈশ্বর হিসেবে খ্রিষ্টের উদ্দেশ্যে পর্যায়ক্রমে একটি স্তবগান গায় এবং তারা শপথ নেয়... চুরি করবে না, প্রতারণা করবে না, ব্যভিচার করবে না...। তাদের রীতি হলো আলাদা হওয়া এবং পরে ফিরে এসে একসাথে খাবার খাওয়া।”
প্লিনি’র বক্তব্য অনুযায়ী, রবিবার সূর্যোদয়ের আগে খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা একত্রিত হয়ে স্তবগান গাইত এবং সম্ভবত শাস্ত্রপাঠের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ নৈতিক আচরণের অঙ্গীকার করত। দিনের শেষের দিকে তারা একটি খাবার খেত, যার মধ্যে সম্ভবত প্রভুর ভোজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চল্লিশ বছর পরে, শহীদ জাস্টিন (Justin Martyr) উপাসনার আরও বিশদ বর্ণনা দিয়েছিলেন।[2] জাস্টিন খ্রিষ্টীয় উপাসনার পক্ষ নিয়ে রোমান সম্রাটের কাছে চিঠি লিখেছিলেন, যিনি খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের অনৈতিকতা এবং সাম্রাজ্যের প্রতি আনুগত্যহীনতার সন্দেহ করেছিলেন। জাস্টিন সম্রাটকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে খ্রিষ্টীয় উপাসনা রোমের জন্য কোনো বিপদের কারণ নয়। জাস্টিনের মতে, খ্রিষ্টীয় উপাসনায় নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল:
১। শাস্ত্র পাঠ।
২। সমাবেশের লিডারের দ্বারা একটি সারমন প্রচার।
৩। প্রার্থনা। প্রত্যেকে নীরবভাবে প্রার্থনা করত; তারপর লিডার একটি আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা করতেন যেটিতে লোকেরা “আমেন” বলে প্রত্যুত্তর দিত। প্রার্থনার শেষে, পবিত্র আত্মার উপস্থিতিকে চিহ্নিত করার জন্য উপাসনাকারীরা একে অপরকে এক পবিত্র চুম্বন দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতো।
৪। প্রভুর ভোজ দিয়ে সভা শেষ হতো। সভার পরে, দু’জন ডিকন অবশিষ্ট রুটি এবং দ্রাক্ষারস সেই সমস্ত খ্রিষ্টবিশ্বাসীদেরকে দিতেন যারা অসুস্থ বা যারা শহীদ হওয়ার জন্য কারাগারে অপেক্ষা করছে।
৫। সভার শেষে, যাদের কাছে অর্থ বা খাবার থাকত তারা তাদের উপহারগুলি লিডারের কাছে দিত। সমস্ত নৈবেদ্য “অনাথ ও বিধবা, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিদের, এবং আমাদের মধ্যে বন্দী ও বিদেশীদেরকে” দেওয়া হতো।
দ্বিতীয় শতকের উপাসনার অন্যতম শক্তি ছিল মন্ডলীর অংশগ্রহণ। প্লিনি এবং শহীদ জাস্টিন উভয়েই একটি সরল উপাসনার বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা রোমের পৌত্তলিক রহস্যময় ধর্মগুলিতে প্রচলিত সম্প্রসারিত আচার-অনুষ্ঠানের মতো নয়। উপাসনা ছিল ঘনিষ্ঠ, কারণ ছোটো ছোটো দল ব্যক্তিগত বাড়িতে জড়ো হয়তো।
আরেকটি শক্তি ছিল উপাসনা এবং জীবনের মধ্যে স্পষ্ট সংযোগ। প্লিনির চিঠিতে খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের নীতিগত আচরণের প্রতি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; শহীদ জাস্টিন অভাবীদের সাহায্য করার জন্য উপহারের কথা উল্লেখ করেছেন। উপাসনা সমগ্র জীবনকে জড়িত করেছিল।
► দ্বিতীয় শতকের উপাসনার কোন দিকগুলি আপনার উপাসনাকে উপকৃত করতে পারে? আপনি কি দ্বিতীয় শতকের উপাসনায় কোনো বিপদ দেখতে পেয়েছেন?
উপাসনার দ্বিতীয় চিত্রের জন্য ১২ শতকে ফিরে যাওয়া যাক। মধ্যবর্তী বছরগুলিতে, খ্রিষ্টবিশ্বাস পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সরকারী ধর্ম হয়ে ওঠে। ৩১৩ খ্রিস্টাব্দে কনস্টানটাইনের (Constantine) মিলানের আদেশের (Edict of Milan) পর, মন্ডলীগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে বিশাল গির্জা ভবন নির্মাণ শুরু করে। এই ১,০০০ বছরে অনেক মহান ইউরোপীয় ক্যাথিড্রাল নির্মিত হয়েছিল।
মধ্যযুগে উপাসনা ক্রমশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ইতিবাচক দিকটি হলো, ক্যাথিড্রালের উপাসনা ঈশ্বরের মহিমা প্রদর্শন করত। যারা পড়তে পারত না তাদের জন্য রঙিন কাচের জানালাগুলিতে বাইবেলের ঘটনাগুলি চিত্রিত করা হতো। কয়ার সুন্দর সঙ্গীত পরিবেশন করত। উপাসনা ছিল নাটকীয় এবং সুন্দর।
মধ্যযুগে উপাসনার দুর্বলতাসমূহ
আত্মিকতার চেয়ে সৌন্দর্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উপাসনার জন্য সুন্দর জিনিসপত্রের ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল: ধূপধুনো, প্রশিক্ষিত গায়কদের দ্বারা গাওয়া বিস্তৃত সঙ্গীত, ঘন্টা, এবং যাজকদের জন্য বিশেষ পোশাক। আত্মিকতার চেয়ে শৈল্পিক বিষয় আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
লোকেরা সভাগুলি বুঝতে পারত না।
সভাগুলি অনুষ্ঠিত হোত ল্যাটিন ভাষায়, এমন একটি ভাষা যা খুব কম লোকই বুঝতে পারত। অনেক স্থানীয় যাজক ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করার জন্য খুব বেশি প্রশিক্ষিত ছিলেন না। প্রার্থনাগুলি ছিল বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অংশগুলির সংমিশ্রণে তৈরি এবং প্রায়শই সেগুলি বোধগম্যভাবে একে অপরের সাথে খাপ খেত না।
লোকেরা দর্শক ছিল, সক্রিয় উপাসক নয়।
সেখানে কংগ্রিগেশনের অংশগ্রহণ খুব কম ছিল। মন্ডলীটি ছিল দর্শকদের একটি দল যারা একটি যাত্রাপালা, অর্থাৎ ধর্মানুষ্ঠান দেখত। যাজকরা উপাসনার অনুষ্ঠানগুলি সম্পাদন করতেন এবং দর্শকরা তা দেখতেন। শাস্ত্রের পরিবর্তে প্রভুর ভোজই ছিল উপাসনা সভার কেন্দ্রবিন্দু।
রোমান ক্যাথলিক চার্চ শিখিয়েছিল যে রুটি এবং দ্রাক্ষারস খ্রিষ্টের প্রকৃত দেহ এবং রক্তে রূপান্তরিত হয়। (এটিকে ট্রান্সসাবস্ট্যান্টিয়েশন মতবাদ বলা হয়।) বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ কেবল ইস্টারে প্রভুর ভোজ পেতেন। যাজক দ্রাক্ষারস পান করতেন এবং মন্ডলীর সাথে কেবল রুটি ভাগ করে নিতেন।
সুসমাচার আচার-অনুষ্ঠানের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।
আমাদের উপাসনা আমাদের বিশ্বাসকে রূপ দেয়। আমরা মধ্যযুগে এই নীতিটিকে কার্যকর অবস্থায় দেখতে পাই; রোমান ক্যাথলিক উপাসনা তাদের ধর্মতত্ত্বকে রূপ দিয়েছিল। ঈশ্বরকে মনে করা হোত যে তিনি মানুষের উদ্বেগ থেকে দূরে থাকেন। মন্ডলীর সাধারণ মানুষ মনে করত না যে তারা ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে পারে; পরিবর্তে, তারা শুধুমাত্র একজন যাজকের মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে কথা বলতে পারত। যাজক ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠেন।
মধ্যযুগে উপাসনার শক্তি ছিল ঈশ্বরের সামনে জাঁকজমক এবং বিস্ময়ের অনুভূতি। স্থাপত্য, সঙ্গীত, নাটক এবং সুন্দর শৈল্পিকতার মাধ্যমে উপাসনা ঈশ্বরের মহিমাকে চিত্রিত করত।
তবে, মধ্যযুগে উপাসনার দুর্বলতা তার শক্তির চেয়েও বেশি ছিল। সাধারণ খ্রিস্টবিশ্বাসীরা উপাসনা সভায় কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করত। অনেক দিক থেকেই, মধ্যযুগের উপাসনা ছিল নতুন নিয়মের উপাসনা থেকে এক দুঃখজনক বিচ্যুতি।
উপাসনার বিপদ: অর্থহীন উপাসনা
আমাদের কংগ্রিগেশনকে শেখানোর জন্য সময় বের করতে হবে যে আমরা কেন উপাসনা করি, অন্যথায় উপাসনাকারীদের কাছে অর্থপূর্ণ ঐতিহ্যসমূহ অর্থহীন বলে মনে হতে পারে।
একজন নতুন বিশ্বাসী তার পাস্টারকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “কেন আমরা প্রার্থনার শেষে ‘আমেন’ বলি? ‘আমেন’ কি কোনো জাদু-শব্দ যা ঈশ্বরকে আমাদের প্রার্থনা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করে?” পাস্টার বুঝতে পেরেছিলেন যে তার উপাসনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা উচিত। আমরা যদি আমাদের মন্ডলীকে উপাসনা সম্পর্কে না শেখাই, তাহলে “আমেন”-এর মতো সহজ কিছু বিষয়ও অর্থহীন হতে যেতে পারে।
উপাসনা থেকে প্রতীকবাদ এবং নিগুঢ়তত্ত্ব দূর করার প্রয়োজন নেই। সমাধান হল আমাদের উপাসনা পদ্ধতির অর্থ মন্ডলীকে শিক্ষা দেওয়া। তাদের জানা উচিত যে আমরা যে ভাষা বা কথাগুলি ব্যবহার করি তা কেন করি; তাদের জানা উচিত যে কেন মন্ডলীর জন্য সমবেত গান গাওয়া গুরুত্বপূর্ণ; তাদের জানা উচিত যে শাস্ত্রের অর্থ কী।
► মধ্যযুগের উপাসনার কোন দিকগুলি আপনার উপাসনার জন্য উপকারী হতে পারে? মধ্যযুগের উপাসনার ক্ষেত্রে আপনি কি কোনো বিপদ দেখতে পেলেন?
সংস্কারের সময়ে উপাসনার একটি চিত্র
সংস্কারকরা খুব ভালোভাবেই জানতেন যে আমাদের উপাসনা আমাদের ঈশতত্ত্বকে রূপ দেয়। এই কারণে তারা জানতেন যে রিফরমেশন, অর্থাৎ ধর্মসংস্কারের ঈশতত্ত্ব যদি উপাসনায় প্রতিফলিত না হয়, তাহলে ধর্মসংস্কারের ঈশতাত্ত্বিক সত্যগুলি হারিয়ে যাবে।
ধর্মসংস্কারকদের একটি প্রাথমিক ঈশতাত্ত্বিক উদ্বেগ ছিল বিশ্বাসীর যাজকত্ব। এর অর্থ হলো বিশ্বাসীরা সরাসরি ঈশ্বরের উপাসনা করে; আমরা কোনো যাজকের মাধ্যমে যায় না। ধর্মসংস্কারকরা আরো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বরের বাক্য প্রতিটি বিশ্বাসীর কাছে উপলব্ধ থাকতে হবে।
ধর্মসংস্কারের সময়ে উপাসনায় প্রতিটি উপাসনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল। উপাসনা ছিল সাধারণ, জনগণের ভাষায়, তা আর ল্যাটিন ভাষায় ছিল না। শাস্ত্র পাঠ এবং প্রচার করা হত যাতে সমস্ত উপাসনাকারী তাদের নিজস্ব ভাষায় ঈশ্বরের বাক্য বুঝতে পারে। মন্ডলীর সমবেত সঙ্গীত প্রতিটি উপাসনাকারীকে উপাসনায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছিল। মার্টিন লুথার একজন স্তোত্রগীত লেখক ছিলেন এবং ধর্মসংস্কার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তার স্তোত্রগুলিকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
এই সাধারণ ক্ষেত্রগুলির বাইরে, ধর্মসংস্কারকদের মধ্যে উপাসনা সম্পর্কে অনেক মতবিরোধ ছিল। লুথারেন এবং অ্যাংলিকানরা রোমান ক্যাথলিক চার্চের বেশিরভাগ অনুষ্ঠান পদ্ধতিগুলি ধরে রেখেছিলেন। লুথার বিশ্বাস করতেন যে, যদি না শাস্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয় বা মন্ডলীতে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হয়, তাহলে নতুন উপাসনা অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া উচিত।
কেলভিন এবং তার অনুগামীরা কিছু আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলতেন, কিন্তু শাস্ত্রে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়নি এমন যেকোনো উপাসনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কেলভিন মন্ডলীকে সমবেতভাবে গান গাওয়ায় উৎসাহিত করেছিলেন, কিন্তু তা ছিল কেবল গীতসংহিতার গানগুলি গাওয়ার জন্য। তিনি বিশ্বাস করতেন যে “ঈশ্বরের প্রশংসায় কেবল ঈশ্বরের বাক্যই গাওয়ার যোগ্য।”[1] তিনি প্রভুর ভোজে মন্ডলীর অংশগ্রহণে সহমত হয়েছিলেন, পরামর্শ দিয়েছিলেন যে প্রতি মাসে অন্তত একবার এবং বিশেষ করে প্রতি প্রভুর দিনে প্রভুর ভোজ পরিবেশন করা উচিত।
অ্যানাব্যাপ্টিস্ট (Anabaptists) এবং পিউরিটানরা (Puritans) বেশিরভাগ অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং একটি সরল উপাসনার পদ্ধতিতে ফিরে এসেছিল। এই গোষ্ঠীগুলি কখনো কখনো কেবল ব্যক্তিগত বাড়িতে উপাসনা করত এবং নিজেদেরকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখত যারা প্রথম শতকের উপাসনাকে প্রকৃত অর্থে অনুসরণ করেছিল।
সংস্কারসাধনের সময়ে উপাসনার শক্তি ছিল মন্ডলীর অনুষ্ঠানে বিশ্বাসীদের পুনরায় যুক্ত হওয়া। যদিও ধর্মসংস্কারের সময়ে বিভিন্ন মণ্ডলির মধ্যে পার্থক্য ছিল, তবুও সকল সংস্কারকই উপাসনায় বিশ্বাসীদের যাজকত্বের একটি মডেল তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
► ধর্মসংস্কারের সময়ের উপাসনার কোন দিকগুলি আপনার উপাসনার জন্য উপকারী হতে পারে? সংস্কারের সময়ের উপাসনার ক্ষেত্রে আপনি কি কোনো বিপদ দেখতে পেলেন?
[1]Donald P. Hustad, Jubilate II (Carol Stream: Hope Publishing Company, 1993), 194 দ্বারা উদ্ধৃত।
মুক্ত মন্ডলীতে উপাসনার একটি চিত্র
ধর্মসংস্কারের পর কিছু কিছু মন্ডলী রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। “মুক্ত মন্ডলী” বা “ফ্রী চার্চ” নামে পরিচিত এই মন্ডলীগুলির মধ্যে ছিল অ্যানাব্যাপ্টিস্ট (Anabaptists), পিউরিটান (Puritans), অপ্রথানুবর্তীবাদী বা নন-কনফর্মিস্ট (Nonconformists), বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সেপারেটিস্ট (Separatists) এবং ভিন্নমত পোষণকারীরা বা ডিসেন্টার্স (Dissenters)। এদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ী লিটার্জি এবং আচার-অনুষ্ঠানও প্রত্যাখ্যান করেছিল।
মুক্ত মন্ডলীর উপাসনার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
(১) প্রচার ছিল মূল কেন্দ্রবিন্দু।
(২) কংগ্রিগেশনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মন্ডলীর সম্মিলিত অংশগ্রণের ধরণ মন্ডলীবিশেষে ভিন্ন ছিল।
কিছু কিছু মন্ডলীতে সমবেত জনতা স্তোত্র গাইত। অন্যান্য মন্ডলীতে সম্মিলিত উপাসনায় কোনো মিউজিক ছিল না।
কিছু কিছু মন্ডলীতে মন্ডলীর সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রার্থনা করত। অন্যান্য মন্ডলীতে, পাস্টার জনসাধারণের পক্ষে প্রার্থনা করতেন।
সাধারণ মানুষ এবং যাজকদের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য ছিল না। বেশিরভাগ মুক্ত মন্ডলীর পুরোহিতদের জন্য কোনো বিশেষ পোশাক ছিল না।
(৩) সমস্ত উপাসনা সাধারণ মানুষের ভাষায় হতো।
১৬০৮ সালে একটি সভার রূপরেখায় নিম্নলিখিতগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল (সভাটি চার ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল):
প্রার্থনা
শাস্ত্রপাঠ (ব্যাখ্যাসহ ১-২টি অধ্যায়)
প্রার্থনা
সারমন (এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময়)
সাধারণ মানুষদের সাক্ষ্য বা অবদান
প্রার্থনা
নৈবেদ্য
উপাসনায় আর প্রভুর ভোজ এবং কোনো যাজকের আধিপত্য ছিল না। মুক্ত মন্ডলীগুলির উপাসনা সভাগুলি অনেক বেশি নতুন নিয়মের মন্ডলীগুলির উপাসনার মতো দেখতে লাগত।
উপাসনার এই পদ্ধতিতে বিপদ রয়েছে। মুক্ত মন্ডলীগুলি বিশ্বাসীদের যাজকত্বের শিক্ষা দিলেও, বাস্তবে কখনো কখনো প্রচারক উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে যাজকের স্থলাভিষিক্ত হতেন। কিছু মন্ডলীতে মন্ডলীর জনগণের অংশগ্রহণ খুব কম ছিল।
মুক্ত উপাসনার ক্ষেত্রে সম্ভবত সবচেয়ে বড়ো বিপদগুলির মধ্যে একটি ছিল চরম ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতার বিপদ। যদি বিশ্বাসীর যাজকত্বের ধর্মতত্ত্ব মন্ডলীর ঐক্যের ধর্মতত্ত্বর সাথে সহযোগী না হয়, তাহলে মন্ডলী উপাসনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া খ্রিষ্টের দেহ না হয়ে ব্যক্তিদের একটি সমষ্টিতে পরিণত হয়। এটি তখন দেখা যায় যখন উপাসনা কেবল “যিশু এবং আমি”-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে মন্ডলীকে একটি দেহ হিসেবে দেখার কোনো ধারণা থাকে না।
► মুক্ত মন্ডলীর উপাসনার কোন দিকগুলি আপনার উপাসনার জন্য উপকারী হতে পারে? মুক্ত মন্ডলীর উপাসনার ক্ষেত্রে আপনি কি কোনো বিপদ দেখতে পেলেন?
ওয়েসলীয় পুনর্জাগরণে উপাসনার একটি চিত্র
[1]জন ওয়েসলি (John Wesley) অ্যাংলিকান মন্ডলী থেকে প্রাপ্ত সম্মিলিত উপাসনার ঐতিহ্য এবং অ্যানাব্যাপ্টিস্ট ঐতিহ্যের সাথে সংযোগের মাধ্যমে তিনি যে ব্যক্তিগত আত্মিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, উভয় দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিলেন। যখন অ্যাংলিকান উপাসনা মধ্যযুগীয় রোমান ক্যাথলিক চার্চকে ফাঁপা আচার-অনুষ্ঠানে অনুসরণ করছিল, তখন ওয়েসলি এবং তাদের অনুগামীরা (যাদের মেথডিস্ট বলা হয়) উপাসনার বাস্তবতাকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন যা উপাসনাকারীদেরকে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে নিয়ে এসেছিল।
প্রারম্ভিক মেথডিস্ট উপাসনা যে বিষয়গুলির উপর জোর দিয়েছিল:
১। প্রচার। জন ওয়েসলি’র সারমনগুলি প্রকাশিত হয়েছিল এবং মেথডিস্ট উপাসনাকারীদের জন্য তা একটি তাত্বিক ভিত্তি হয়ে উঠেছিল।
২। ঘন ঘন প্রভুর ভোজগ্রহণ। জন ওয়েসলি প্রতি সপ্তাহে গড়ে পাঁচবার কমিউনিয়ন গ্রহণ করতেন। তিনি তাঁর অনুগামীদেরকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার কমিউনিয়ন নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।
৩। স্তোত্র গাওয়া। চার্লস ওয়েসলি’র স্তোত্রগুলি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ এবং নতুন বিশ্বে মেথডিস্ট মতবাদ ছড়িয়ে দেয়।
৪। ছোটো ছোটো দল। ক্লাস মিটিংগুলি ছিল মেথডিস্ট শিষ্যত্বের কেন্দ্রবিন্দু।
৫। সম্মিলিত উপাসনা। মেথডিস্টরা ঘন ঘন সম্মিলিত হতো, এবং এমনকি বহু অ্যাংলিকান যাজক মেথডিস্টদের প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও, ওয়েসলি তার অনুগামীদেরকে অ্যাংলিকান উপাসনায় উপস্থিত থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।
৬। সুসমাচার প্রচার। ইংল্যান্ড এবং আরো অনেক জায়গায় মেথডিস্ট পুনর্জাগরণ ছড়িয়ে পড়ার ফলে হাজারেরও বেশি নতুন রূপান্তরিতদেরকে খ্রিষ্টে জয় করা হয়েছিল।
মেথডিস্ট উপাসনার মধ্যে ছিল ঈশ্বরের মহিমা ঘোষণাকারী স্তোত্র, পরিপক্ক বিশ্বাসীদের গড়ে তোলার জন্য শিষ্যত্ব এবং মন্ডলী ও অভাবী জগত উভয়ের কাছেই সত্য ঘোষণাকারী প্রচার।
► ওয়েসলীয় পুনর্জাগরণ, অর্থাৎ ওয়েসলিয়ান রিভাইভালে উপাসনার কোন দিকগুলি আপনার উপাসনার জন্য উপকারী হতে পারে? ওয়েসলীয় পুনর্জাগরণের উপাসনার ক্ষেত্রে আপনি কি কোনো বিপদ দেখতে পেলেন?
১৮ শতকের উপাসনার ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়া হিসাবে মেথডিজমের উদ্ভব হয়েছিল।
“যখন ধর্মানুষ্ঠানগুলি মন্ডলীর জীবনের প্রান্তে ছিল, তখন প্রারম্ভিক মেথডিজম সেগুলিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিল; যখন ধর্মীয় উদ্যোগ কালিমাযুক্ত হয়ে গিয়েছিল, তখন মেথডিজম উদ্যমকে অপরিহার্য করে তুলেছিল; যেখানে ধর্ম মন্ডলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে মেথডিজম এটিকে মাঠ এবং রাস্তায় নিয়ে গিয়েছিল।”
- জেমস হোয়াইট (James White)
(Robert Webber
Twenty Centuries of
Christian Worship)
প্রারম্ভিক আমেরিকায় উপাসনার একটি চিত্র
ইংরেজরা প্রথমে ভূখণ্ডের পূর্ব উপকূলে বসতি স্থাপন করেছিল যা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামে পরিচিত। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে এবং তার পরেও, লোকেরা জমি খুঁজে পেতে এবং বাড়ি তৈরি করতে পশ্চিমে অনাবাদী অঞ্চলে চলে যেতে থাকে। মন্ডলী, স্কুল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে বিকাশের সাথে সাথে লোকেরা অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিল। ইতিহাসে ধীরে ধীরে বসতি স্থাপন করা এই অঞ্চলটিকে আমেরিকান সীমান্ত (American Frontier) বলা হয়।
আমেরিকার প্রথম দিকের ইতিহাসে উপাসনা অধ্যয়নের উদ্দেশ্য আমেরিকান মডেলকে সমস্ত উপাসনার জন্য একটি আদর্শ হিসেবে প্রস্তাব করা নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো অন্যান্য স্থানের নবীন মন্ডলীগুলিতে বিকশিত উপাসনার সাথে তুলনা করা। অনেক দেশে নতুন প্রতিষ্ঠিত মন্ডলীগুলিও একই প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে।
প্রারম্ভিক আমেরিকার উপাসনার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১।ডিনোমিনেশন, অর্থাৎধর্মীয় সম্প্রদায় এবং আনুষ্ঠানিক উপাসনা থেকে স্বাধীনতা। আমেরিকান সীমান্তের মন্ডলীগুলি ডিনোমিনেশনের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত ছিল। তারা ধর্মীয় রীতিনীতি এবং নির্দিষ্ট উপাসনার দিকে ন্যূনতম মনোযোগ দিত (যদিও জন ওয়েসলি উপনিবেশগুলিতে ব্যবহারের জন্য তার উপাসনার ধরণটি মানানসই করে নিয়েছিলেন)। গির্জা ভবন এবং উপাসনা সভাগুলি সহজ এবং সরল ছিল।
২।প্রভুর ভোজের জন্য বিরল সুযোগ। ইংল্যান্ডে ওয়েসলীয়রা নিয়মিত প্রভুর ভোজের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন। আমেরিকান সীমান্তে অভিষিক্ত যাজকদের অভাবের কারণে বিশ্বাসীদের প্রভুর ভোজ অনুশীলনের সুযোগ খুব কম ছিল।
৩। ঈশ্বরের বাক্য প্রচার। উপাসনা সভাগুলিতে প্রচারই প্রাথমিক জোর ছিল। এমনকি অ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রচারকরাও ওয়েসলি এবং অন্যান্য পরিচর্যাকারীদের সারমন পড়তেন। মন্ডলীর কেন্দ্রবিন্দু ছিল পুলপিট, প্রভুর ভোজের টেবিল নয়। প্রাথমিক জোরটি বাক্য প্রচারের উপর ছিল।
৪। প্রাণবন্ত গান। গান গাওয়া ছিল প্রাণবন্ত। আমেরিকান মন্ডলীগুলি চার্লস ওয়েসলির স্তোত্রগুলি সাক্ষ্যের সহজ গানের সাথে এমন একটি শৈলীতে গাইত যা একটি অশিক্ষিত মন্ডলীর পক্ষেও শেখা সহজ ছিল।
৫। প্রার্থনা, সুসমাচার প্রচার, এবং পুনর্জাগরণ। প্রার্থনা ছিল অনানুষ্ঠানিক এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সাধারণ মানুষের দ্বারা পরিচালিত হত। সুসমাচার প্রচার গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং আমেরিকায় পুনর্জাগরণের সময়কালে হাজার হাজার মানুষ রূপান্তরিত হয়েছিল। সারমনের পরে সাধারণত রূপান্তরিত না হওয়া লোকদের এগিয়ে এসে অনুতাপের প্রার্থনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হত। আমেরিকা জুড়ে খ্রিষ্টীয় পবিত্রতার উপর জোর দেওয়ার সাথে সাথে, অবিশ্বাসীদের রূপান্তরের এবং বিশ্বাসীদেরকে সম্পূর্ণ পবিত্রতার জন্য আহ্বান জানানো হত।
অন্যান্য ঐতিহ্যের মতো, এই উপাসনায়ও শক্তি এবং বিপদ ছিল। শক্তির মধ্যে ছিল ব্যক্তিগত অন্তর্ভুক্তি এবং আবেগ। বিপদের মধ্যে ছিল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর জোর দেওয়া, এবং মতবাদের উপর খুব কম জোর দেওয়া। সীমান্ত অঞ্চলে ভ্রান্ত শিক্ষা ছড়িয়ে পড়া সহজ ছিল কারণ দায়বদ্ধতা খুব কম ছিল।
► আমেরিকান সীমান্তের উপাসনার কোন দিকগুলি আপনার উপাসনার জন্য উপকারী হতে পারে? আমেরিকান সীমান্তের মন্ডলীর উপাসনার ক্ষেত্রে আপনি কি কোনো বিপদ দেখতে পেলেন?
উপাসনার বিপদ: অপরিবর্তনীয় নীতিগুলির সাথে পরিবর্তনশীল অনুশীলনগুলিকে বিভ্রান্ত করা
আমরা প্রায়শই পরিবর্তিত উপাসনা পদ্ধতিগুলিকে বাইবেলের অপরিবর্তনীয় উপাসনার নীতিগুলির সাথে গুলিয়ে ফেলতে প্রলোভিত হই। বিবেচনা করুন:
কিছু কিছু মন্ডলীতে উপাসনাকারীরা প্রার্থনা করার সময়ে নম্রতা দেখানোর জন্য নতজানু হয়ে বসে। অন্যান্য মন্ডলীতে, উপাসনাকারীরা প্রার্থনা করার সময়ে তাদের পবিত্র হাত উপরের দিকে তোলে।
কিছু কিছু মন্ডলীতে প্রার্থনা চলাকালীন মৃদুভাবে বাদ্যযন্ত্র বাজে। অন্যান্য মন্ডলীতে, পাস্টার যখন প্রার্থনা করেন তখন সকলে নীরব থাকে। অন্য কিছু মন্ডলীতে, প্রত্যেকে উচ্চরবে প্রার্থনা করে।
কিছু কিছু মন্ডলীতে, কোরাস গানগুলি বড়ো স্ক্রিনে দেখানো হয়। অন্যান্য মন্ডলীতে, লোকেরা গানের বই থেকে গান করে।
কিছু কিছু মন্ডলীতে পাস্টার তাঁ সারমনের আগে শাস্ত্র পাঠ করেন। অন্যান্য মন্ডলীতে, একজন সাধারণ ব্যক্তি পাস্টারের প্রচারের আগে শাস্ত্র পাঠ করে। অন্য কিছু মন্ডলীতে, শাস্ত্র থেকে দু’টি বা তিনটি অংশ পড়া হয়।
এগুলির কোনোটিই ভুল নয়; এগুলি কেবলই অনুশীলনের বিষয়, নীতির বিষয় নয়। আমাদের কখনোই এমন ভাবা উচিত নয় যে আমাদের পদ্ধতিই একমাত্র বাইবেলভিত্তিক পদ্ধতি। প্রকৃত উপাসনা শৈলীর ব্যাপার নয়; এটির মূল হলো ঈশ্বরের উপস্থিতি।
কিছু নির্দিষ্ট নীতি আছে যেগুলি অপরিবর্তনীয়। আমরা বাইবেলে উপাসনার উপর তৈরি করা পাঠগুলিতে এই নীতিগুলি দেখেছি। এই নীতিগুলি ঐচ্ছিক নয়। খ্রিষ্টবিশ্বাসী হিসেবে, এই নীতিগুলি আমাদেরকে ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশনা দান করে।
পরবর্তী কিছু পাঠে, আমরা উপাসনার বিভিন্ন অনুশীলন নিয়ে দেখব। নীতিগুলি বদলায় না; অনুশীলন স্থান এবং সময় বিশেষে পরিবর্তিত হয়। এই কারণে, যারা আমাদের উপাসনা থেকে ভিন্নভাবে উপাসনা করে তাদের প্রতি আমাদের সহনশীল হওয়া উচিত। এর অর্থ এই নয় যে অনুশীলন গুরুত্বহীন; বরং এর অর্থ হলো নীতির চেয়ে অনুশীলনের ক্ষেত্রে বেশি নমনীয়তা থাকবে।
অসওয়াল্ড চেম্বার্স (Oswald Chambers) আমাদের জীবনে ঈশ্বরের জন্য স্থান তৈরি করার বিষয়ে লিখেছিলেন। এটি উপাসনাতে প্রযোজ্য:
ঈশ্বরের দাস হিসেবে, আমাদের অবশ্যই তাঁর জন্য জায়গা তৈরি করতে শিখতে হবে... আমরা পরিকল্পনা করি, কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছামতো আসার জন্য স্থান তৈরি করতে ভুলে যাই। ঈশ্বর যদি আমাদের সভায় বা আমাদের প্রচারে এমনভাবে আসেন যেভাবে আমরা কখনও আশা করিনি যে তিনি আসবেন, তাহলে কি আমরা অবাক হবো? কোনো নির্দিষ্ট উপায়ে ঈশ্বর আসবেন বলে আশা করবেন না কিন্তু তাঁর অন্বেষণ করুন। তাঁর জন্য জায়গা করে নেওয়ার উপায় হল, তিনি আসবেন বলে আশা করা কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট উপায়ে নয়। ...
আপনার জীবনকে ঈশ্বরের সাথে এমনভাবে সংযুক্ত রাখুন যেন তাঁর আশ্চর্যজনক শক্তি যেকোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে। অবিরাম প্রত্যাশার মধ্যে জীবনযাপন করুন এবং যেভাবে তিনি চান, সেইভাবেই ঈশ্বরের আসার জন্য জায়গা ছেড়ে দিন।[1]
২১ শতকের উপাসনা কেমন? এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর সহজে দেওয়া যাবে না। ২১ শতকের উপাসনা একাধিক ভিন্ন উপায়ে হয়। কিছু মন্ডলী আচার-অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেয়; অন্যান্য মন্ডলী উপাসনায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্বার্থে ধর্মানুষ্ঠানকে প্রত্যাখ্যান করে।
► আপনার মন্ডলীতে উপাসনা কেমনভাবে হয়? যদি আপনি একটি গ্রুপে অধ্যয়ন করছেন, তাহলে আপনার গ্রুপে উপস্থাপিত মন্ডলীগুলির উপাসনার মধ্যে পার্থক্য এবং মিলগুলি নিয়ে আলোচনা করুন।
কোর্সের এই অবস্থানে, এই বর্ণনাটির উদ্দেশ্য মূল্যায়ন করা নয়। প্রশ্নটি এটি নয়, “আমরা কি সঠিক নাকি ভুল?” প্রশ্নটি হলো কেবল, “আমরা আমাদের উপাসনা সভায় কী করি?”
এই বর্ণনাটির কারণ হলো পরবর্তী পাঠগুলির জন্য একটি ভিত্তি স্থাপন করা। উপাসনায় আপনি সম্প্রতিকালে যা করছেন, তার যখন একটি বর্ণনা আপনার কাছে থাকবে, আপনি প্রশ্ন করা শুরু করতে পারেন, “আমরা যা করি তা কেন করি?” এবং “আমরা কীভাবে এটি আরো ভালো করতে পারি?”
উপাসনা সম্পর্কে সিদ্ধান্তগুলি ঈশতাত্ত্বিক বিশ্বাসগুলিকে প্রতিফলিত করে। আমাদের উপাসনার উপাদানগুলি দেখায় যে আমরা ঈশ্বর সম্পর্কে কী বিশ্বাস করি এবং তাঁর সাথে আমরা কিভাবে সম্পর্ক স্থাপন করি; আমাদের উপাসনার উপাদানগুলি দেখায় যে আমরা মন্ডলী সম্পর্কে কী বিশ্বাস করি এবং আমরা একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত; আমাদের উপাসনার উপাদানগুলি দেখায় যে আমরা হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে কী বিশ্বাস করি এবং উপাসনা কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে।
একটি উদাহরণ নেওয়া যাক – কংগ্রিগেশনের সমবেতভাবে গান গাওয়া।
রোমান ক্যাথলিক চার্চে মন্ডলীর সমবেত গানের অনুপস্থিতি এই বিশ্বাসটিকে প্রতিফলিত করেছিল যে সাধারণ মানুষরা শাস্ত্র (যে শাস্ত্রগুলি গাওয়া হতো সেগুলিও অন্তর্ভুক্ত) বুঝতে পারত না। ঠিক যেভাবে, একজন সাধারণ মানুষের নিজে থেকে শাস্ত্র পাঠ করার অনুমতি ছিল না, ঠিক তেমনভাবেই, একজন সাধারণ মানুষের উপাসনার গানগুলি গাওয়ার অনুমতি ছিল না। উপাসনা একজন যাজকের দ্বারা সম্পন্ন হতো।
ধর্মসংস্কারের সময়ে মন্ডলীর সমবেত গানের উপর জোর দেওয়া লুথারের এই বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করেছিল যে প্রত্যেক খ্রিষ্টবিশ্বাসী খ্রিষ্টের দেহের অঙ্গ হিসেবে উপাসনা করতে পারে।
হিমস্ (স্তোত্রগীত) ছাড়া অন্যান্য গানকে অনুমতি দিতে কেলভিনের প্রত্যাখান তাঁর এই বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করেছিল যে কেবল ঈশ্বরের বাক্যই উপাসনায় গ্রহণযোগ্য ছিল।
মেথডিস্ট মন্ডলীর সমবেতভাবে গান গাওয়ার উপর জোর দেওয়া এবং স্তোত্রের মাধ্যমে মতবাদ শেখানোর উপর জোর দেওয়া ওয়েসলীয়দের এই দৃঢ় বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করেছিল যে প্রত্যেক বিশ্বাসীর গান গাওয়া উচিত এবং আমরা যা গাই তা আমাদের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে।
সীমান্তের গানের সরলতা মেথডিস্টদের দৃঢ় বিশ্বাস দেখিয়েছিল যে পরিত্রাণ সকল মানুষের জন্য। সেই দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে, তারা সকলকে উদ্যমী গানে জড়িত করেছিল।
আমরা যত এই কোর্সটিতে এগোতে থাকব, আমরা উপাসনার আরো অনেক উপাদান দেখতে থাকব। উপাসনা নিয়ে আপনার প্রথম প্রশ্নটি সম্ভবত, “আমি কি এটা পছন্দ করি?” কিন্তু এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নয়। আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, “আমার বিশ্বাস সম্পর্কে আমার উপাসনা কী বলে? এটি কি ঈশ্বর এবং তাঁর সাথে মানুষের সম্পর্কের ব্যাপারে সঠিক ধারণা প্রদর্শন করে?”
আমাদের উপাসনা আমরা যা বিশ্বাস করি, সেটিকে রূপ দেয়, কিন্তু এর বিপরীতটিও সত্য: আমাদের বিশ্বাস আমরা কীভাবে উপাসনার করি তার ধরণকে রূপ দেয়।
সুসমাচার আচার-অনুষ্ঠানের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।
(৩) ধর্মসংস্কারের সময়ে:
উপাসনা বিশ্বাসীর যাজকত্বকে প্রদর্শন করেছিল।
উপাসনা সাধারণ মানুষের ভাষায় হতো।
লুথার, কেলভিন, এবং পিউরিটানরা উপাসনায় রীতিনীতির ভূমিকা নিয়ে অসম্মত হয়েছিলেন।
(৪) সংস্কারসাধনের পরে মুক্ত মন্ডলীগুলিতে:
প্রচার ছিল মূল কেন্দ্রবিন্দু।
কংগ্রিগেশনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সমস্ত উপাসনা সাধারণ মানুষের ভাষায় হতো।
(৫) প্রারম্ভিক মেথডিস্ট উপাসনা নিম্নলিখিতগুলির দ্বারা চিহ্নিত হয়েছিল:
প্রচারের উপর জোর দেওয়া
ঘন ঘন প্রভুর ভোজের উপর জোর দেওয়া
স্তোস্ত্র গাওয়ার উপর জোর দেওয়া
ছোটো ছোটো দলের উপর জোর দেওয়া
সম্মিলিত উপাসনার উপর জোর দেওয়া
সুসমাচার প্রচারের উপর জোর দেওয়া
(৬) প্রারম্ভিক আমেরিকায় উপাসনা:
ব্যক্তিগত অন্তর্ভুক্তি এবং সুসমাচার প্রচারের জন্য একটি উদ্যমকে তুলে ধরেছিল
কিছু কিছু সময়ে মতবাদের অখণ্ডতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর জোর দেওয়া হতো
(৭) আজকের দিনে আমাদের উপাসনা ঈশ্বর সম্পর্কে আমদের বিশ্বাস এবং আমরা কীভাবে তাঁর সাথে সম্পর্কিত তা প্রতিফলিত করে।
৫ নং পাঠের অ্যাসাইনমেন্ট
(১) শহীদ জাস্টিন (Justin Martyr) মাত্র কয়েকটি অনুচ্ছেদে দ্বিতীয় শতকের মন্ডলীর উপাসনা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি এমন কাউকে লিখছিলেন যে কোনোদিন একটি খ্রিষ্টীয় উপাসনা সভা দেখেনি। যে কখনো একটি খ্রিষ্টীয় মন্ডলীতে যায়নি, এমন একজনের উদ্দেশ্যে ২-৩টি অনুচ্ছেদে আপনার উপাসনার সভা বর্ণনা করে লিখুন। সচেতনভাবে বিবেচনা করুন যে আপনার উপাসনায় কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে আপনি আপনার সভাগুলিকে এমনভাবে বর্ণনা করবেন যা খ্রিষ্টীয় উপাসনার মূল বিষয়কে প্রকাশ করবে?
আপনি যদি একটি গ্ৰুপে অধ্যয়ন করেন, তাহলে পরবর্তী ক্লাসে গ্ৰুপের প্রতিটি সদস্যের উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন।
(২) পরবর্তী পাঠের শুরুতে, এই পাঠের উপর ভিত্তি করে আপনি একটি পরীক্ষা দেবেন। প্রস্তুতির সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নগুলি ভালো করে অধ্যয়ন করুন।
৫ নং পাঠের পরীক্ষা
(১) শহীদ জাস্টিন দ্বারা বর্ণিত দ্বিতীয় শতাব্দীর উপাসনার তিনটি উপাদান তালিকাভুক্ত করুন।
(২) মধ্যযুগে উপাসনার তিনটি দুর্বলতা তালিকাভুক্ত করুন।
(৩) বিশ্বাসীদের যাজকত্বের সাথে সম্পর্কিত ধর্মসংস্কারকদের দু'টি প্রাথমিক উদ্বেগ কী ছিল?
(৪) বর্ণনার সাথে সবচেয়ে ভাল মেলে এমন ধর্মসংস্কারের সময়কার দল (গুলি) চিহ্নিত করুন।
শাস্ত্রে নিষিদ্ধ নয় এমন কোনো উপাসনার অনুমতি দিয়েছিল: ________________
শাস্ত্রে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়নি এমন যেকোনো উপাসনা প্রত্যাখ্যান করেছিল: ________________
বেশিরভাগ অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করেছিল। কখনো কখনো কেবল ব্যক্তিগত বাড়িতে উপাসনা করত: _______________________
(৫) মুক্ত মন্ডলীর উপাসনার তিনটি বৈশিষ্ট্য তালিকাভুক্ত করুন।
(৬) প্রারম্ভিক মেথডিস্ট উপাসনার যে বিষয়গুলির উপর জোর দিয়েছিল তার তিনটি তালিকাভুক্ত করুন।
(৭) প্রারম্ভিক আমেরিকায় উপাসনার তিনটি বৈশিষ্ট্য তালিকাভুক্ত করুন।
Free to print for ministry use. No changes to content, no profit sales.
SGC exists to equip rising Christian leaders around the world by providing free, high-quality theological resources. We gladly grant permission for you to print and distribute our courses under these simple guidelines:
No Changes – Course content must not be altered in any way.
No Profit Sales – Printed copies may not be sold for profit.
Free Use for Ministry – Churches, schools, and other training ministries may freely print and distribute copies—even if they charge tuition.
No Unauthorized Translations – Please contact us before translating any course into another language.
All materials remain the copyrighted property of Shepherds Global Classroom.